somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাফপ্যান্ট পড়া ভদ্রলোক-৫: “২রা জুলাই ১৭৫৭ সালে সিরাজ উদ দোলা শহীদ হন আর আমাদের স্বকীয়তার মৃত্যূ হয়”

২৩ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২রা জুলাই ১৭৫৭ সালে সিরাজ উদ্দোলা শহীদ হন ।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের একটা দোষ আছে; যেমন ধরুন, রাজনীতি করে কি হবে, আমি বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘৃনা করি । অথবা দেখা যাবে কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে আর বেশিরভাগ মানুষই মজা দেখছে আর বলছে অহেতুক আন্দোলন করে লাভ কি ? কিন্তু এ দেশের রাজনীতির পটভূমি পরিবর্তনে যে সে নিজেও জড়িত তা হয়ত বুঝতে দেরী হয় যখন উদোরপিন্ডি বুদোর ঘাড়ে এসে চাপে তখন ।

উপরে শহীদ নবাবের মৃত্যু তারিখ স্মরন করার কারন হল গত ২৩শে জুন ও এ মাসের ১৯শে জুলাই আমাদের সিরাজ পরিষদের দুটো প্রোগ্রাম হয় । এ ধরনের প্রোগ্রাম আগেও করেছি আমরা কিন্তু কিছু ফেবু ইউজার ও বন্ধুবান্ধব (বিশেষত মীর জাফর ভক্ত) নবাবের ব্যাপারে কটু মন্তব্য করেন যা একান্ত কাম্য নয় ।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন যে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতে আমাদের নবাব কিছুতেই পরাজিতত হত না যদি না তার প্রধান তিনজন সেনাপতি বিশ্বাসঘাতকতা না করত ।
যদি ছোট একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরি তাহলে বিষয়টা পাঠকদের কাছে আরো পরিস্কার হবে বলে আশা রাখি ।
ইংরেজদের প্রধান ছিলেন লর্ড ক্লাইভ ও তার অনুগত সেনাপতি ছিলেন যথাক্রমে, মেজর কিলপেট্রিক, মেজর গ্রান্ট, মেজর আইরে কোট, ক্যাপ্টেন গপ ।
অন্যদিকে আমাদের পক্ষে প্রধান ছিলেন নবাব সিরাজ উদ দোলা ও তার সেনাপতিগণ যথাক্রমে, মোহনলাল, মীর মদন, মীর জাফর আলী খান(বিশ্বাসঘাতক), ইয়ার লতিফ খান(বিশ্বাসঘাতক), রায় র্দুলভ(বিশ্বাসঘাতক) এবং ফরাসী সেনাপতি মসিযেঁর সিনফ্রে বা মসিয়েঁর ডি সেন্ট ফ্রেইজ(সত্যিকারের সাহসী বিদেশী বন্ধু) ।
এবার আসুন পদাতিক, অম্বারোহী ও ভারী অস্ত্র এর পরিসংখ্যান দেখা যাকঃ
ইংরেজদের পক্ষে, ৭৫০ জন ইংরেজ সৈন্য ও ২১০০ জন্ ভারতীয় (বিশেষত নেপালি গোরখা)সৈন্য মোট ২৮৫০ জন পদাতিক সৈন্য ছিল । ১০০ জন গোলন্দাজ ও ১০০জন ভারতীয় পর্তুগীজ বা টোপাজ(টোপাজঃ যাদের পূর্বপুরুষ পর্তগাল থেকে এসেছিল) । আর মোট কামান ছিল ১০টি ।
এবার আসুন বাংলা বিহার উড়িষ্যার তথা আমাদের পক্ষে কি ছিল, আমাদের শহীদ নবাব সিরাজ উদ দোলার পক্ষে যারা যারা সেনাপতি ছিলেন তাদের সবারই স্বাধীন সৈন্যবাহিনী ছিল । তন্মধ্যে, নবাবের ছিল ৭ হাজার পদাতিক, ৫ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য, মীর জাফরের ছিল ৩৫ হাজার পদাতিক ও ১৫ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য । ফরাসী সিনফ্রের ছিল ৫০টি ভারী কামান ও সেগুলো নিয়ন্ত্রনের জন্য সৈন্য । আমাদের পক্ষে মোট কামান বা তোপ ছিল ১০৩টি(৫৩টি নবাবের ও ৫০টি ফরাসীদের)। মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ৬২ হাজারের বেশি ।
যেখানে ইংরেজদের মাত্র ২৮৫০ জন সৈন্য সেখানে আমাদের ছিল ৬২, ০০০(বাষট্টি হাজার) সৈন্য [ যা কিনা প্রায় ২১ গুন বেশি ছিল ইংরেজদের থেকে ], তাহলে আমাদের প্রিয় নবাবের পরাজয়ের কারন কি ছিল । খুব কমন এবং সহজ একটি প্রশ্ন; কমবেশি সবাই আমরা এর উত্তরটা জানি । তিনজন বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি, মীর জাফর, রায় দুর্লভ ও ইয়ার লতিফের বেঈমানীর কারনে আমাদের পরাজয় বরন করতে হয় ।
মীর জাফর শুধু বিশাল বাহিনী নিয়ে চুপচাপ দাড়িয়েই থাকেনি বরং সে ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল । বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে যা জানা যায় মীর জাফর নবাবের বহু সংখ্যাক সৈন্যকে হত্যা করেছিল সেই পলাশীর যুদ্ধের সময় । একটা মানুষ কতটা বিশ্বাসঘাতক হতে পারে তা মীর জাফরকে না দেখলে আসলে ধারনা করা যায় না । বৃস্টি শুরু হলে মীর জাফর কামান ও কামানের গোলাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই বৃস্টির পানি হতে রক্ষা করেনি যার কারনে নবাবের বেশিরভাগ কামানই কাজ করেনি ।
অন্যদিকে ফরাসী সেনাপতি সিনফ্রে নবাবের পক্ষে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন ।
মীর জাফর, ইয়ার লতিফ কোরান শরীফ ছুয়েঁ শপথ করেও বেইমানী করেন আর রায় র্দুলভও হিন্দু ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ ছুয়েঁ শপথ করে বিশ্বাসঘাতকা করেন ।
যুদ্ধের পরাজয়ের পর অনেক মানুষ নির্বীকার ছিল । এখনকার মত তারাও বলেছিল নবাব হেরেছে তো আমাদের কি হয়েছে ! আমরা রাজনীতি বুঝি না বুঝতে চাইও না । ভাগ্যের কি নিমর্ম পরিহাস, আমাদের মত সেই সাধারন মানুষ গুলোই কিন্তু সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ভোগ করেছে ইংরেজ আমলে । মীর জাফরের মত লোকেরা ছিল শান্তিতে । তবে পাপের জন্মদাতাকে তার নিজের পাপ এর শাস্তিভোগ করেই মরতে হয় । মীর জাফরের সে শান্তি বেশিদিন টিকেনি ।
ইংরেজদের সে সময় অনেকে ভগবান হিসেবে দেখেছিল, বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গণ । তাদের ধারনা ছিল ইংরেজরা তাদের ত্রানকর্তা ঠিক এখনও কিছু মানুষ আছে যারা ইংরেজদের ত্রানর্তাভাবে ।
ইংরেজদের ভগবান ভাবতে যাদের দ্বিধা হয় না তাদের কাছ থেকে যেমন স্বদেশপ্রেম আশা করা যায় না ঠিক তেমনি তাদের পরিণতিও হয় খুবই মর্মান্তিক । ঘসেটি বেগম যে কিনা নবাবের খালা ছিল এবং পলাশী যুদ্ধ ও ইংরেজদের ১৯০ বছর এ দেশকে উপঢোকন দেয়ার অন্যতম খলনায়িকা, তার পরিনতি ছিল মীর জাফরের ছেলে মীর মীরনের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা ।
এদেশের অনেক ব্যাবসায়ীরা ব্যাবসায় লাভবান হবে আশা করে তখন মীর জাফর আর ঘসেটি বেগমকে সাহায্য করেছিল যাতে ইংরেজরা জয়ী হয় । তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল, জগত শেঠ ও উমিচাঁদ ।
এখনও অনেক ব্যাবসায়ী আছেন যারা এমনটাই ভাবেন কিন্তু তাদের অনেককেই ব্যাবসা বন্ধ করে দিতে হয়েছে মীর জাফর এর মত সরকারের কারনে ।
অনেকেই বিদেশী পন্য ভালবাসে । মোবাইল কিনতে গেলে স্যামসাংই কিনব কারন সিম্ফনি বা ওয়ালটন তো বিদেশ থেকে পার্টস কিনে নিয়ে আসে শুধু এখানে একসাথে জুড়ে দেয় মাত্র । অথচ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের অনেক পন্যও প্রথম দিকে এরকমই ছিল, বাহির থেকে এনে নিজেদের বলে চালিয়ে দিত; কিন্তু ভারতীয়দের দেশপ্রেম আছে তাই তারা আজ এত উন্নত ।
আমার এলাকার এক বড় ভাই ভারত থেকে তৈরী পোষাক এনে বাংলাদেশে সাপ্লাই দেন বিভিন্ন শোরুমে । একবার তিনি ভাবলেন এভাবে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খোয়া যাচ্ছে তাই তিনি পরের বার কিছু বাংলাদেশী টিশার্ট নিয়ে গেলেন । যাদের কাছ থেকে তিনি কেনাকাটা করেন (কোলকাতা ও বোম্বের পোষাক ব্যাবসায়ী) তাদের এ টিশার্টগুলো দেখালেন আর বললেন যে কিনবে কিনা । উক্ত ব্যাবসায়ীর সবাই আমাদের দেশী পন্যটি হাতে নিয়ে পরখ করে দেখল, হ্যাঁ খুবই ভাল উন্নত মানের, ভারতীয় যে কোন টিশার্টের চাইতে উন্নতমানের কিন্তু উত্তর শুনে বড় ভাই চমকে গেলেন । ব্যাবসায়ীর উত্তরঃ “ভাই আপনাদের কাপড়, টিশার্ট অনেক টেকসই আর উন্নতমানের কিন্তু প্রবলেম হচ্ছে এগুলো আমাদের আছে । মানে আমাদের তো টি শার্ট আছে, হোক সেটা নিম্নমানের কিন্তু আছে তো । যে জিনিসটা আমাদের আছে সেটা কেন আমি বিদেশীটা কিনব?”
আমার এলাকার বড় ভাই উত্তর শুনে ‘থ’ হয়ে গেলেন । তিনি এখন ভারতীয় পন্য আনা কমিয়ে দিয়েছেন । বিশেষত কিছু পন্য যেগুলো বাংলাদেশে নেই সেই পন্য গুলো মাঝে মাঝে আনেন । তিনি আশাবাদী অদূর ভবিষ্যতে হয়ত ৯০ ভাগ পন্যই আর আমাদের বিদেশ থেকে আনতে হবে না ।
আমিও সেই আশাই করি । আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ, বস্ত্র আর শিক্ষাকেও স্বয়ংসম্পূর্ন বলা যায় । আরো অনেক সেক্টর আছে যেগুলোতে আমরা বিদেশী সাহায্য না নিলেও চলে যাবে । এখন শুধু দরকার তাবেদারী আর দালালী বেহায়া পনা মন থেকে মুছে ফেলা তবেই তো নবাব এর স্বপ্ন সফল হবে আর শান্তি পাবে আমাদের পূর্বপুরুষ দেশপ্রেমিকদের আত্মা । আর যদি হাফপ্যান্ট পড়া ভদ্রলোক হয়ে থাকতে পছন্দ করেন তাহলে তো আর বলার কিছু নাই । শুধু বলব, কবে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন?

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে কি ইনফ্লেশান শুরু হয়েছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩



আমি দেশ থেকে দুরে আছি, দেশের কি অবস্হা, ইনফ্লেশান কি শুরু হয়েছে? কোভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে ইউরোপ, আমেরিকাকে ভয়ংকর ইনফ্লেশানের মাঝে ঠেলে দিয়েছে; বাংলাদেশে ইহা এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছদ্মবেশী রম্য!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৩৪



আমার ফেসবুকে একটা নামমাত্র একাউন্ট আছে। সেখানে যাওয়া হয় না বলতে গেলে। তবে ইউটিউবে সময় পেলেই ঢু মারি, বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখি। ভিডিওগুলোর মন্তব্যে নজর বুলানো আমার একটা অভ্যাস। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী পড়া। খালি পা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাঠের আলোচনায় ব্লগারদের বই!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৬

আমার আত্মজরা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশা প্রকাশ করে! সেটা হচ্ছে আমার খুব অল্পে তুষ্ট হয়ে যাওয়া ( আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে অবশ্যই তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সহবাসের জন্য আবেদন'...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১০:১৯



রোকেয়া হলে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৭বছর কেটেছে। হলের নানা গল্পের একটা আজ বলি। হলের প্রতিটি কক্ষে ৪টা বেড থাকলেও থাকতে হতো ৫জনকে। মানে রুমের সব থেকে জুনিয়র দুইজনকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×