somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ভেবে দেখলাম দেশটা ভারত হয়ে গেলে মন্দ হয়না :-?

০৫ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানি এই কথাটা সবার সামনে বললে নির্ঘাত থাপ্পর/ লাথি খাওয়া লাগত। বাট ব্লগে যেহেতু সেইটা খবার সম্ভবনা নাই তাই মনে যেটা সল সেটা বলে ফেললাম। যারা আমাকে এখানে মোটা মুটি চিনেন তারা জানেন ভারতের ব্যাপরে আমার মানসিকতা কেমন। কোনভাবেই ভারতকে সহ্য করতে পারিনা। আমার প্রিয় খেলোয়ার টেন্ডুলকার হবার পরেও নানা কারনে ভারতকে সাপোর্ট করিনা।

২০/৩০ বছর আগে দেশের অবস্হা কেমন ছিল তা জানিনা। সামনে কেমন হবে সেটাও জানিনা। আমি ভাবছি এখনকার কথা। দেশে বর্তমানে এমন এক সরকার আছে যারা পারলে কালকেই ভারতকে দেশটা হ্যান্ডওভার করে দেয়। তারা ভারতের কাছে অনুগত কারন ভারত রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে পাওয়ারে আনতে নানাভাবে হেল্প করেছে। দেশের স্বাধীনতাকামী ও বাংলাদেশের জাতীয়তায় বিশ্বাসী কেউই চাইবে না এত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া দেশটাকে অন্য কারো হাতে তুলে দিতে। কিন্তু মনে মনে কিছু ব্যাপারে ভেবে আমার কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অন্গরাজ্য হিসাবে দেখতে খুব একটা খারাপ লাগছে না। বাংলাদেশ ভারত হয়ে গেলে যেসব সুবিধা আমরা পেতে পারি তা হল-

পাসপোর্ট:

আমি দেশের বাইরে থাকি। তাই সবার আগে পাসপোর্ট ভিসার ব্যাপারটা মাথায় এসেছে। যাহোক শুনতে খারাপ লাগলেও বাস্তবতা হল বাইরের উন্নত দেশগুলোতে যাবার ব্যাপারে আমাদের দেশের পাসপোর্টের কোন মূল্যই নাই। বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা পাওয়া যত কঠিন ভারতের পাসপোর্টে ভিসা পাওয়া ততটাই সহজ। ভারতীয় পাসপোর্টে এদেশের ছাত্ররা সহজেই লেখাপড়া করতে ভিসা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে পারবে। শ্রমিক ভাইয়েরা মিডিলিস্টে গিয়ে কাজ করে ডলার কামাতে পারবে।

নদী

পদ্মা তিস্তা শ অনেক বড় নদী ভারতের বুক বেয়ে আমাদের দেশে আসে। বাংলাদেশের গন্ডমূর্খ কুটনিতীকদের বাপেরও সাধ্য নাই যে আলোচোনা বা চুক্তি করে আমাদের প্রাপ্য নদীর পানি পাওয়া নিশ্চিত করবে। তারচেয়ে দেশ ভারত হয়ে গেলে ভারত অবশ্ই চাইবে যেন তাদের এই নতুন অন্গরাজ্য পানি তথা কৃষি আবাদ নিয়ে ঝামেলা না হয়। তাই নিজেদের স্বার্থেই নদীর পানি ঠিকমত বন্টনের ব্যাবস্হা করবে। শহরে বা দেশের বাইরে বসে আসলে বুঝা যায়না বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের জীবনে নদী কত ইম্পর্টেন্ট বিষয়। আমার বসয় কম। এই কম বয়ষেই নিজের চোখে দেখলাম কত নদী শুকিয়ে গেল। আমাদের রাজশাহীর পদ্মা, নাবাবগন্জের মহানন্দা ইত্যাদি। নদী না থাকলে পানি নাই। পানি নাই তো চাষবাস নাই। চাষবাস না থাকলে জেনারেশানের পর জেনারেশন কৃষি কাজ করে খাওয়া মানুষগুলা স্রেফ মারা যাবে বা যাচ্ছে।

জিনিসপত্রের বাজার দর

গরু, চিনি, ডাল, পেয়াজ, আলু, রসুন থেকে শুরু করে মোমবাতি পর্যন্ত এখন ভারতে থেকে আমদানি করা হয়। হতে খাতা নিয়ে বাজারে ঘুরে দেখুন ও লিস্ট করুন কয়টা পণ্য পিউর মেড ইন বাংলাদেশ। ম্যাক্সিমাম জিনিস ভারত থেকে আসা। আপনার বাসায় যা কিছু আছে সেহুলোর কয়টার অরিজিন বাংলাদেশ। দেশ ভারত হয়ে গেলে এসব পন্য আনতে ট্যাক্স দেওটা লাগবে না। ভুড়িমোটা ইমপোর্টকারী ব্যাবসায়ী নিজের খেয়ালখুশিমত দাম বাড়াতে পারবে না। স্বাভাবিকভাবেই দাম কমতে বাধ্য। সেই সাথে আমাদের কারেন্সি যেহেতু রূপী হবে সেহেতু যেকোন প্রোডাক্ট এর স্যম্পল ভ্যালু বেশি হবে।

ডিজুস পোলাপান

ডিজুস পোলাপান সব দেশেই আছে। ডিজুস পোলাপানের আবার দুই ভাগ আছে। এক. চালাক ডিজুস, দুই. গাধা ডিজুস। চালাক ডিজুস পোলাপান ইয়ো লাইফিস্টাইলের সাথে সাথে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে সর্বদা সজাগ। তারা পিজা বা কফি সপে কাজ করে নিজের পকেট মানি যোগার করাকে স্মার্টনেস মনে করে। যেভাবেই হোক বা যে কারণেই হোক ইন্ডিয়ার পোলাপানেরা এই গ্রুপে পড়ে। আনফরচুনেটলী আমার দেশের পোলাপান ইস্টাল মারা শিখেছে কিন্তু বাপের টাকায়। বসে বসে বাপের হোটেলে খাওয়া কনদিনও আমাদের দেশে অসম্মানজনক না। আশা করছি দেশ ভারত হলে এরা লাইনে আসবে।

লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা হয়ে গেছে তার মাথায় ঘুরপাক খাওয়া অনেক কিছু লিখতে পারলাম না। হয়ত অনেকে ১৯৭১ কে টেনে আনবেন। বলবেন তাদের রক্তের মূল্যের কথা। কিন্তু আমার কথা হল ২০০৬ সালে আমি নিজে ৬০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনেছি, আজ সেটা ১৮৫ টাকা। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ গরীব। ভাল জীবনযাপনের কথা বাদই দেন অনেকে কেবল দেহটাকে বাচিয়ে রাখা নিয়ে যুদ্ধ করছে। সেসব মানুষের কাছে ১৯৭১-এর মূল্য কি? স্বাধীনতা তো আর সিদ্ধ করে খাওয়া যায়না?

অনেকেই বলবেন এভাবে হতাশ হলে চলবে না। নিজেদেরকেই 'কিছু একটা' করে সব সমস্যা সমাধান করতে হবে। হুম... আমার কাছে সেই কিছু একটা মানে খালেদার বদলে তারেক আর হাসিনার বদলে জয়। যেই লাউ সেই কদু।

*** আমার এই লেখায় কেউ কস্ট পেয়ে থাকলে নিজ গুনে মাফ করে দিবেন।:(
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×