somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোবাকান্না

০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(আমার অতি কাছের এক স্বপ্ন চারিণীকে নিয়ে লিখা শিরোনাম)
কোনো একদিন গোমতীর তীরে মিঠেল এক গ্রামে ছোট কুটিরে কেঁদে উঠেছিলে তুমি।হেসে উঠেছিল রক্তের আবদ্ধতা। মা,বাবা ভাই,বোন সবার কাছে ছিলে নীলকান্তমণি হয়ে।লালিত হয়েছ শত আদর-যত্নে।তুমি ছিলে প্রাণবন্ত সজীব। শিশু কালের দিনগুলো ছিল দুষ্টামি ভরপুর।এভাবে কেটে গেছে দিন।একসময় শৈশবের অন্তময় আবেষ্টনী পিছ ফেলে কৈশোরের অবুঝ দিনগণণার শুরু।কখন মোরগের ডাকে কখনোবা মায়ের ডাকে ঢুলুঢুলু ঘুম চোখে উঠে বসতে।মা যখন গ্রার্মমক্তবে পাঠাতে প্রস্তুত করত তখন কেঁদে উঠতে তুমি।তারপর,নানা রকম অবুঝ বুঝ দিয়ে তোমায় শান্ত করা হত।ছুটে চলতে জীবনের অবাধ্য নিয়মে মক্তবপাণে।মওলানা সাব বড় একটি বেত নিয়ে পড়াতেন আলিফ,বা।
গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে তুমি-তোমরা।কিন্তু মন তো আর দেয় না সায় ছুটে যেতে ইচ্ছে করে ঐ নীলিমার বুকে দিকদিগন্ত সবুজের মাঝে মিশে যেতে।ওষ্ঠে রাঙা হাসি বুকে জীবন জাগানো স্পন্দনে কেটে গেছে কৈশোর।তখন তুমি চিনেছ নিজেকে নিজের জীবনকে।জানতে পেরেছ তুমি বেচে থাকা নামে একটা যুদ্ধ আছে। তবুও হারিয়ে যায়নি নন্দনের নান্দিকতা।অন্তরে মন্তরে ঘুমিয়ে যায়নি পাপড়ি পাতার বন্ধন।শিক্ষিকার চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধ্য মনের প্রবোধে ছুটে চলেছ জলে গাঁ ভেজাতে।সে'কি আনন্দ!!ভেজা পথঘাট ভেজা শরীর। অত:পর, ঘরে ফেরা ভিজে জুবুথুবু হয়ে।মন তো সুখের আবেশে ইচ্ছে জয়ের পূর্ণতায় ভরপুর কিন্তু তোমা উপর নেমে এসেছিল বৃষ্টি ভেজা অভিশাপ। মায়ের বকুনি যা ধরণীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার,সে উপহারের সিক্তততার উদ্ধে মা যখন বিধ্বস্ত চেহারা দেখে কপালে তার মায়াবী ছোঁয়া দেন তখনি নিভে যায় মা-মনের লক্ষ-কোটি তারকারাজি। আদর যত্নের স্পষ্টতার প্রাচীর ঘেরা কক্ষপথ ও তার বিপরীত প্রান্তরে থিতু হয়ে আবার শুরু হয় সাধারণ অবাধ্য জীবন। সোনা রোদের ঝিলমিলে এক আচড়ে একে ফেলে হাজার রকমে রাঙা সোনালি স্মৃতিপথ সাথে করে শেষ করেছো জীবনের আরেকটি অধ্যায়। তখন তোমার মাঝে জেগে উঠেছে নারীর নারীত্ব। দূরদর্শী স্বপ্ন নিয়ে জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে লাড়ুকে নাবিক হয়ে ঝাপ দিয়েছিলে মাতাল জল তরঙ্গিণী মাঝে।জীবনের নির্মম সত্য সাথে করে পারি দিতে চেয়েছিলে টাইটানিক ভেলায় করে উত্তাল সমুদ্র।হারিয়ে গিয়েছিলে ক্ষণেক্ষণে টাইটানিকের অভন্তরে।কেটি হয়ে ঘুরে বেড়াতে জাহাজের এপাশ ওপাশ। মাঝ থেকে উদিত হয়েছিল উত্তপ্ত চরিত্র এন্ডারসোন ও পিটার।পথের কাটা হয়ে ব্যাঘাত ঘটাত শিক্ষা জীবনের।আবার জলতরঙ্গ মৃত্যুর হাতছানি যখন দিয়ে উঠেছিল ঠিক তখনি দেখা পেয়েছিলে বিলের।জীবনের গল্প বাক নেয় রুপকথায়।বিলের কাল্পনিক চরিত্রে থাকা সত্তার চারিত্রিক মাধুর্য সুর অতীন্দ্রিয়বাদ তোমা চেতনাকে আত্মস্থ করেছে।সে সত্তার ভালবাসার অতল গভীরতায় ডুব দিয়েছিলে মন-প্রান উজাড় করে ভালবাসার চেতনায়।ভালবাসা ও ভাললাগার হিল্লোলে প্রতিবিম্বের আলোকে বিগূঢ় সংলাপে অধরা হয়ে মিশে পারি জমিয়েছিলে আটলান্টিকের উত্তর কোণ।তারপরই বিপত্তির শুরু।সামান্য কিছু মান-অভিমান দু'সত্তাকে আলাদা করে দেয়।বিলের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় ৩য় তালা।আস্তে আস্তে দূরে সরে যায় বিল ও কেটি একে অন্যকে ছেড়ে। আজ এক্ষনেও বিলের আকুতি কেটির সে কাল্পনিক সত্তা ফিরে আসুক তার বুকের বাম প্রকোষ্ঠে। সে তার জন্য উজাড় করে দিতে চায় ভালবাসা।
তখন তুমি প্রথমা যৌবেনে,মাত্র সতেরো বছর। সামনে দারিয়ে যায় জীবনকালের মর্মান্তিক বাস্তবতা। নিজের চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছের বিপরীতে অনেকটা জোর পূর্বক, গ্রামের মুরব্বিদের কুসংস্কারাপন্ন হয়ে বসতে হয়েছিল বিয়ের পিড়িতে।নিজের ভালবাসার মানুষ কাল্পনিক বিলের সত্তাকে মাটি চাপা দিয়েছিলে। নিজের জীবনকালকে নিয়ে হৃদয় ক্যানভাসে রং-তুলিতে রাঙা করেছিলে অজস্র স্বপ্ন,অনেকটা মুখথুবড়ে পরেছিল স্বপ্নময় গতিপথ। নতুন বউ প্রথমত সোহাগে মাতোয়ারা ছিলে তুমি।কিছুদিন তারপর, গিরগিটীর মতো রঙ পাল্টাতে থাকে শুশুর-শাশুড়ি।কাজের ছেমড়ির মতো দৃষ্টিপাত করতে শুরু করে তোমা প্রতি। তুমি যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন ভারি ভারি সব কাজ এমনকি গোসলের জন্য পানি তুলে নিত তোমায় দিয়ে তোমা ননদ।সবকিছুর পরও প্রাণপ্রিয়র ভালবাসা মেঘ হয়ে ছায়া দিয়েছে।মচকে গেলেও ভেঙে যাওনি।ধীরেধীরে ফিরে পেয়েছো নিজেকে নিজের ভিতর।একটা নারী জীবনের সবথেকে বড় স্বপ্ন "মা" হওয়া।সেই স্বপ্নরূপে তুমি সফল হয়েছো।দীর্ঘ দশ মাস দশ দিন চরম কষ্টভোগ করে কোলজুড়ে এসেছিল ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান। যার চাঁদ বদনের দিকে তাকিয়ে বেচে থাকার সব ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।আস্তে আস্তে সে বড় হয়ে উঠে ঠিক তোমার মতো করে।কিন্তু সে খুব দুষ্টু।যখন সে অসুস্থ তখন তোমার ব্যাকুলতা....আমা দেখা দু'টি অনিদ্র রজনী জানা নেই এমন কতো নিদ্রাহীন নিশি পিছ ফেলে এসেছো।এ ইট পাথরের নগরী যানবাহনের বহরী উপরে উদাস আকাশ নীচে নরম সবুজ গালিচা মাঝে রাঙা দুনিয়া শহুরে দেয়াল বেয়ে উঠা আধার জীবন চলে যায় নিজ গতিতে।কখন জীবন ভরপুর মাধুরতায় আবার কখনোবা তিক্ততায়।এই তো আমাদের জীবন।কোন কিছু তে মিল না থেকেও সব মিলিয়ে আমরা এক।শূন্যতার বৃত্তে ঘুরে শূন্যতায়ি ফিরে যাবো জাঁকালো নাগরীর বুকে উদাস নিশ্বাস ছেড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৫৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×