somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখির গাধা | অণুগল্প

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আহনাফ. .সেই
ছোটবেলার অভ্যেস. ভ্যাদভ্যাদ করে তাকিয়ে
থাকা যাকে বলে আরকি.ছেলেকে নিয়ে
দুশ্চিন্তার অভাব নেই রাফিয়া বেগমের.
.দেখতে সুন্দর. .পড়াশুনায়ও ভাল. .যেকোনো
মেয়েকে সহজেই পটিয়ে ফেলতে পারবে.
.রাফিয়া বেগমের দুশ্চিন্তাটা ঠিক উল্টো
দিকে. .ছেলে তার সামান্য বোকা ধরণের.
.যদি কোনো খারাপ মেয়ের পাল্লাই পড়ে
যাই. .সারাজীবনের সব মেহনতই তো পানি হয়ে
যাবে. .আহনাফের বয়স ২১ বছর ৪ মাস ৭ দিন.
.বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে.
.বাবা মারা যাওয়ার পর বাবার ইচ্ছাটাকেও
মেরে ফেলল আহনাফ. .মৃত মানুষের সবকিছু
থেকে যেন মৃত মৃত গন্ধ ছড়ায়. .তাই আহনাফ ভর্তি
হল চারুকলায়. .
-আহনাফ
-হু
-আমাকে চিনতে পেরেছিস? তোর তো আবার
শর্ট টাইম মেমোরী লস. .
-বুঝতে পারছি না চিনেছি কিনা
-আমি বীথি. .একসাথেই তো স্কুলে পড়লাম
-ও
এমন একটা ভাব যেন বীথিকে সে চিনতে
পারেনি. .বাস্তবতা হল বীথিকে সে ঠিকই
চিনেছে. .তাকে চিনবে না কাকে চিনবে.
.জীবনের প্রথম প্রেমকে কি কেউ ভুলতে পারে?
তবে বীথি কখনোই জানত না যে আহনাফ
তাকে ভালবাসে. .
-আহনাফ তুই কি আমাকে সত্যি চিনেছিস?
-না চিনলে এতগুলো প্রশ্নের জবাব দিতাম না
বীথি একটু হকচকিয়ে গেল এ ধরণের উত্তরে. .এই
উত্তরের জন্য সে কখনো প্রস্তুত ছিল না. .বীথি
দেখতে কিছুটা শ্যামলা. .কালো বলাটা
অন্যায় হবে. .তবে তার চেহারায় আলাদা
একটা মাধুর্য আছে. .এই মাধুর্যটাই তার সবচেয়ে
বড় সম্বল
-আন্টি কেমন আছে?
-ভালই তো
- তো কি মনে করে চারুকলায় ঢুকলি?
-কিছু মনে করার ইচ্ছা হয়নি বলেই চারুকলায়
ঢুকেছি
-আহনাফ
-হু
-তুই বদলে গেছিস
-মানুষ কখনো বদলায় না. .সময় আর পরিস্থিতি
বদলায়
-তুই কি আমার সাথে কথা বলতে কমপ্লেক্স ফীল
করছিস? আফটার অল আমি একটা কালো মেয়ে
-যদি বলি হ্যাঁ তাহলে?
-তাহলে আমি চলে যাব
-চলে যা তাহলে
শেষ বাক্যটা বলে আহনাফ নিজেই শিহরিত.
.নিজের ভালবাসার মানুষটাকে সে এটা কি
বলে ফেলল. .দিন যায়,মাস যায়. .আহনাফের
সাথে আরেকবার বন্ধুত্ব হয়ে যায় বীথির. .তবে
যৌবনে ছেলে মেয়ের বন্ধুত্ব যে কখনো
বন্ধুত্বে টিকে থাকে না তা হাড়েহাড়ে
টের পাচ্ছিল আহনাফ. .একবার ভাবল মনের
কথাটা বলেই ফেলি. .তারপর ভাবল না থাক.
.বীথি অন্য কাওকে ভালবাসতে পারে. .তখন
সে অযথাই কষ্ট পাবে. .এখন যে কষ্ট কিছুটা কম
পাচ্ছে তা কিন্তু না. .মধ্যপন্থা অবলম্বন করল
আহনাফ
-বীথি
-বল
-তোকে একটা কথা কথা বলতে চাচ্ছি
-এত হেজিটেট করছিস কেন?
-আচ্ছা বাদ দে. .পরে বলব
-পরে হয়তবা সময় না থাকতে পারে
-না থাকুক- your wish
-আচ্ছা একটা রিডল সলভ করিস তো "একটা পাখি
চারটা পাখি তিনটা পাখি"
-মানে কী?
-আসি
আহনাফের মনে হল বড় একটা পাথর নামল বুক
থেকে. .আচ্ছা বীথি যদি তাকে ফিরিয়ে
দেয়. .তাকে যদি অপমান করে? যা হওয়ার দেখা
যাবে. .২ মাস হল বীথির সাথে যোগাযোগ
নেই আহনাফের. .আজ ভার্সিটি তে দেখা.বীথি তার থেকে নেয়া কেমিস্ট্রি বইটা ফেরত দিল।
-কিরে আহনাফ ভাল আছিস?
-এইতো
-mood off?
-নাতো. .
-তোর রিডলটা সলভ করলাম
-কোন রিডল?
-ঐ যে পাখির রিডলটা
-ও. .
-উত্তরটা জানতে চাস না?
-বল
-it means i hate you
-হুম. .তোকে উইনার দেয়া গেল
-PRIZE?
-কি চাস?
-যা চাই তা দিবি?
-সাধ্যের মধ্যে থাকলে
-যা তোকে এবারের মত মাফ করে দিলাম
-ur wish
বীথি চলে গেল. .আহনাফ পুরো স্তম্ভিত. .তার
এত বছরের গোপন একটা রহস্য আজ উদঘাটিত হয়ে
গেল. .এবং যতটুকু ধারণা বীথির সাথে
বন্ধুত্বটাও গেল. .মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে.
.তবে কেন জানি আহনাফের আফসোস হচ্ছিল
না. .সে ভাবল যা হবার হয়ে গেছে এখন তাকে
সামনে তাকাতে হবে. .এই কয়েকদিন পড়াশুনা
হয়নি. .কেমিস্ট্রি পরিক্ষা আগামী সপ্তাহে, .
বইটা খুলে বসল আহনাফ. .বইয়ের মাঝখানে
একটুকরো কাগজ. .লেখা
"একটা গাধা চারটা গাধা তিনটা গাধা"
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:১৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×