
পান্তা কোন বিলাসী খাবার না। কখনো রাতে ভাত বেঁচে গেলে গ্রামের কষৃক বা দরিদ্র মানুষ সে ভাত পানি দিয়ে রাখতো। কারন ভাত অপচয় করার মত অবস্থা তাদের নেই। সকালবেলা এই পানি দেওয়া ভাত হতো নাস্তা। আর ইলিশ বাংলার সবচেয়ে দামী মাছ। ইলিশ ভাজি একটা বিলাসী খাবার। উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের খাবার। মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের ইলিশের তরকারি হয় এবং সেটা হয় সাধারণত দুপুরে বা রাতের খাবারের সাথে। সকালবেলা পান্তা ইলিশ বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন জায়গাতেই ছিল না। ১৯৮৩ সালে কয়েকজন বাম-ঘরনার সাংস্কৃতিক কর্মী ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য ছায়ানটের অনুষ্ঠান স্থলে পান্তা ইলিশ বিক্রি শুরু করে [https://goo.gl/sRSHMT]। এরপর হলুদ মিডিয়া এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই আইডিয়াকে লুফে নেয়। শুরু হয় অবিচেক হলুদ মিডিয়ার প্রচারনা এবং ব্যবসায়ীদের বিজ্ঞাপন। কয়েক বছরের মধ্যেই অন্তঃসার শুন্য শহুরে মধ্য এবং উচ্চবিত্ত বাঙালী একে হাজার বছরের ঐতিহ্য বলতে শুরু করে।
এর ফলাফল হয় খুবই নেতিবাচক, কারন এই সময়টা ইলিশ মাছ প্রজননের মৌসুম। ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওলা ইলিশ ধরা হয়। ইলিশের উৎপাদন আশংকাজনক কমে যায়। তবে আশার কথা হল দেরিতে হলেও সরকারের টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী গনভবনে পহেলা বৈশাখে ইলিশ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং বিবৃতি দিয়ে বৈশাখে ইলিশ না খেতে অনুরোধ করেছেন [https://goo.gl/FtiUgL]। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইলিশ নিষিদ্ধ করেছে [https://goo.gl/gkLNkj]। এছাড়া বেশ কয়েকটি জেলা প্রশাসন একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি টিভি স্টেশন সময় টিভি ইলিশ বন্ধের আহবানে বানানো একটি চমৎকার ক্লিপ দেখলাম কাল । বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের মতে, বৈশাখের পান্তা-ইলিশের জন্য ‘শহরের কিছু শিক্ষিত নাগরিক’ দায়ী । লেখক যতীন সরকার পান্তা ইলিশকে অবিহিত করেছেন “বানোয়াট সংস্কৃতিচর্চা” [https://goo.gl/P46CkL]।
#ইতিহাস_পাঠ ৩
#পহেলা_বৈশাখ ৩
#KnowYourHistory
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



