somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিশ্চিত জীবনযাপন . . .

১৫ ই জুন, ২০১২ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঐ হারামজাদা উঠ। জমিদারের বাচ্চা কত ঘুমাস???

স্টেশনের পিয়নের গালাগালিতে ঘুম ভেঙ্গে যায় রফিকের। কোনমতে ছেড়া কাঁথাটা গুছিয়ে চোখ ডলতে ডলতে উঠে যায় রফিক।

কেও নেই তার। ভালভাবে বুঝতে শেখার আগেই মা বাবা মারা গেছে। তারপর বস্তির এক মহিলা তাকে আগলে রেখেছিল দুই বছর। যদিও সেই মহিলা তার কিছুই লাগতো না, তবু নিজের ছেলের মতই আদর করত। রফিক তাকে চাচী বলে ডাকতো। কিন্তু যেবার প্রচণ্ড জ্বরে বিনা চিকিৎসায় চাচী মারা যায়, তার কয়দিনপর তার বদরাগী ছেলেটা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় রফিককে।
বড় একা হয়ে যায় সে। দিনের ঝলমলে আলো শেষে আঁধার নেমে আসলে মাথা গোজার ঠাই পর্যন্ত নেই। একা একা ঘুরতে থাকে পথের ধারে। ঘুরতে ঘুরতেই পরিচয় হয়ে যায় ওর মতই কয়েকজন পথশিশুর সাথে। তারপর থেকে ওদের সাথেই আছে রফিক। ওদের মতই তারও আজ একটা নতুন পরিচয় আছে। সে একজন টোকাই।

সারাদিন শহরের এদিক সেদিক কাগজ আর প্লাস্টিকের বোতল খুঁজে বেরায়।
যেদিন ভাগ্য সহায় থাকে সেদিন ভালোই পায়। কিন্তু যেদিন তেমন একটা টোকাতে পায়না, সেদিন পেটভরে দুবেলা ভাতও খেতে পায়না।

আজ তার মাথা গোজার ঠাই বলতে স্টেশন। স্টেশন থেকে বেরিয়ে আগের দিনের রাখা টাকা থেকে দশটাকা দিয়ে রাস্তার পাশে থাকা খোলা দোকান থেকে একটা রুটি আর একটা কলা খেয়ে নেয় রফিক। তারপর মহাজনের দোকানের দিকে যায়। টিনের একটা ভাঙ্গাচোরা দোকানে মহাজনের ব্যবসা। দিনশেষে ওঁরা সবাই মহাজনের কাছে কাগজ প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি করে।
মহাজনের দোকান থেকে প্লাস্টিকের বস্তাটা নিয়ে রফিক বেরিয়ে পরে কাগজ টোকানোর জন্য।

সকাল বেলা যখন দেখে ওর বয়সি ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের হাত ধরে স্কুলে যায়, তখন নিজের অজান্তেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে স্কুলে পড়তে না পারার দীর্ঘশ্বাস।
বেঁচে থাকার জন্য দুমুঠো খাবার খাওয়াটাই যেখানে অনিশ্চিত সেখানে স্কুলে পড়া তো অনেক দুরের বিষয়। তাই শব্দহীন কান্নার জলে চাপা পরে যায় দীর্ঘশ্বাস। মাঝে মাঝে পৃথিবীটাকে বড় বেশি নিষ্ঠুর মনে হয় তার কাছে।
তার বাবা মা বেঁচে থাকলে হয়ত সেও আজ স্কুলে পড়তে পারত। হয়ত তার পরিচয় আজ পথশিশু না হয়ে, হতে পারত এক স্কুল ছাত্র। হোকনা ভাঙ্গাচোরা কোন বস্তির স্কুল।

হাটতে হাটতে কুঁড়াতে থাকে রাস্তার ধারে পরে থাকা কাগজ, আর মানুষের ফেলে দেয়া পানির অথবা জুসের বোতল। প্লাস্টিকের বোতলের চাহিদা বেশি। কাগজের থেকে দামও বেশি। কম করে হলেও কাগজের থেকে কেজিতে ১০/১২ টাকা বেশিতে বক্রি করা যায়। তাই রফিকের চোখদুটো দিশেহারা হয়ে খুঁজে ফেরে প্লাস্টিকের বোতল, যা তার অন্ন যোগাবে।

চিরচায়িত নিয়মে সকাল গরিয়ে দুপুর হতে থাকে। আর রফিক ছুটে বেরায় এই রাস্তা থেকে সেই রাস্তায়, এই পার্ক থেকে সেই পার্কে। পার্কে রোজগার ভালোই হয় কিন্তু মাঝে মাঝে পার্কের গার্ড দেখতে পেলে নির্দয়ের মত মারে। কখনো লোকে মিথ্যে চোর বানিয়ে মারে। তবু সে পার্কে টোকাতে যায় একটু বেশি কিছু পাবার আশায়।

দুপুরের রোদে পার্কে গাছের ছায়ায় বসে একটু বিশ্রাম নিয়ে নেয় সে। তারপর চলে মহাজনের দোকানের দিকে। সকাল থেকে পাওয়া সবকিছু মহাজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই টাকা দিয়ে বস্তির হোটেল থেকে খেয়ে নেয় ডাল নামক মশলার পানি দিয়ে দুমুঠো ভাত।

সাড়া বিকেল ঘুরে যদি কিছুপায় তাহলে রাতের খাবার হয়। আর যদি না পায় তাহলে না খেয়েই কাটায়।যেদিন ভীষণ ক্ষিদা পায় সেদিন স্টেশনের রাস্তার পাশে থাকা ওয়াসার ট্যাঁপ থেকে পানি খেয়ে নেয়।
তারপর স্টেশনে বসে অপেক্ষা করে কখন আরও রাত হবে, কখন লোকজন কমবে। তারপর ছেড়া কাঁথাটা বিছিয়ে ঘুমাবে সে।

ছেড়া কাথার উপর শুয়ে শুয়ে আগামী কালের অনিশ্চয়তার কথা ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পরে রফিক।
হয়ত এভাবেই চলবে তার অনিশ্চিত জীবনযাপন . . .
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×