
আর এক বির্তক শুরু হয়েছিল, তা হলো ভাষ্কর্য বনাম মূর্তি বির্তক।সে বির্তকের সার কথা হলো ভাষ্কর্য আর মূর্তি এক না, দুইটার উদ্দেশ্য ভিন্ন।মূর্তির উদ্দেশ্য হলো পূজা করা।ভাষ্কর্য এর উদ্দেশ্য হলো শিল্প বা সৌন্দর্য চর্চা।যেহেতু ইসলাম একেশ্বরবাদী ধর্ম।সেখানে বহুইশ্বরবাদের মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ।তাই মূর্তি বানানো চলবে না।ভাষ্কর্য বানানো চলবে।সেখানে একই গলদ ধর্ম দিয়ে দুনিয়া যাচাই।ধর্ম যেটাকে বৈধতা দিবে তাই কেবল জায়েজ।বাকি সব নাজায়েজ।ভাষ্কর্য বা মূর্তিকে এখন যে কনসেপ্টে দেখা হয়, একসময় তা সেইরকম ছিলনা।ভাষ্কর্য বা মতান্তরে মূর্তি তা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।একটা সময় ধর্মের হাত ধরেই শিল্পের চর্চা শুরু হয়েছিল।তারপর নানা ধর্মের আবির্ভাব হয়েছিল।শিল্পচর্চার ও নানা বিকাশ হয়।শিল্প যেমন ধর্মের তাৎপর্যে তৈরী হয়, সৌন্দর্যের তাৎপর্যেও শিল্প তৈরী হয়।সমাজে একেশ্বরবাদের যেমন স্থান রয়েছে, তেমনি বহুশ্বরবাদের ও স্থান রয়েছে।কেউ কারো বিশ্বাসে নাক গলানোর অধিকার থাকতে পারে না।কেউ যেমন ধর্ম পালনের তাৎপর্যে মূর্তি বানাতে পারে।পারে সৌন্দর্যের তাৎপর্যেও ভাষ্কর্য বানাতে।পারে মসজিদ এ গিয়েও নামাজ পড়তে, একেশ্বরবাদ চর্চা করতে।
তাই মূর্তি বনাম ভাষ্কর্যের বির্তক হাস্যকর।আর অন্য ইসলামী দেশগুলো কিভাবে ভাষ্কর্য বনাম মূর্তিকে বিবেচনা করে, তা যুক্তিতে যোগ করা আরো হাস্যকর।প্রত্যেক সংস্কৃতি ভিন্ন, তাদের বিদ্যাবুদ্ধিও ভিন্নতর।
ভাষ্কর্য বা মূর্তি নিষিদ্ধ হলে শিল্পকলার এই বিভাগ উঠে যাবে।এই চর্চা শুধু নিছক শিল্পচর্চা না, শিল্পকলার নানা প্রয়োগিক ক্ষেত্র যেমন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন এর মূল সূতিকাগার।যে কোন জিনিসই গড়তে হলে তার আগে ডিজাইন করা লাগে।নিত্যাদিন আমরা যে কাপে করে চা খাই বা চেয়ারে বসি তারও ডিজাইন করা লাগে।কোন জিনিস নাই যে তার যার ডিজাইন করা লাগে না।তাই এই শিল্পচর্চা নিষিদ্ধ হলে সব প্রগতির মূল বিনাশ হবে।সমাজ, সংষ্কতি কোন এক রৈখিক পথে আগায় না।তা বহুরৈখিক পথে নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে আগায়।তাই সমাজে সহনশীলতার পথ তৈরী করতে হবে।আমাদের পৃথিবী বহু জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ।এই বৈচিএ্য আমদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।আনন্দিত করে।এই বৈচিএ্য আমদের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, বিভেদে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




