somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিরোনামঃ কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-২ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)

০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনামঃ কি খাচ্ছি? ফল, খাবার নাকি বিষ? পর্ব-২ (একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ)
উপ শিরোনামঃ ফল, শাকসবজি ও মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল, প্রদাহ, সনাক্তকরন ও প্রতিকার

আসলে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝা খুবই কঠিন বিষয় যে কোন ফলে বা খাবারে বিষ আছে আর কোনটাতে নেই । সহজে বোঝার জন্য তাই দরকার কিছু উপায় বের করা ।
ধারাবাহিক এ পর্বে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে আলোচনা করব বিভিন্ন খাবার ও ফল নিয়ে; কোন কোন খাবার বা ফলে কি কি বিষাক্ত রং বা কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে আর এর প্রতিকার কি?
আজকে ফল, শাকসবজি ও মাছ নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং এগুলোতে যেসকল বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয় তা সনাক্তকরণ ও প্রতিকার নিয়েও আলোচনা করা হবে ।
প্রথমেই আসা যাক ফলমূল নিয়ে আলোচনা । আমাদের দেশে সাধারণত আম, আনারস, কাঁঠাল, লিচু, আঙ্গুর, আপেল, কলা, পেয়ারা, বেদানা, সফেদা, ডালিম, পেঁপেঁ, ইত্যাদি ফল সারা বছরই ভোক্তারা খেয়ে থাকেন ।
কিন্তু আপনার আমার অগোচরে যেসকল বিষ এতে মিশানো হচ্ছে তাতে যেকোন সময়ে থেমে যেতে পারে আমাদের জীবন চাকা । অন্যদিকে প্রতিদিন কিছু ফলমূল খাওয়া শরীরের জন্য বাঞ্ছনীয় । ডাক্তাররা প্রায়ই রোগীদের ভেজালমুক্ত সতেজ ফলমূল খেতে বলেন, এতে বয়সের ছাপ নিয়ন্ত্রণ ও শরীর ভাল থাকে । কিন্তু নির্বিচারে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও কৃত্রিম হরমোন মেশানোর কারনে ফল হয়ে উঠছে দীর্ঘ মেয়াদী বিষ বা স্লো পয়জন ।
চলুন দেখা যাক কি কি কেমিক্যাল বা হরমোন এসকল ফলে প্রয়োগ করা হচ্ছে ।

উপরোক্ত ফলসহ আরো অনেক কিছুতে নিম্নোক্ত কেমিক্যাল ও কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করা হচ্ছেঃ

ক. ক্যালসিয়াম কার্বাইড(Calcium Carbide: CaC2)
খ. ইথিলিন(Ethylene: C2H4)
গ. ইথিফন( Ethephon: C2H6ClO3P)
ঘ. ফরমালিন বা ফরমালডিহাইড(Formalin: CH2O)
ঙ. কৃত্রিম রং(Artificial Dyes)

ক. ক্যালসিয়াম কার্বাইড(CaC2):
ফল দ্রুত পাকানোর জন্য এ কেমিক্যাল ব্যাবহার করা হয় । সাধারনত ব্যাবহারকৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড বিষুদ্ধ অবস্থায় থাকে না, তাই এতে ফসফরাস ও আর্সেনিক এর উপস্থিতি পাওয়া যায় । বাতাসের সাথে বিক্রিয়া করে এ বিষ এসিটিলিন(C2H2, acetylene) গ্যাস সৃস্টি করে যা ফলকে পাকাতে সাহয্য করে ।
প্রাকৃতিক ভাবে ফলে ইথিলিন(Ethylene) তৈরী হয় এবং ধীরে ধীরে ফল পাকতে থাকে । প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফল মিস্টি ও সুগন্ধযুক্ত হয় আর খেতেও সুস্বাদু ও স্বাস্থ্য উপযোগী । অন্যদিকে কৃত্রিমভাবে পাকা ফল ঝাঁঝালো গন্ধ, আনুপাতিক হারে কম মিস্টি বা পানসে ও নিস্বাদ হয়ে থাকে ।

এ বিষাক্ত কেমিক্যালে যে সকল প্রদাহ হতে পারে,
প্রদাহঃ
১. ক্যান্সারের ঝুকিঁ বাড়বে
২. আর্সনেকি ও ফসফরাস এর প্রদাহে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, উদরাময় ছাড়াও অসাড়তা ও মস্তিষ্ক স্মৃতি বিভ্রাট ইত্যাদি হতে পারে ।
৩. উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুকিঁ বেড়ে যাবে ।
৪. দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম কার্বাইড সেবনে কিডনি জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে ।
৫. হাতে, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি(Rush or Pimple) দেখা দিতে পারে এবং এলার্জি জনিত প্রদাহ দেখা দিতে পারে ।

সনাক্তকরণঃ
এবার আসা যাক কিভাবে ফলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর উপস্থিতি সনাক্ত করবেন । নীচের ধাপগুলো লক্ষ্য করলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কোন ফলে কার্বাইড দেয়া হয়েছেঃ
১। ফলের নিজস্ব গন্ধ থাকবে না আর থাকলেও তা খুব মৃদু হবে যা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন । কারণ একটি স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের নিজস্ব রসালো গন্ধ রয়েছে । তবে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা কৃত্রিম গন্ধ স্প্রে করে থাকতে পারে ।
২। কৃত্রিম কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল দেখতে সুন্দর রং ও ফলের খোসায় কোন দাগ দেখা যাবে না এবং সবদিকে সমান হারে পাকা রং দেখা যাবে । অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে পাকানো ফলের রং সমানুপাতিক হয় না । ফলের খোসায় লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এতে বিভিন্ন দাগ রয়েছে এবং বোটার দিকে অতিরিক্ত পাকা ও অন্যান্য দিকে কোথাও পাকা রং কোথাও কাঁচা রং থাকবে ।
৩। কিছু কিছু ফল বিশেষত আম ও কলা অতিরিক্ত কার্বাইডের ফলে দ্রুত পাকতে থাকবে এবং বোটায় কালো রংয়ের পচন ধরা লক্ষ্য করা যাবে । অনেক সময় পঁচা রসুনের ন্যায় গন্ধ সৃস্টি হতে পারে যা কার্বাইডের গন্ধ বলে পরিচিত ।
৪। একটা প্রবাদ আছে “চক চক করলেই সোনা হয় না” । বাজারে ফল কিনতে গেলে এ জিনিসটা সব সময়ই মনে রাখবেন । লোভনীয় পাকা রং দেখে আনারস, আম বা কলা ও অন্যান্য ফল কিনবেন না কারণ প্রাকৃতিকভাবে ফল পাকলে তাতে দাগ থাকবেই এবং ফলের সবটাতে সমানভাবে পাকা রং দেখা যাবে না ।
৫। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ইন্ডিকেটর বা সনাক্তকরন কিট ব্যাবহার করতে পারেন । এক্ষেত্রে কয়েকটি আমকে পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে সেই পানিতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ইন্ডিকেটর দিলে তার রং সবুজ হয়ে যাবে ।

প্রতিকারঃ
সাধারণত কার্বাইড দেয়া ফল পরিত্যাগ করাই শ্রেয় । কিন্তু যদি ভুলবশত কার্বাইড দেয়া ফল কিনে ফেলেন অথবা আপনি নিশ্চিত হতে পারছেন না যে এতে কার্বাইড দেয়া হয়েছে কিনা তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বনে তা কিছুটা নিরাপদ হতে পারেনঃ
১। ভিনেগার ও পানি মিশ্রনঃ প্রথমে ফলগুলো পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । এরপর ১:৩ অনুপাতে ভিনেগার ও পানি মিশ্রিত করুন অর্থাৎ এক ভাগ ভিনেগার ও তিন ভাগ পানি মিশ্রিত করুন । উক্ত মিশ্রনটি পিচকারী বা স্প্রেয়ার দিয়ে ফলের বহিবারন অংশ বা ত্বকে স্প্রে করুন যদি পিচকারী না থাকে তাহলে বাজার থেকে মাত্র ২০/২৫ টাকায় কিনে নিতে পারেন(সার ও কীটনাশকের দোকানে পাওয়া যায়) অথবা দ্রবনে চুবিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলতে হবে । তারপর প্রতিটি ফল পরিস্কার পানিতে একটি সুতিকাপড় দিয়ে ঘষে ভিনেগার ও কার্বাইড ধুয়ে ফেলতে হবে ।
২। লবন ও লেবুর মিশ্রনঃ এ পদ্ধতিতে ২ লিটার পানিতে ১ টেবিল চামচ লবন ও একটি মাঝারি আকারের লেবুর রস মিশ্রিত করে তাতে ফলগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে । এরপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে ।
উভয় ক্ষেত্রে ধুয়ে ফেলার পর ফলগুলো শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে বহিরাবনের পানি মুছে ফেলতে হবে । এতে ফল খাওয়া কিছুটা নিরাপদ হবে, তবে কোন অবস্থায় কেমিক্যাল দেয়া ফল খা্ওয়া উচিত নয় ।
খ. ইথিলিন(Ethylene: C2H4), বিথিলিন বা বি-ইথিলিন (Bethylene):
প্রাকৃতিক ভাবে ফলে ইথিলিন তৈরী হয় এবং ফল ধীরে ধীরে পাকতে থাকে । ইদানিং কিছু অসাধু পেস্টিসাইডস ব্যাবসায়ী কৃত্রিম ইথিলিন হরমোন স্প্রে বিক্রি করছে সরাসরি কৃষকদের কাছে । ইথিলিন ফলকে দ্রুত পরিপক্ক হতে সাহায্য করে । ইথিলিন এর বেশ কিছু বিষক্রিয়া রয়েছে এবং ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে ইথিলিন এর বিকল্প হিসেবে বি-ইথিলিন আবিস্কার করা হয়েছে । বি-ইথিলিন এর বিষক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোন গবেষণা হয়নি, তবে যেকোন কৃত্রিম কেমিক্যালই মানব শরীরে কমবেশি ক্ষতির কারন হতে বাধ্য । নীচে ইথিলিন এর মানব শরীরে প্রদাহ উল্লেখ্য করা হলঃ
১। মস্তিষ্ক বিকৃতি ও স্মৃতি বিভ্রাট হতে পারে
২। দৃস্টিশক্তি কমে যেতে পারে বা অকাল অন্ধত্ব হতে পারে
৩। শ্বাসকস্ট ও ফুসফুসের প্রদাহ হতে পারে
৪। দীর্ঘ মেয়াদী হাইপোক্সিয়া বা শরীরে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিতে পারে
৫। ক্ষুধামন্দাভাব, বমি বমি ভাব, ঝিমুনি, মাথাব্যাথা, পেশী দুর্বলতা, হাত ও পায়ের অনুভূতি শক্তি কমে যাওয়া, ও পক্ষাঘাত হতে পারে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে এলার্জি ও হাপানীও হতে পারে ।
৬। ব্লাড ক্যান্সার বা রক্তবাহিত কোন প্রদাহ হতে পারে ।

সনাক্তকরণঃ
বাংলাদেশে প্রধানত আনারসে উক্ত ইথিলিন হরমোন স্প্রে করা হয় তবে অন্যান্য ফলেও তা প্রয়োগ করা হলে আশ্চর্য হব না কারন সরকারীভাবে এখনও ইথিলিন আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়নি ।
নিম্নোক্ত উপায়ে ফলে ইথিলিন হরমোন সনাক্ত করতে পারবেনঃ
১। ফলের পাকা রং সর্বত্র একই থাকলে বুঝতে হবে এটি ইথিলিন হরমোন দিয়ে পাকানো হয়েছে ।
২। ফলের গন্ধ খুবই ক্ষীণ থাকবে যা প্রাকৃতিকভাবে পাকা কোন ফলের মত তীব্র হবে না ।
৩। ইথিলিন হরমোন স্প্রে করা ফলের স্বাদ পানসে ও ঝাঁঝালো হবে, মিস্টি হলেও খুব কম অনুপাতে হবে । প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের স্বাদ সুমিস্টি ও রসালো হবে ।
৪। ইথিলিন দেয়া ফল দ্রুত পঁচনশীল হবে কেননা তার ভিতরে তখনও ইথিলিনের বিষক্রিয়া বিদ্যমান এবং অনিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া চলতে থাকবে ।
৫। ইথিলিন হরমোন প্রয়োগ করা ফলে বেশিরভাগ সময়ই ইথিলিন অক্সাইড গ্যাস আকারে পা্ওয়া যায় যা সনাক্তকরণ টেপ বা কিট দিয়ে পরীক্ষা করে বলা সম্ভব যে, কোন ফলে ইথিলিন আছে কিনা ।

প্রতিকারঃ
ইথিলিন নিশ্চিত হলে সে ফল বর্জন করা উচিত তবে যদি নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে উপরের কার্বাইড প্রতিকারের দুটির যেকোন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন ।
গ. ইথিফন( Ethephon: C2H6ClO3P):
ইথিফন মূলত ইথিলিন এর আধুনিক সংস্করন তবে এর প্রদাহ বা ক্ষতিকর প্রভাব, সনাক্তকরন ও প্রতিকার ইথিলিনেরই অনুরুপ । ইথিফন প্রয়োগের পর তা ইথিলিন গ্যাসে রুপান্তরিত হয় এবং ইথিলিনের অনুরুপ কাজ করে থাকে । বি-ইথিলিন হচ্ছে সর্বশেষ ইথিলিন এর আধুনিকায়ন । বি-ইথিলিনও একই ভাবে মানব ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক ।
ঘ. ফরমালিন বা ফরমালডিহাইড(Formalin: CH2O):
ফরমালিন হচ্ছে আমাদের দেশে সবচাইতে বহুল আলোচিত জীবানুনাশক কেমিক্যাল । দক্ষিন এশিয়ার গুটি কয়েক দেশ ছাড়া আর কোথাও খাবারে, মাছ, শাকসবজি বা ফলে ফরমালিন ব্যাবহার করা হয় বলে তেমন জানা যায় না । আইন এর বাস্তব প্রয়োগ নেই বলে খাবারে ফরমালিন দিয়েও অসাধু ব্যাবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে ইদানিং প্রশাসন এ ব্যাপারে তৎপর হওয়াতে ফরমালিন বা ফরমালডিহাইড এর প্রয়োগ কিছুটা কমেছে ।
৩০মিলি ফরমালডিহাইড(ফরমালিন-পানির মিশ্রন যাতে ৩৭% ফরমালিন রয়েছে) সেবনে যেকোন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হতে পারে । তাই বলা যায় ফরমালিন সেবনে আমরা ধীরে ধীরে আমাদের জীবনী শক্তি হারাচ্ছি আর আমাদের আয়ু কমছে ।
এ অংশে ফল, শাকসবজি ও মাছে ফরমালিনের প্রয়োগ, মানব শরীরে তার প্রদাহ বা প্রভাব, সনাক্তকরণ পদ্ধতি ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হবে ।
আসুন দেখা যাক ফরমালিন সেবনে মানব শরীরে কি কি প্রদাহ হতে পারেঃ

প্রদাহঃ
১। প্রাথমিকভাবে পেটে ব্যাথা ও ডায়রিয়া হতে পারে
২। দীর্ঘদিন ফরমালিনযুক্ত খাদ্য বা ফল গ্রহনে মানুষের নাকে ও গলায় ক্যান্সার হতে পারে ।
৩। ফরমালিন সেবনে মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী বিষ বা স্লো পয়জন ।
৪। ফরমালিন সেবনে ক্যান্সার হওয়ার ঝুকিঁ রয়েছে ।
৫। শিশুদের কিডনি ফেইলর হতে পারে এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের কিডনীতে সমস্যা দিতে পারে ।
৬। দীর্ঘদিন ফরমালিন গ্রহনে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে বিশেষত “তীব্র মাইয়েলয়েড ব্লাড ক্যান্সার” বা Acute Myeloid Leukemia (AML) হতে পারে ।
৭। মুখে, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে আলসার হতে পারে
৮। পাকস্থলী ও কিডনীতে পাথর হতে পারে ।
৯। চামড়া ও চোখ জ্বালাপোড়া করা এবং চোখে ঝাপসা দেখা বা জলসিঁক্ত চোখ প্রদাহ হতে পারে ।
১০। ত্বকে এলার্জি জনিত ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে
কিছু কিছু মানুষের ফরমালিন সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি আবার কারও কারও অনেক কম । সে জন্য ফরমালিনের অনেক প্রদাহ সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রকাশ পায় না ।
অনেক সময় ফরমালিন ভিন্ন নাম ও মিশ্রনে বাজারজাত করা হয় । যেমনঃ
১. ফরমালিন (Formalin)
২. ফরমিক এলডিহাইড(Formic aldehyde)
৩. মিথানেডিওল(Methanediol)
৪. মিথানল(Methanal)
৫. মিথাইল এলডিহাইড(Methyl aldehyde_
৬. মেথিলিন গ্লাইকল(Methylene glycol)
৭. মেথিলিন অক্সাইড(Methylene oxide)

ফরমালিন বা ফরমালডিহাইডের মত অনেক প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষনকারক কেমিক্যাল আছে যেগুলো ফরমালিনের মতই ব্যাবহার করা হয় এবং সমানভাবে ক্ষতিকারক । যেমনঃ

১. বেনজাইলহেমিফরমাল(Benzylhemiformal
২. ২-ব্রোমো-২-নাইট্রোপ্রোপেন-১,৩-ডাইওল(2-bromo-2-nitropropane-1,3-diol
৩. ৫-(ব্রোমো-৫-নাইট্রো-১,৩-ডাইঅক্সেন(5-bromo-5-nitro-1,3-dioxane)
৪. ডায়াজোলিডিনাইল ইউরিয়া(Diazolidinyl urea)
৫. ১,৩-ডাইমিথাইলল-৫,৫-ডাইমিথাইলহাইডেনটোইন (বা ডিএমডিএম হাইডেনটোইন)(1,3-dimethylol-5,5-dimethylhydantoin (or DMDM hydantoin)
৬. ইমিডাজোলিডিনাইল ইউরিয়া(Imidazolidinyl urea)
৭. সোডিয়াম হাইড্রোক্সিমিথাইলগ্লাইসিনেট(Sodium hydroxymethylglycinate)
৮. কোয়াটেরনিয়াম-১৫(Quaternium-15)
ইত্যাদি ।


সনাক্তকরণঃ
কোন ফলে ফরমালিন আছে কিনা তা সনাক্ত করতে হলে আপনি নীচের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেনঃ
১. প্রথাগত ভাবে অনেকেই বলে থাকেন মাছে বা ফলে মাছি বসে কিনা তা লক্ষ্য করতে । যদি মাছি বসে তাহলে ফরমালিন দেয়া নেই আর না বসলে ফরমালিন আছে । তবে ব্যাপার হল কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী ইদানিং ফরমালিনের অন্যান্য ফরমূলা ব্যাবহার করছে, পাশাপাশি মাছি যাতে বসে সে জন্য চিনির পানি ও কিছু কৃত্রিম হরমোন(যেমনঃ iso-eugenol, methyl-eugenol) স্প্রে করে থাকতে পারে । এ ধরনের কেমিক্যাল সহজেই মাছিকে আকৃস্ট করে ।

২. ফলমূল নাকের খুব কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকলে হালকা ঝাঁঝাঁলো গন্ধ আসবে । ফলের নিজস্ব গন্ধকে গৌণ মনে হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলের গন্ধ নাও পাওয়া যেতে পারে ।

৩. বাজারে বেশ কিছু ফরমালিন টেস্ট কিট কিনতে পাওয়া যায় । যার মধ্যে কেমিক্যাল দিয়ে পরীক্ষা করার সরঞ্জামাদি বেশি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক ফলাফল দিতে পারবে । অন্যদিকে কিছু ইলেকট্রনিকস কিট বা ডিজিটাল টেস্ট কিট বাজারে পাওয়া গেলেও তা নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে যে ফলাফল সঠিক কিনা(ফল ব্যাবসায়ীরা এ ডিজিটাল ফরমালিন পরীক্ষণ যন্ত্রটির কার্যকারীতার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত ও রায় ঘোষণার পর তা বোঝা যাবে যন্ত্রটি সঠিকভাবে ফলে ফরমালিন সনাক্ত করতে পারে কিনা) । এক্ষেত্রে কেমিক্যাল দিয়ে পরীক্ষা করাই উত্তম । কেমিক্যাল দিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নীচের যে কোন একটি পদ্ধতি ব্যাবহার করা যেতে পারেঃ

ক. “ব্র্যাডি” রিএজেন্টঃ Brady’s reagent [2, 4 dinitrophenylhydrazine]:

কেনা ফল, শাকসবজি বা মাছ ফরমালিনযুক্ত কিনা তা সনাক্ত করতে এ পদ্ধতি ব্যাবহার করা যেতে পারে । প্রথমেই ফল, শাকসবজি বা মাছ পানিতে ধুয়ে সেই ধোয়া পানি থেকে ২-৩ মি.লি. পানি টেস্ট টিউবে বা পরিস্কার কাচেঁর পাত্রে নিয়ে তাতে সমপরিমান ব্র্যাডি রিএজেন্ট মিশ্রিত করতে হবে । অতপর তা ঝাকালে তাতে কমলা রংয়ের ক্রিস্টাল(Crystal) বা স্ফটিক দানা দেখা যাবে যা ফরমালিনের উপস্থিতিকে প্রমান করে ।

খ. টোলেনস রিএজেন্টঃ Tollens reagent [Ammonical Silver Nitrate Solution]:
এ পদ্ধতিতে ফল, শাকসবজি বা মাছ পানিতে ধুয়ে সেই ধোয়া পানি থেকে ২-৩ মি.লি. পানি টেস্ট টিউবে বা পরিস্কার কাচেঁর পাত্রে নিয়ে তাতে সমপরিমান টোলেনস রিএজেন্ট মিশিয়ে বুনসেন বার্নার(Bunsen Burner) তাপ দিলেই টেস্টটিউবের গায়ে রুপার আয়নার মত(Silver Mirror) একটি আস্তরন পড়বে যা ফরমালিনের উপস্থিতি সনাক্ত করে ।

গ. বেনেডিক মিশ্রণঃ (Copper Sulfate/ Ammonium Hydroxide) :
এ পদ্ধতিতে একইভাবে ফল, শাকসবজি বা মাছ পানিতে ধুয়ে সেই ধোয়া পানি থেকে ২-৩ মি.লি. পানি টেস্ট টিউবে বা পরিস্কার কাচেঁর পাত্রে নিয়ে তাতে সমপরিমান(২/৩ মি.লি.) বেনেডিক মিশ্রণ মিশিয়ে বুনসেন বার্নার(Bunsen Burner) তাপ দিলেই টেস্টটিউবের গায়ে লাল রং এর শক্ত বস্তু দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে উক্ত ফল, মাছ বা শাকসবজিতে ফরমালিন আছে ।

৪. Analytical Method : Chromatography, Mass Spectroscopy, I. R Spectroscopy and N.M.R Spectroscopy দ্বারা ফরমালিন নিঁখুতভাবে সনাক্ত করা যায়।


৫. সেরিভারস্ টেস্টঃ
পূর্বের ন্যায় সন্দেহযুক্ত ফল, মাছ বা শাকসবজির দ্রবনের সঙ্গে ২ মি.লি.(মিলি লিটার) ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ মি.লি. ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ মি.লি. ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক এসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ ধারণ করে যা ফরমালিনকে সন্দেহাতীত ভাবে সনাক্ত করে ।
রাজধানীর হাটখোলা’তে সকল ধরনের ফরমালিন সনাক্তকরন রিএজেন্ট বা কেমিক্যাল ও অন্যান্য রসায়ন ও জীববিদ্যার সরঞ্জামাদি পাবেন ।


প্রতিকারঃ
ফরমালিন যুক্ত বিষাক্ত ফল বা খাবার জেনে শুনে কেনা উচিত না । তবে যদি সন্দেহ হয় যে আপনার কেনা ফলমূলে ফরমালিন থাকতে পারে তবে নীচের যে কোন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করে কিছুটা নিরাপদ ফল খেতে পারবেন বলে আশা রাখি ।

ক. পানির মিশ্রনঃ
পরীক্ষা করে দেখা গেছে পানিতে ফরমালিনযুক্ত ফল, শাকসবজি বা মাছ প্রায় ১ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায় ।

খ. লবন দ্রবণঃ
লবনাক্ত পানিতে ফরমালিন দেওয়া ফল, শাকসবজি বা মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনের মাত্রা শতকরা প্রায় ৯০ভাগ কমে যায় ।

গ. চাল ধোয়া দ্রবণঃ
চাল ধোয়া পানিতে ফল, শাকসবজি বা মাছ দ্রবীভূত করে ১ ঘন্টা রাখতে হবে, পরে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । এতে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ ফরমালিন দূর করা সম্ভব ।

ঘ.ভিনেগার দ্রবণঃ
এ পদ্ধতিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভাবে ফরমালিন দূর করা সম্ভব । তা হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে(ভিনেগারঃপানি=৯০:১০ অনুপাতে) ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে প্রায় শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ ফরমালিন মুক্ত হয় ।

ঙ. লেবু ও লবন দ্রবণঃ যদি তাৎক্ষণিক ভাবে ভিনেগার হাতের কাছে না থাকে তাহলে লেবু ও লবন দ্রবণ ব্যাবহার করতে পারেন ।
এ পদ্ধতিতে ২ লিটার পানিতে ১ টেবিল চামচ লবন ও একটি মাঝারি আকারের লেবুর রস মিশ্রিত করে তাতে ফলগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে । এরপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । এ পদ্ধতিতেও প্রায় ৯৮ ভাগ ফরমালিন দূর করা সম্ভব ।

ফরমালিন চিকিৎসা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা বিভিন্ন চিকিৎসকরা চর্মরোগ বিশেষত আঁচিল রোগ(Warts Diseases) এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ভাইরাস ও প্যারাসাইট এর জন্য প্রতিষেধক হিসেবে দিয়ে থাকেন ঔষধরুপে যা মলম বা লোশন হিসেবে শুধুমাত্র বাহ্যিক ব্যাবহারের জন্য । এছাড়াও বিভিন্ন প্রাণী ও পচঁনশীল উপকরন সংরক্ষনের জন্য যাদুঘর, বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের পরীক্ষণ ও সংরক্ষণাগারে ফরমালিন জীবানুনাশক হিসেবে ব্যাবহার করা হয় । তবে খাদ্রবস্তুতে ফরমালিনের ব্যাবহার অত্যন্ত বিপদজনক যার বিস্তারিত উপরে আলোচনা করা হল ।

উপরোক্ত কারনে ফরমালিন আমদানি কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব না কেননা এটি চিকিৎসা, গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ।
তবে কঠোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ থাকলে অবশ্যই খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন প্রয়োগ বন্ধ করা সম্ভব ।
অন্যদিকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন, ফরমালিন বা অন্যান্য কেমিক্যালসমূহ আমাদের পরিবেশ ও মানব শরীরে যে ভয়ঙ্কর ক্ষতি সাধন করছে তার প্রচার বাড়াতে হবে । গণসচেতনতা ও মানবতাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে । প্রয়োজনে স্যাটেলাইট ও রেডিও চ্যানেলে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দিতে হবে ।


ঙ. কৃত্রিম রং(Artificial Dye):

নীচের ৮টি কৃত্রিম রং বিভিন্ন খাবার ও ফলমূলে ব্যাবহার করা হয় । যেগুলো মানব শরীরে দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া রয়েছে ।
১.নীল#১ বা Blue #1 (Brilliant Blue) – যা কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারন হতে পারে । গবেষণাগারে ইদুরের উপর প্রয়োগে তার প্রমান পাওয়া গেছে ।
২. নীল#২ বা Blue #2 (Indigo Carmine) – এই কৃত্রিম রংও ইঁদুরের মস্তিষ্কে টিউমার হওয়া প্রামান করে যে মানব শরীরেও একই প্রভাব পড়তে পারে কেননা ইঁদুর এ মানব দেহের অনেক অঙ্গ ও রক্ত কনিকা প্রায় একই রকম । উল্লেখ্য ইঁদুর সহজপ্রাপ্য এবং মানুষের সাথে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকার কারনে এ প্রাণীর উপর গবেষণা করে মানব দেহের উপর প্রভাব বোঝা যায় ।
৩. সাইট্রাস লাল#২ বা Citrus Red #2 – এ কৃত্রিম রং সেবনে মূত্রথলিতে ক্যান্সার বা পাথর হতে পারে ।
৪. সবুজ#৩ বা Green #3 (Fast Green) – দীর্ঘদিন এ রং খাওয়ার কারনে পুং-মুদ্রথলি আকারে বেড়ে যেতে পারে এবং টিউমার হতে পারে ।
৫. লাল#৩ বা Red #3 (Erythrosine) – এটি ফল, বা খাবারের সাথে মানব শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক থাইরয়েড ক্যান্সার হতে পারে । ১৯৯০ সনে এ রংটি থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী প্রমাণিত হয় ।
৬. লাল#৪০ বা Red #40 (Allura Red) – এটি সহজলভ্য কৃত্রিম লাল রং হিসেবে ব্যাবহার করা হয় । এটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নস্ট হয়ে রোগী বা সেবনকারী মারা যেতে পারেন । এছাড়া এটি এলার্জি ও হাপানী হওয়ার ঝুকিঁ বাড়ায় ।
৭. হলুদ#৫ বা Yellow #5 (Tartrazine) – এটি মানুষ খাবারের সাথে খেলে তার অনুভূতি শক্তি কমে যেতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চঞ্চলতা বেড়ে যেতে পারে ।
এবং
৮. হলুদ#৮ Yellow #৮ (Sunset Yellow) – এ কৃত্রিম রং খেলে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনুভূতি শক্তির তারতম্য ঘটতে পারে ।মূত্রগ্রন্থিতে টিউমার হতে পারে ।

এছাড়াও আরো অনেক কৃত্রিম ক্ষতিকারক রং ব্যাবহার করা হয় । এদের কিছু কিছু গাছে থাকা ফল, বা ফুলে রং পরিবর্তনকারী হরমোন হিসেবে স্পে করা হয় ।
লিচু, কলা, আম, আঙ্গুর, নাসপাতি, তরমুজ, আনারস, আপেলসহ অনেক ফলেই এখন কৃত্রিম রং ব্যাবহার করা হচ্ছে যা সনাক্তকরনের তেমন কোন উপায় সাধারণ মানুষের হাতে নেই । এক্ষেত্রে ভোক্তা ও ব্যাবসায়ীদের সচেতনতা ও মানবতাবোধ জাগ্রতই প্রধান উপায় । তবে কঠোর আইন ও ভেজাল বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হলে দেশের সর্বত্র কৃত্রিম রং খাবারে প্রয়োগ করা বন্ধ হবে অনেকাংশে ।

এমন একটি দেশ কি আমরা আশা করতে পারি না? যেখানে সব ব্যাবসায়ীরা হবে সৎ এবং সকল খাবার হবে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ভেজালমুক্ত?
ভেজালমুক্ত, কেমিক্যালবিহীন ফল, শাকসবজি বা মাছ খান সবাই ভাল থাকুন ।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:১৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী। খালি পা। কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাঠের আলোচনায় ব্লগারদের বই!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৬

আমার আত্মজরা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশা প্রকাশ করে! সেটা হচ্ছে আমার খুব অল্পে তুষ্ট হয়ে যাওয়া ( আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে অবশ্যই তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সহবাসের জন্য আবেদন'...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১০:১৯



রোকেয়া হলে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৭বছর কেটেছে। হলের নানা গল্পের একটা আজ বলি। হলের প্রতিটি কক্ষে ৪টা বেড থাকলেও থাকতে হতো ৫জনকে। মানে রুমের সব থেকে জুনিয়র দুইজনকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : ঝাড়খন্ডি বাংলা

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১১:২৬

মালদহের ঝাড়খণ্ডী বাংলা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে খোদ শহরেই, যদিও গ্রামাঞ্চলে এখনও টুকটাক চলে ।
এই মিষ্টি ভাষা, রাজশাহীর চাঁপাই নবাবগঞ্জেও চালু এখনও ।
শুধু এই ভাষা কেন, বাংলার কত যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসম ভালোবাসা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১:৪৮



ক্লাস শেষে বেশ ক্লান্ত লাগছিল সেদিন। । খাওয়া শেষ করে তাই শুয়েছিলাম। এমনিতে দুপুরে শুয়ে থাকা আমার হয় না। দুপুরটা বেশ ঝিমধরা, শান্ত থাকে। সবাই দুুপুরের ভাত ঘুম পছন্দ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×