somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৭) - কানাডার স্কুল ভ্রমণ এবং দেশীয় মফস্বলের স্কুলের টুকরো স্মৃতি!

১২ ই জুন, ২০১৮ সকাল ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বের সারসংক্ষেপ: কানাডিয়ান স্কুলে গিয়ে খুব সহজেই ভর্তি হয়ে গেলাম। ভর্তির পরে কাউন্সিলর আমাকে পুরো স্কুল দেখাতে নিয়ে গেলেন।

পূর্বের পর্বগুলোর লিংক:
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১) - প্রথমবার প্রবাসে প্রবেশের অনুভূতি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (২) - জীবনের গল্প শুরু হলো এইতো!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৩) - সুখে থাকতে কিলায় ভূতে! (কুইজ বিজেতা ঘোষিত)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৪) - বাংলাদেশ ভার্সেস কানাডার দোকানপাট, এবং বেচাকেনার কালচার! (কুইজ সলভড)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৫) - কেমন ছিল কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তি হবার প্রস্তুতি পর্ব?!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৬) - কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তির ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা!
পূর্বের সিরিজের লিংক: কানাডার স্কুলে একদিন এবং কানাডার স্কুলে একেকটি দিন

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমি ধীর পায়ে, ভয়ে ভয়ে কাউন্সিলর কে ফলো করছি। এই প্রথম কোন বিদেশীর সাথে একা! অস্বস্তি বোধ হচ্ছে, উনি কখন কি জিজ্ঞেস করে ফেলেন! কি না কি বলব!

মেইন অফিস থেকে বেড়োনোর কয়েকটি দরজা। যে দরজা দিয়ে প্রথমে বাবা মার সাথে ঢুকেছিলাম, সেটি না, অন্য একটি দিয়ে বের হলেন তিনি। আমাকে নিয়ে লবি দিয়ে পার হচ্ছেন আর একেকটা ক্লাসরুম বাইরে থেকে দেখাচ্ছেন।

ভেতরে যেতে পারিনি বিধায় বেশি বুঝতে না পারলেও এটা বুঝলাম যে ক্লাসরুমগুলো দেশের মতো না। এখানে লম্বা লম্বা বাদামি কাঠের বেঞ্চ নেই, সিংগেল চেয়ার আর ডেস্ক। খুব একটা পছন্দ হলো না ক্লাসরুমগুলো। দেশের ক্লাসরুমগুলো অনেক খোলামেলা, বড় ছিল।

বেশ কয়েকটি লবি ডান বাম করার পরে একটা বিশাল এরিয়ায় এলাম। এরিয়াটিতে গ্যাপ দিয়ে দিয়ে লম্বা টেবিল, টেবিলের দুদিকেই মুখোমুখি করে বসার জায়গা। সেটা ছিল ক্যাফেটেরিয়া। কাউন্সলির আমাকে নিয়ে গেলেন ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণায়, সেখানে ছোটখাট দোকান টাইপ ছিল! দোকানটির পাশে ছিল একটি ভেন্ডিং মেশিন, তাতে রাজ্যের সব ড্রিংকস, চিপস রাখা। দেশে টিচারেরা এসব খেতে মানা করতেন, আর এখানে পুরো এক মেশিন বসিয়ে রেখেছে!

দোকানের সামনে দাড়িয়ে কাউন্সিলর বললেন, "হুমম, ফ্রেশলি বেকড মাফিন, স্মেলস সো গুড!"
মাফিন একধরণের কেক, শুকনো, খুব টেস্টি কিছু না খারাপও না, খাওয়া যায়। কানাডায় এসে আমি খেয়েছি। এটা নিয়ে কেউ এত সুন্দর এক্সপ্রেশন দিতে পারে! আগে না খেলে ওনাকে দেখে আমি ভাবতাম বেহেশতী খাবার!

আমি মনে মনে দেশের কথা ভাবছি। ক্যাফেটেরিয়া তো ছিলনা। টিফিন নিয়ে ক্লাসেই আসত একজন খালা। একেক দিন একেক নাস্তা থাকত। আমাদের সবচেয়ে অপছন্দের ছিল কলা এবং ডিম জাতীয় কিছু পাওয়া। সবচেয়ে পছন্দের ছিল লুচি, সমুচা, ডাল পুরি বা অন্য যেকোন ঝাল ভাজা খাবার এবং লাড্ডু, কালো মিষ্টি! টিফিনের এক পিরিয়ড আগে থেকে সবারই খিদে পেয়ে যেত এবং সবাই মনে মনে প্রার্থনা করতাম আজ যেন ভালো কিছু আসে!
বাড়ি থেকে টিফিন নিতাম আমরা, তবুও স্কুলের টিফিনের স্বাদই আলাদা ছিল। এসব ভাবতে ভাবতে ঐ ঝাল ঝাল সমুচাটা খেতে খুব ইচ্ছে করা শুরু করল! বিদেশে গেলে হুটহাট দেশের অনেককিছু খেতে ইচ্ছে করে। মারাত্মক ভাবে করে। মনে হয় কোটি টাকার বিনিময়ে একটি ফুচকা লসের ডিল না! আমার শুধু নিজেই খেতে ইচ্ছে করছিল না, কাউন্সিলর মহিলাকেও সমুচা খেতে দিতে ইচ্ছে করছে। তাহলে উনি আসল টেস্টি খাবার কি তা বুঝতে পারবেন!

সেই দোকানে যিনি কাজ করছিলেন তাকে দেখিয়ে বললেন, "শি ইজ ফ্রম ব্যাংলাদেশ, আওয়ার ব্র্যান্ড নিউ স্টুডেন্ট!"
দোকানি এমন বিশাল একটা হাসিতে মুখে ফুটিয়ে তুললেন যেন আমার উপস্থিতিতে তাদের স্কুল এবং দেশ ধন্য হয়ে গেছে! আমাকে বললেন, "ওয়াও! গ্রেইট! ওয়েলকাম টু আওয়ার স্কুল!"
আমি ততক্ষনে নিয়মটা ধরে ফেলেছি। যে যাই বলুক চওড়া হাসি দিতে হবে, আমিও ডাবল হেসে বললাম, "থ্যাংকস!"
উনি বললেন, "এখন যেহেতু তুমি আমাদের স্টুডেন্ট, প্রতি সকালে এমন অসাধারণ মাফিন দিয়ে দিন শুরু করতে পারবে। ডু ইউ লাইক মাফিন!?"
আমি মাথা নেড়ে হালকা হেসে হ্যাঁ বললাম।
ওমা! আমাকে পুরোপুরি বিব্রত করে দিয়ে কাউন্সিলর অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দোকানিকে বললেন, "শি ডাজন্ট লাইক মাফিন! লুক এট হার ফেস!"
দুজনে হেসে কুটিপাটি! আচ্ছা আচ্ছা তোমাকে মাফিন খেতে হবেনা বলে চোখ টিপলেন কাউন্সিলর।
আমি না না এমনকিছু না বলতে গিয়ে চুপ করে গেলাম। "সেরকম কিছু না" এর ইংলিশ কি জানি না তো! আর এমনিও উনি তো মনের কথা বুঝেই গিয়েছেন। এখন বলে কি হবে?
আল্লাহ কেন যে আমাকে এমন চোখ আর চেহারা দিয়েছেন যা দেখলেই মনের সব কথা বোঝা যায়! দেশ পেরিয়ে বিদেশের মানুষের কাছেও ছাড় পাইনা! ধুর!

সেখানে থেকে যেতে যেতে পথে থামিয়ে দেওয়ালের দিকে তাকাতে বললেন। দেখি ইন্ডিয়ার পতাকার মতো আঁকা, মাঝে কি যেন লেখা!
কাউন্সিলর জানালেন স্কুলে নানা জায়গায়, নানা দেশের পেইন্টেড পতাকার ওপরে সেই ভাষায় স্বাগতম লেখা আছে।
কাউন্সিলর জানতে চাইলেন আমি সেটি পড়ে বুঝতে পারছি কিনা? তিনি ভেবেছিলেন বাংলাদেশ আর ভারতের ভাষাগত মিল থাকতে পারে। আমি বললাম এটা সম্ভবত হিন্দিতে লেখা আর আমার ভাষা বাংলা। তিনি সম্ভবত আশা করেছিলেন ইন্ডিয়ার ভাষা বা কোনকিছু দেখে আমি কিছুটা হোম হোম ফিল করব। যেহেতু পাশের দেশ। তবে আমার অনাগ্রহ দেখে ইন্ডিয়া বিষয়ক আর কোন কথা বললেন না। বাংলাদেশ যে পাকিস্তান অথবা ভারতের মতো কিছু না, নিজের একটি দেশ, স্বাধীন সত্ত্বা সেটা ভাঙ্গা ইংলিশে এবং বডি ল্যাংগুয়েজে বুঝিয়ে দিলাম।

পুরো স্কুল হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল হলো স্কুলের প্রতি গলিতে জায়গায় জায়গায় ড্রিংকিং ফাউন্টেন আছে। সেই এয়ারপোর্টেও দেখেছিলাম। ছোট কলের মতো, টিপলে পানি বের হয়ে, মুখটাকে একটু কাছে নিয়ে গিয়ে পানি খেতে হয়।
দেশের স্কুলে ফাউন্টেন ছিল না, তবে টিউবওয়েল ছিল। কত যে মজা করতাম আমরা বান্ধবীরা টিউবওয়েলের কাছে! প্রচন্ড গরমে মাঝেমাঝে ক্লাসে কারেন্ট গেলে সেদ্ধ হয়ে যেতাম। তখন শুধু প্রার্থনা করতাম কখন টিফিন হবে আর আমরা প্রিয় টিউবওয়েলের কাছে যাব! সেখানে গিয়ে বারে বারে একজন করে কল চাপত আর বাকিরা হাত মুখ ধুতাম, একে অপরের দিকে ছিটাতাম। জানে শান্তি পেতাম।
বেশি ভিজে গেলে কি চিন্তা! কি চিন্তা! ক্লাসে টিচারের চোখে পড়লে তো শেষ হয়ে যাব! বাকি টিফিন পিরিওডটুকু রোদে দাড়িয়ে শুকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে থাকতে আবারো গরমের কবলেই পড়তে হতো!
সবকিছুর মধ্যেই একটা চঞ্চলতা ছিল। যাই হোক না কেন, হেসে হেসে একে অপরের গায়ে গড়াগড়ি খেতাম! খুনসুটি, মজায় পার হয়ে যেত একেকটি দিন। আচ্ছা, এখানে কি এমন সঙ্গী সাথী পাব আমি? অবাক চোখে স্কুলের নানা জায়গায় হেঁটে চলা উদ্ভট সাজ পোশাকের ও চুলের ছেলেমেয়েদের দেখে অনুভব করতে পারছি, হয়ত না!

উনি স্কুলটিতে ঘোরাতে ঘোরাতে পুরোটা সময়েই কিছু না কিছু বলে যাচ্ছেন। বাবাকে যেসব কমন প্রশ্ন করেছিলেন কানাডায় আসার ব্যাপারে আমাকেও করলেন। স্কুলটি কত ভালো, টিচাররা কত আন্তরিক সবকিছু বললেন। এভাবে সময় যে কখন কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না!
স্কুলটির নানা জায়গা দিয়ে বাইরে যাবার দরজা, আর এদিক সেদিক দিয়ে লবির মতো চলে যায়। একই রাস্তায় যাবার বেশ কিছু পথ আছে! আমাকে অন্য গলি দিয়ে ঘুরিয়ে আবারো কিভাবে যেন মেইন অফিসের সামনে নিয়ে এলেন! এবারে সেই দরজা দিয়ে আনলেন যেখান থেকে প্রথমে মেইন অফিসে এসেছিলাম।
আমাকে নিয়ে গেলেন রিশিপসনিস্টের সামনে। তাকে দেখিয়ে বললেন, "শি ইজ দ্যা বিজিয়েস্ট লেডি ইন আওয়ার স্কুল!" তিনি একটা অমায়িক হাসি দিলেন কাউন্সিলরের কথার প্রতিউত্তরে।
কাউন্সিলর আমাকে দেখিয়ে আবারো একই কথা বললেন, "শি ইজ ফ্রম ব্যাংলাদেশ, ফ্রম নাও অন এ স্টুডেন্ট অফ আওয়ার স্কুল!"
রিসিপশনিস্টও ওয়েলকাম জানালেন।

রিশিপশনিস্টের ডেস্কে একটা জারে আর্টিফিশিয়াল কিছু ফুল ছিল। খেয়াল করে দেখলাম পাশে একটা পেপার রাখা। কাউন্সিলর একটি ফুল বের করে হাতে নিলেন, আর আমি বুঝলাম এগুলো সাজানোর ফুল না! পেইন!
আমাকে বললেন, "যদি কখনো লেট করো, তবে এখান থেকে পেন নিয়ে এই পেপারে নিজের নাম লিখবে। আর রিশিপসনিস্টকে বলবে কি কারণে লেইট হয়েছ? তখন উনি তোমাকে এক্সকিউজ স্লিপ দেবে, সেই স্লিপটা টিচারকে দেখালে তবেই তোমাকে ক্লাসে ঢুকতে দেবে! আমাদের প্রিন্সিপাল মাস শেষে শিটটি রিভিউ করেন, যেসব স্টুডেন্টের নাম বেশি থাকে তাদেরকে ডেকে পাঠান। সো প্লিজ ট্রাই টু বি অন টাইম!"
আমি সজোরে মাথা নেড়ে জানালাম আমি লেইট হবো না, এবং আমি পুরো হাই স্কুল জীবনে দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সেই কথাটির মান রেখেছিলাম।

আমাকে নিয়ে তিনি তার অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন, এমন সময়ে কফি হাতে এক ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন পাশ দিয়ে। দেখতে বেশ ইয়াং তবে গ্রেইশ চুল দেখে মনে হলো বয়স্কই হবেন। লম্বা, একটু রাফ, শুষ্ক ফেস, ছোট করে ছাঁটা চুল।

কাউন্সিলর ওনাকে থামালেন এবং আমার দিকে ইশারা করে বললেন, "শি ইজ ইজ আ নিউ স্টুডেন্ট, রিসেন্টলি এডমিটেড। শি ইজ ফ্রম ব্যাংলাদেশ, মুভড টু কানাডা উইথ হার প্যারেন্টস।"
আর আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, "হি ইজ অল অফ আওয়ার বস, প্রিন্সিপাল অফ দ্যা স্কুল!"
আমি অবাক হয়ে গেলাম। ওনাকে মডেল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় তবে প্রিন্সিপাল!

দেশের স্কুলের হেডমিস্ট্রেসের কথা মনে পরে গেল। ভীষন রাশভারী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তাকে দেখলে ভয় লাগলেও আসলে তিনি সবাইকে স্নেহ করতেন খুব। মাঝেমাঝেই কানে আসত অমুক তমুক গরীব স্টুডেন্টকে সাধ্যমতো সাহায্য করেছেন। কোন শিক্ষক অসুস্থ হলে দেখতে চলে যেতেন। আদর্শ প্রধান শিক্ষিকা বলতে যা বোঝায় তাই ছিলেন।
কোন ক্লাসে কোন স্টুডেন্ট ভালো এবং কোনটা দুষ্টু সব তার মুখস্থ ছিল! তাকে সবাই এত ভয় পেতাম! উনি আমাদের টিচারদেরও টিচার এমন ভাবনায় সমীহ করতাম। হয়ত হেসে হেসে কারো সাথে কথা বলছি, তাকে দেখলে হাসি থামিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকতাম। উনি চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত প্রায় স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে থাকতাম সবাই! অনেক টিচারও হেড আপাকে দেখলে আমাদের বাচ্চাদের মতো আচরণ করতেন!
কিভাবে যেন মাঝেমাঝে ক্লাসে বেশ ভালো করে ফেলতাম। আমি সহ আরো কয়েকজনকে তখন হেড ম্যাডাম ঘড়ি, পেন্সিল বক্স, বই ইত্যাদি গিফট করতেন ক্লাসের সবার সামনে। আমার এত ভয় লাগত উনি যখন সামনে দাড়িয়ে উপদেশ দিতে দিতে গিফট দিতেন! সব সুন্দর কথা বলতেন, ভবিষ্যৎ এর স্বপ্ন দেখাতেন। কিন্তু অতিরিক্ত ভালোবাসার মতো অতিরিক্ত শ্রদ্ধাও মানুষকে অসহায় করে দেয়। সহজ হতে পারতাম না ওনার সামনে দাড়ালে। মনে হতো, ধুর ছাই, ক্লাসে ভালো করতে গেলাম কেন?

মানুষের ভাবনার গতি আলোর চেয়েও বেশি ফাস্ট! এর জন্যেই তো এতসব কিছু ভাবতে ভাবতে প্রিন্সিপাল আমার দিকে তাকিয়ে, "ওয়াও! গ্রেইট! ওয়েলকাম টু ইওর নিউ হোম!" এটুকুই বলতে পারলেন।
আমি ওনার দিকে তাকিয়ে হেসে থ্যাংক ইউ বললাম!

এরপরে কাউন্সিলর আমাকে নিয়ে বাবা মায়ের কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখি মায়ের মুখ শুকিয়ে গেছে! মনে হচ্ছে তার মেয়েকে স্কুলের কাউন্সিলর না কিডন্যাপার কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছিল। আমার এত হাসি পেল মায়ের অবস্থা দেখে! আমাকে দেখামাত্র যেন জানে পানি ফিরে পেল!
কাউন্সিলর আমাদের কিছু সৌজন্য কথা বললেন। ক্লাস শুরু করতে পারব কয়েক সপ্তাহ পরে, ওদের কি যেন ব্রেইক আসছিল খুব জলদিই। সেসব শেষ হলে জয়েন করব। আপাতত স্কুলটিকে বিদায় দিয়ে বাড়ির দিকে যাত্রা করলাম।


আমি বাড়ি আসতে আসতে অবাক হয়ে ভাবছি, আমি একজন বিদেশীর সাথে এতক্ষন একা ছিলাম কি করে?! আসলে মানুষ যখন কোন সিচুয়েশনের মধ্যে পড়েই যায়, তখন তার ক্ষমতা বেড়ে যায়। এত ইংলিশ যে আমি জানতাম সেটা আমারও ধারণায় ছিলনা। হ্যাঁ, ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংলিশ ছিল, কম কথা বলেছি, কিন্তু তবুও, আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকিনি। তার সব কথা বুঝে কিছু না কিছু বলে গিয়েছি!
আমার মফস্বলের সেই দুটো ইংলিশ সাবজেক্ট, কখন আমাকে পরিস্থিতি সামলানোর মতো ইংলিশ শেখালো বুঝতেই পারিনি! পাতার পর পাতা শব্দার্থ মুখস্থ এবং ব্যাকরণ এর ফরমুলাগুলো কিছু তো কাজে দিল! কাজ তো চালিয়ে নিতে পারলাম। নিশ্চই ক্লাসেও আমি ঠিকই চালিয়ে নিতে পারব, সব ঠিক যাবে!
এসব ভাবতে ভাবতে কানে একটা কথা বেজে যাচ্ছে, "ওয়েলকাম টু ইওর নিউ হোম!" আচ্ছা প্রিন্সিপাল স্যার নিউ হোম বলতে স্কুলটিকে বুঝিয়েছিলেন না কানাডাকে?

কানাডায় এসে থেকে হাজারটা ক্লান্তি, বিষাদ, সংশয়, অনিশ্চয়তার মাঝে প্রথমবার কি ভীষন একটা প্রশান্তি অনুভব করছি মনের মধ্যে! আমি নিজের ওপরে অন্য এক আত্মবিশ্বাস বোধ করছি। বাবা মাও যেন আমাকে নিয়ে নিশ্চিন্ত হলেন।
বাড়ির পথে ফিরতে ফিরতে আমরা কেউ তখন জানতাম না যে নতুন চিন্তা বাড়িতে এসে বসে আছে!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

বাড়িতে কি অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্যে? এটাকে কুইজ হিসেবে রাখাটা ঠিক হবেনা। অনেক কঠিন হয়ে যাবে, কেননা লেখায় এ বিষয়ে কোন হিন্ট দেওয়া হয়নি। তবে পাঠকেরা চাইলে নিজেদের অনুমান কমেন্ট বক্সে রেখে দিন! হয়ত মজার অনেক উত্তর বেড়িয়ে আসবে, কেউ হয়ত ঠিকটাই বলে দেবে! তেমন কিছু হলে আমি ভীষন সারপ্রাইজড হবো! আসলে কি হয়েছিল তা আমি কমেন্টে দেব না, পরের পর্বে লিখব। ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০২
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×