somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যালোইন ডে এর আদি-অন্ত

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কর্পোরেট দুনিয়া এবং মিডিয়ার কল্যাণে বেশ কিছু পশ্চিমা রীতির মত হ্যালোইনও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত বছরও তেমন কিছু হয়নি এবার অস্তিত্ব কিছুটা জানান দিচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে ভবিষ্যৎ জনপ্রিয়তা। আমাদের বর্তমান সমাজের একটি অসাধারন বৈশিষ্ট হল আমরা পশ্চিমা রীতি বা অনুষ্ঠান গুলো না বুঝে না জেনে অন্ধের মত অনুসরণ করি (গড্ডালিকা প্রবাহ- বাগধারাটির কেন প্রচলন হয়েছিল বুঝতে পারছি)। হ্যালোইন এর প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন মধ্য এবং পশ্চিম ইউরোপে যা কেল্ট নামে পরিচিত অর্থাৎ বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এর উচ্চ ভূমি এবং ফ্রান্স এর উওর অংশ। এই এলাকায় প্যাগানদের একটি বিশেষ জাতির বাস ছিল। তারা বিশ্বাস করতো ফসল কাটার মৌসুমের শেষ দিন এবং শীতকালের প্রথম দিন রাতে মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে আসে তাই তারা ভুত সাজতো যেন ঐ আত্মা গুলো তাদেরকেও আত্মা ভেবে ভুল করে। এরাতে তারা সবাইকে মিষ্টি দিত এই আশায় হয়তো ভুল করে আত্মাকেও দিবে কারন আত্মা মিষ্টি পছন্দ করে এবং এটা পেয়ে খুশি হয়ে তারা তাদের অশেষ উপকার করবে। এখান থেকেই চকলেট দেওয়ার প্রচলন।


হ্যালোইন ডে এর প্রধান প্রতীক ‘the Jack-O-Lantern’ এটা হল কুমড়ার মধ্যে একটি মোম বাতি দেওয়া এবং সামনে বিকৃত মুখ আকৃতি দেওয়া। এটা দ্বারা বোঝায় আত্মা গুলো কষ্টে আছে কিংবা আত্মার স্বর্গ এবং নরকের মাঝা-মাঝি অব্যস্থান।
আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ নিজেকে স্মার্ট এবং আধুনিক প্রমান করতে হ্যালোইন পালন করেন। আবার অনেকের মত নিছক আনন্দ এর জন্য এই অনুষ্ঠান এ যোগদান। এটা ধর্মীয় বা সংস্কৃতি দুই দিক দিয়েই ক্ষতিকর।
নিজের সংস্কৃতির হাজার অনুষ্ঠান রেখে অন্য গোষ্ঠীর কুসংস্কার এবং বিকৃত অনুষ্ঠান (ভালো গুলো যেমন ফাদার বা মাদার ডে গ্রহণকে আমি বিরোধিতা করছি না) গ্রহণ করা মানে নিজের সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের অনুষ্ঠান গুলোকে জাদুঘরে গিয়ে খুঁজতে হবে।

মুসলিম ধর্মীয় দিক থেকে এটা পালন করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। বেশ কয়েকজন ইসলামি স্কলার এতে অংশ নেওয়া হারাম বলেছেন কারন
এক- ইসলাম প্যাগানদের কুসংস্কার এর অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে আলো দেখানোর জন্য এসেছে।
দুই- ইসলাম মতে যে যাদের সাথে থাকবে কেয়ামতের দিন তাদের সাথেই উঠবে।
তিন- এ সব অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার একটি সাইকোলজিক্যাল প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে গেলে আপানি তাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে যাবেন সব কাজেই তাদেরকে অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন।
তিন – ইসলাম মুসলমানদের প্যাগানদের কোন অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাফসীরে কুরতুবিতে বলা হয়েছে একবার মহানবী (সা.) কাবা তাওয়াফ এর সময় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করেছিলেন তখন কুরায়েশগণ তাকে বাঁধা দিয়ে বলে আমাদের দেবতার নিকটে না গেলে তোমাকে তা স্পর্শ করতে দেব না। তখন রাসূল (সা.) মনে মনে ভাবছিলেন হাজরে আসওয়াদ স্পর্শের বিনিময়ে মূর্তির কাছে গেলে কি পাপ হবে? আমি যে মূর্তি অপছন্দ করি আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। আল্লাহ রাসূল সা. এর এমন চিন্তা অপছন্দ করেন এবং তখন সূরা বনি ইসরাইল এর ৭৪-৭৫ আয়াত নাযিল হয়।
“আমি যদি তোমাকে দৃঢ়পদ না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকতে পড়তে তখন আমি অব্যশই তোমাকে ইহ ও পরকালে দ্বিগুন শাস্তি আস্বাদন করাতাম, এ সময় তুমি আমার মোকাবেলায় কোন সাহায্যেকারী পেতে না”
অর্থাৎ কোন অজুহাত দিয়েই প্যাগান অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া যাবে না।
পুনশ্চঃ
1. অনেক নন কেল্টিক ইউরোপিয়ান দেশ এবং আমেরিকার কিছু দেশে এটা পালন হয় না তারা বাঙ্গ করে এই দিনকে beggars day বা ভিক্ষুকের দিন বলে।
2. Differ me by knowledge not emotion.
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×