somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ সজল রহমান
মানুষ হতে চাই মানবিক গুণ আর আমার মাঝে সেই গুণ কতটা আছে তা আপনি ভাল বলতে পারবেন। তবে ভাল হবার চেষ্টায়

"একটা চিৎকার" (ছোট গল্প)

২৫ শে মে, ২০১৮ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিছু বলবার আগেই চিৎকার করে পাড়ার মানুষ জড়ো করলো। ভয়ে আমার শরীর হিম হতে চলেছে, পায়ের তলাতে মাটি সরে গিয়েছে ইতি মধ্য । কেন জানি মনে হল আমার ৪৮ কেজির এই ফুরফুরে দেহ ৪৮০ কেজি হয়েছে । ইতি মধ্যে মোড়ের চা বিক্রি করা ছেলেটার বাপ রহিম মিয়া চলে এসেছে। আমাকে দেখে একটু কেন জানি ভ্রু কচিয়ে বলল “ কি হয়ছে তোর! এহন এই রত্তির বেলা কি করস ? এত মানুষ ক্যান ? আকাম…কু-কাম করছস নাই ? কথা কস না ক্যান?” আমি শুধু অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে থেকেছি। নিজেকে আজ বড় অসহায় লাগছে।
একটা বিষয় খুব ভালো ভাবে লক্ষ করে দেখলাম মানুষের মাঝ থেকে কোন অগান্তুক কিংবা পরিচিত জন এসে বলল না কি হয়েছে? কোন সমস্যা ! সে চিৎকার করলো কেন ? নিজেকে এমন হাজার প্রশ্ন করে চলেছি মস্তিস্কের প্রতিটা কোণে । কানে ভেসে এল পুলিশের সাইরেন, বুঝতে বাকি রইলো না আর। কালো করে দেখতে হাবিলদার আমাকে কিছু অকথ্য ভাষায় বুলি উপহার দিল।

তারপর আমাকে পুলিশের গাড়িতে উঠানো হল। আমি শুধু ভাবছি ! গাড়িটি মিরপুর থানার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, রাস্তা গুলো আমার চেনা, এই রাস্তার শেষ মাথার চায়ের দোকানে প্রায় আসতাম আড্ডা গান গল্প নিয়ে । তখন ভাবিনি পুলিশের গাড়িতে অপরাধী বেশে যেতে হবে । ফর্সা করে পুলিশটি আমার দিকে একটু সদয় ভাবে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল, “রাতের বেলা বাহিরে কি কর? এমন করে চিৎকার করলো ক্যান ? নেশা-টেশা করো নাকি, দেহের যে ভাব ? সময় থাকতে মানুষ হ। পাশের কালো হাবিলদার বলল, ওদের দিয়ে ভালো কিছু হবে না । থানায় নিয়ে কয়েক বাড়ি দিলে যদি হয় ! জেলের ভাত না খেলে মানুষ হবে না । আমি এতক্ষন কথাগুলো খুব গম্ভীর ভাবে শুনছিলাম , যাক বেশ ভালো লাগলো । অনেক সময় পর কথা বলতে পারবো । ফর্সা পুলিশকে বললাম, আমি চা খেতে বেরিয়েছিলাম, তারপর বাসার ঐ গলিটা পার হতেই সামনে চোখে পড়লো সে বসে আছে রাস্তার উপর পরনে তাঁতের শাড়ি … ।

আমাকে থামিয়ে গোপওলা পুলিশ আমাকে বলল, লোভ আর সামাল দিতি পারিস নি ? কাঁচা মাংস দেখলে রক্ত গরম হয় ? বেয়াদব … । থামিয়ে দিল ফর্সা পুলিশটি, ওনার নাম জাহিদ সাহেব। ইশারায় আবার বলবার ইঙ্গিত পেলাম। আমি কাছে গিয়ে দাড়াতেই……চিৎকার করে মানুষ জড়ো করলো। আমাকে কেউ কথা বলবার সুযোগ দেইনি। তার সাথেও কথা বলেনি কেউ। জাহিদ সাহেব বলে উঠলেন, তুই তাকে চিনিস? হয়তো ! ঠিক করে বল,চিনিস ? একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললাম চিনতাম। পাল্টা প্রশ্ন, কি নাম ? অধরা । বাসা? আমাদের পাড়াতে থাকতো এক সময়। তোর সাথে কি সম্পর্ক আছে ? না । ছিল ? একদিন । কলেজে পড়বার সময় ।

আজকাল আর কথা হয় না। হঠাৎ আজ সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলেছিলো, কিন্তু আমি দেখা করতে যায়নি। যাসনি তবে ও এতো রাতে ঐ পাড়াতে কি করছিল? আমার সাধারণ উত্তর, জানি না। ব্রেকে পা পড়লো গাড়িটির, কেপে উঠলাম। মনে পড়লো অধরার কথা, আসলে এত রাতে ও কি জন্য আমাদের পাড়াতে এসেছিল! কেনইবা চিৎকার করলো আমাকে দেখে ? অবশ্য আমাকে যখন গাড়িতে তোলা হয়েছিল ওর দিকে এক ঝলক তাকিকে প্রশ্নের উত্তর খুজতে মস্তিষ্কের সকল প্রহরী কাজে লেগে গিয়েছে। গাড়ি থেকে আমাকে নামানো হল… অধরা আমার স্মৃতি থেকে একটু একটু করে সরে যাচ্ছে ধোঁয়াশা হয়ে, একটা শূন্যতা আমাকে গ্রাস করতে থাকলো তিলে তিলে।
হঠাৎ একটা আত্মচিৎকার হা হা কার করা বুক কেপে উঠলো, এক নিমিষে ঘেমে চলেছে দেহ, ঘাম ঝরা কপালে হাত রেখে আমাকে আমি আবিষ্কার করলাম খাটের উপর মায়ের একটা ডাকে।

প্রকাশিতঃ দৈনিক তথ্য(খুলনা)
মিডিয়া খবর ডটকম

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৮ দুপুর ১২:০৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের দোসর কোনো সাংবাদিককে কেনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শাস্তি দিচ্ছে না?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

ফ্যাসিবাদের দোসর কোনো সাংবাদিককে এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শাস্তি দিচ্ছে না কেন?

মানবাধিকার সংস্থা Odhikar আয়োজিত Human Rights Abuses and Access to Justice for Victims বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আফগান জলেবি

লিখেছেন সপ্তম৮৪, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫০

চুপপু স্যার, সংবিধান, বিপ্লবী সরকার এবং ইত্যাদি।

যখনই চুপ্পু স্যারের পদত্যাগের কথা ওঠে তখনই সামনে আসে পবিত্র সংবিধানের কথা। বিপ্লবী স্যারেরা অবশ্য বলেন সংবিধান মেনে বিপ্লব হয় না। শক্তিশালী... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬



একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাপা যায় না...

বিউটি রাণী পালঃ ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×