
বর্তমান সময়ে নারীদের উপরে সহিংসতার একটা ধরন হলো সাইবার ভায়োলেন্স। এখন ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার স্পেসে নারীর উপর সহিংসতা। নারীর উপর প্রতিশোধ নিতে কিংবা মানহানি করতে ব্যাক্তিগত ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে তার সামাজিক মান মর্যাদা ধুলায় মিশে যায়। এই বিষয়গুলো বেশিরভাগ সময়ে ঘটে প্রণয় ঘঠিত ক্ষেত্রে। যেখানে নারী কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে তার প্রতিশোধ স্বরুপ এমন করা হয়। আর অনেক ক্ষেত্রে প্রেমের ফঁাদে ফেলে ব্যাক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে, ব্ল্যাকমেইল করা হয় টাকা বা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য। যা নারীকে মানসিক ভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে ফেলে। আর এই বিষয়গুলো এমনই স্পর্শকাতর যে, ভুক্তভোগী সহজে আইনের সহয়তা নিতে চান না জানাজানি কিংবা মানসম্মান হারানোর ভয়ে।
বেশ কিছুদিন আগের একটা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তোলে। সেটা হলো একজন নারীকে উলংগ করে মারধোর করা হয় এবং ভিডিও করা হয়। কারণ সে তার সম্পত্তি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সেটা আবার ভাইরাল করে দেওয়া হয়।
আসলে, যেখানেই লোকজন নারীর কন্ঠস্বর শোনে সেখানেই তারা নারীর কন্ঠ রোধ করতে চায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে সব নারীদের ফেসবুক প্রোফাইল কালোয় ভরে উঠে। এই রকম দু'চারটি ঘটনা সবার সামনে আসে। বাকি ভুক্তভোগীরা নীরবে সব সহ্য করে।
এই সমাজ ব্যাবস্থায় নারীদের সাধারণত আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করার বুনিয়াদ তৈরি করা হয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে, নারীরা সহজেই প্রতারণার ফঁাদে পা দেয় জীবন জীবিকার তাগিদে।
নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, জনসচেতনতা আর আইনের যথাযথ প্রয়োগই পারে নারীকে নিরাপদ রাখতে সাইবার স্পেসে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




