বাসে চলাটাই মেয়েদের জন্য যেন বিশাল একটা ঝক্কি! প্রথমে হাজারো মানুষের সাথে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এরই মধ্যে চলে পুরুষদের খুনসুটি। কেউ চলতে চলতে হঠাৎ ধাক্কা খায়; তারপর তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়েই আবার হাঁটা শুরু করেন, কারো কলম কিছুক্ষন পর পর মাটিতে পড়ে যায়... মানে সব মিলিয়ে অদ্ভুত অবস্থা! তাই বাস আসার পর অপেক্ষা করি; পুরুষগুলো যখন বাসের দরজায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাখন ওদিকে যেতে আমার সাহস হয় না! ভীড়ের মধ্যে পড়লে একটা মেয়ের যে কি অবস্থা হয় তার দৃশ্য অনেকবার আমার নিজের চোখে দেখা। ভীড় কমলে এগিয়ে যাই বাসের দিকে। তারপরে রক্ষে নেই! হেল্পার সোজা পিঠে হাত দিয়ে কি যেন খুঁজতে থাকে। তারপর ঠেলা দিয়ে বলে "ওঠেন আপা.."। কড়া স্বরে ধমক দিলে দাঁত বের করে হাসে। অবশ্য একবার বাসের পুরুষরা এই কারনে এক হেল্পারকে ধরে আচ্ছা করে পিট্টুনি দিয়ে ছিলো (হিহ হি..)।
বাংলাদেশের বাসে উঠলে দশ বারের মধ্যে ছয় বারই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এটাই স্বাভাবিক। আমিও দাঁড়িয়ে থকি। মাঝে মধ্যে গাড়ি ব্রেক করলে অনেকে প্রায় উড়ে এসে ঘাড়ে পড়ে। আমার কথাগুলোতে হয়তো বা আপনরা টিন-এজ বা যুবক ধরনের পুরুষকেই বারবার কল্পনা করছেন। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে এরা মধ্যবয়স্কদের চেয়ে অ-নে-ক ভালো। এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকিয়ে থাকে। আর রসিক হচ্ছেন মধ্যবয়স্করা। এরা বাসে মাঝে মধ্যে পকেট থেকে রুমাল বা অন্য কোন কাজের ছুঁতোয় দেহের উপারাংশে কনুই দিয়ে গোঁত্তা দেবার চেষ্টা করেন।
তবে এটা বলছি না; পুরুষরা সবাই খারাপ। অনেক পুরুষ অনেকবার আমাকে বিভিন্ন বিব্রতকর অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন। কাজ করতে গিয়ে অনেক পুরুষই আমাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছেন। আমার আফসোস অন্য সবাই এদের মতো কেন হয় না!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



