কলেজে ভর্তি হয়েছি। ১ম বর্ষের ছাত্র। অন্যরকম ভাব নিয়া কলেজে যাই।
প্রতিদিনের মত সেদিনও কলেজে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠেছি। গাড়িতে উঠেই তো আমার মাথা আওলায়া গেল। এক অপূর্ব রমণী সামনের সীটে বসা। আমার থেকে অনেক সিনিওর হবে বয়েসে কিন্তু আমিতো কড খায়া গেসি। মানে ক্রাশ খাইসি আরকি। ওই যে মুখাবইয়ে একটা পৃষ্ঠা আছেনা “প্রেম মানে না সিনিওর জুনিওর” ওই রকম অবস্থা। যে পৃষ্ঠাটা বানাইসে তার লইগা অনেক অনেক ধইন্না পাতা বাজারে অপেক্ষা করতাসে।
অন্য সীট খালি থাকার পরও আমি তাকে বললাম-
আমি কি আপনার পাশের সীটে বসতে পারি?
উনি বললেন বস। (উনি কি আর জানেন যে এই পুইচকার মনে কি আছে।)
আমারে আর পায় কে, পটাপট বইসা পরলাম। আর সুযোগের সদব্যবহার করা শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ পর বললাম- আপু আপনি খুব চুইট
সে-একটা বম্বে সুইট মার্কা শব্দহীন লজ্জাবতি হাসি দিল। (নিজের প্রসংসা শুনলে সব রমণীই বেয়াপক খুশি হয়)
আমি- আমি যদি আপনার বড় হইতাম তাইলে নির্ঘাত প্রপোজ কইরা বসতাম ♥ ♥ ♥।
মনে বিরাট কষ্ট পাইতাসি আমি আপনার বড় না।
সে- সে এইবার অধিক পরিমান হাসল। খুব সুন্দর তার হাসি। (হাসি যে কত রকমের আছে!!! চিন্তা করতাসি হাসি নিয়া একটা ছোটখাটো গবেষণা চালামু)
ঘটনা এইবার অন্যদিকে মোর ঘুরাইবার চেষ্টায়। আপনারা সব ভাইবোনও নিশ্চয়ই আপনার মত সুন্দর। আপনার কোন ছোট বোন আছে নাকি???
এইবার সে আমাকে জিজ্ঞেস করা শুরু করল-
আমার নাম কি?
কিসে পড়ি?
কোন কলেজে পড়ি?
ইত্যাদি ইত্যাদি. . . . . . . . . । (আমি ভাবলাম ইনটারভিও নিতাসে বোনের পক্ষ থেকে)
আমি এইবার ব্যাপক ভালো মানুষ হইলাম ☺☺☺
সরল মনে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলাম তার ছোট বোনের আশায়।
সব শুনে উনি বললেন হুম ভালো।
আমিও বিরাট খুশি
কিন্তু এরপর বলে কি, উনার কোন ছোট বোন নাই। (কেমন লাগে???)
আমার মাথায় তো ফমের থাডা পরল।
কিআর করা মনের দুঃখ মনে রাইখা মুখে ক্লোজাপ মার্কা হাসি দিয়া কইলাম- ছোট বোন নাই তো কি?? আপনিতো আসেন ব্যাপার না চালায়া নিমুনে।
এইসব পটাইনা টাইপ কথা বলতে বলতে কলেজের কাছে এসে পরলাম।
আমার সময় সল্পতার কারনে নেমে কলেজের দিকে ছুটলাম। (মোবাইল নম্বর নিতে কিন্তু ভুলি নাই ☺☺☺
দেরি হয়ে যাবার কারনে সার আমাকে সম্মানজনক অপমান করে ক্লাসে ঢুকতে দিলেন।
ক্লাস শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি ওই রমণী আমার কলেজ প্রাঙ্গনে।
আমার খুশি হওয়ার কথা থাকলেও ক্যান জানি খুশি হইতে পারলামনা।
ঘটনা কি???
ভালোমত খোঁজখবর নিয়া দেখি উনি আমার কলেজে সদ্যনিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাডাম।
আমারতো মাথায় হাত। আমার অবস্থা চিন্তা করেন। মনতো বেলুনের মত চুপসে গেসে ওই কথা বাদই দিলাম। পইরা গেসি বিরাট টেনশনে। কি ঝামেলা হয় কে জানে !!! কিন্তু আল্লায় বাচাইসে এইবারও কিছু হইনাই।
দুই বছরের কলেজ জীবনে ওই ম্যাডামের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়।
এই কারনে এখন মুখাবই এর “স্কুল কলেজে সুন্দরী ম্যাডাম নিয়োগ দেয়া বন্ধ হোক” নামক পৃষ্ঠাতেও আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।
এই পৃষ্ঠাটা যে বানাইসে তার লইগাও অনেক অনেক ধইন্না পাতা বাজারে অপেক্ষমান।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





