somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১৫) - প্রথম দিনে লজ্জা, অস্বস্তিতে একের পর এক গুবলেট.....

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বের সারসংক্ষেপ: একটি বাংলাদেশী পরিবার কানাডায় গিয়ে জীবনটাকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার সংগ্রামে নেমে পড়ল। মেয়েটি একদিন তার বাবা মায়ের সাথে গিয়ে ওখানকার স্কুলে ভর্তি হয়ে এলো। তাকে একটি নির্ধারিত দিন থেকে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়। অন্যদিকে পরিবারের কর্তা ও কর্ত্রীও কিছু কোর্সে ভর্তি হয়ে পড়লেন চাকরির জন্যে। বাবা মায়ের অনুপস্থিতে মেয়েটি লুকিয়ে মনোরম পাহাড়ি এলাকাটি ঘুরতে যেয়ে বিপদে পড়তে পড়তে বাঁচল। এভাবে করে স্কুল শুরুর প্রথম দিনটি চলে এল। প্রথম ক্লাস শেষ করে দ্বিতীয় ক্লাসরুম খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

পূর্বের পর্বগুলোর লিংক:
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১) - প্রথমবার প্রবাসে প্রবেশের অনুভূতি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (২) - জীবনের গল্প শুরু হলো এইতো!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৩) - সুখে থাকতে কিলায় ভূতে! (কুইজ বিজেতা ঘোষিত)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৪) - বাংলাদেশ ভার্সেস কানাডার দোকানপাট, এবং বেচাকেনার কালচার! (কুইজ সলভড)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৫) - কেমন ছিল কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তি হবার প্রস্তুতি পর্ব?!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৬) - কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তির ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৭) - কানাডার স্কুল ভ্রমণ এবং দেশীয় মফস্বলের স্কুলের টুকরো স্মৃতি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৮) - কানাডার প্রথম খারাপ অভিজ্ঞতা!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৯) - আবারো দুটিতে একসাথে, প্রেমের পথে... :`> (কুইজ সলভড)
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১০) - লাভ বার্ডসের প্রথম কানাডিয়ান ক্লাসের অভিজ্ঞতা....
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১১) - মায়ের বিদেশী ক্লাসমেট্স, কালচার শক এবং বাবার জেলাসি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১২) - কানাডিয়ান গুন্ডার কবলে.......
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১৩) - কানাডিয়ান গুন্ডার কবলে পথ ভুলে এডভেঞ্চারে.......
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১৪) - বৈদেশী স্কুলে প্রথম সে দিন......(কুইজ সলভড)

পূর্বের সিরিজের লিংক: কানাডার স্কুলে একদিন এবং কানাডার স্কুলে একেকটি দিন

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

রুম খুঁজেই যাচ্ছি, চোখে পড়ছে না সেই নাম্বারটা। আমি কারো সাথেই সেদিন কথা বলতে চাচ্ছিলাম না, মনে হচ্ছিল যে আমার ইংলিশ শোনামাত্রই হাসাহাসি শুরু হয়ে যাবে। কেউ যদি আমার সামনে ভাঙ্গা বাংলায় কথা বলে আমি কি হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাব না? ওরাও তেমনই করবে। রুম খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম যা হবার তাই হবে, কাউকে ভাঙ্গা ইংলিশে জিজ্ঞেস করতেই হবে।

বেশ অনেকগুলো মানুষের মধ্যে থেকে একটি মেয়েকে একটু হাসিখুশি মনে হলো, সাহস করে ওকে রুম নাম্বারটি বললাম, ও আমাকে নিয়ে গেল। দুটো দেওয়ালের মাঝখানে রঙ্গিন দরজার পেছনে ছোটখাট একটি রুম।

যাই হোক, সেই মেয়েটিকে মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে দেখি সে আর নেই! হয়ত নিজের কাজে চলে গিয়েছে। আমি ক্লাসে ঢুকে একটি মাঝামাঝি সিটে বসে পরলাম। একটু পরে বেশ বয়স্ক এক শিক্ষক এলেন। তিনি সবার নাম ধরে ডাকলেন, কিন্তু আমারটি নিলেন না। নাম ডাকা শেষে আমাকে বললেন, "তোমার নাম কি? তুমি নতুন বলে হয়ত আমার লিস্টে নেই, আমি যোগ করে নিচ্ছি।" নাম জানালাম। বসে বসে ক্লাস করতে লাগলাম। কিসব ওয়ার্কশিট দিয়েছিলেন, সেটাতে চোখ বোলাচ্ছি, ওনার ইংরেজী সেভাবে বুঝতে পারছিনা, তবুও সিরিয়াস মুখে শুনে যাচ্ছি। এভাবে প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্লাস শেষ হয়ে গেল। আমি ওয়ার্কশিটে চোখ বোলাতে বোলাতে দেখি আমি ভুল ক্লাসে এসে গিয়েছি! সাবজেক্ট একই, কিন্তু ক্লাস আলাদা! আমি ওপরের ক্লাসে বসে আছি! সাথে সাথে মনে হলো ওনার লিস্টে আমার নাম ছিলনা এই কারণে! উফফ! এখন আমি কি করব? আমার ক্লাস যেখানে হচ্ছে সেটা তো আমি মিস করে ফেলছি। নাহ এখানে আর না, আমি রুম থেকে বের হয়ে চেক করে দেখি আমার রুম নাম্বার আর রুটিনের রুম নাম্বারের একটা ডিজিট আলাদা! কোনভাবে মেইন অফিসে চলে গেলাম। ঢুকতেই কাউন্সিলরের সাথে দেখা। আমি হড়বড় করে ওনাকে বলে গেলাম পুরো ব্যাপারটা। পুরো স্কুলে শুধু তিনিই ছিলেন যিনি আমার কথা সহজে বুঝতেন। উনি আমাকে বললেন, "কাম ডাউন, নট আ বিগ ডিল, লেট মি টেক ইউ টু ইওর ক্লাস!" ওনার মিষ্টি হাসি ও আন্তরিক কথাতেও শান্ত হতে পারছি না। ভীষন লজ্জা লাগছে আমার। বিদেশীরা কি ভাববে বাংলাদেশী স্টুডেন্টরা এত বোকা যে ঠিকমতো নিজের ক্লাসেও যেতে পারেনা? ছোট হয়ে গেলাম যেন।

উনি আমাকে ঠিক রুমে নিয়ে গেলেন। সেখানে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন, টিচারকে বোঝালেন পুরো বিষয়টা আমার হয়ে। টিচারও তুড়ি মেরে এমন ভাব করলেন যে এটা কোন ব্যাপারই না। প্রথম দিনে এমন ভুল হতেই পারে। কিন্তু আমার সেদিনের সেই ক্লাসটা মিস হলো।

তাই এরপরের ক্লাসে নিয়ে গেলেন কাউন্সিলর। ই.এস.এল (ইংলিশ সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ) ক্লাস রুমটি বেশ বড়, কাঁচের বিশাল জানালা দিয়ে আলো আসছে। রুমের চারিদিকের দেওয়ালে নানা রকম পোস্টার লাগানো। সবমিলে প্লে নার্সারির বাচ্চাদের যেমন রঙ্গিন ক্লাসরুম থাকে তেমনই। সেই ক্লাসের শিক্ষিকা বেশ বয়স্ক ছিলেন। ফতুয়া টাইপ টপস ও স্কার্ট পরেছিলেন। এই একটা ক্লাসে কোন কানাডিয়ান থাকে না, শুধু অন্য দেশের ছাত্রছাত্রীরা। যেমন ব্রাজিল, কোরিয়া, কলাম্বিয়া, চায়না, জাপান, ইউক্রেন আরও কতো দেশের মানুষ। এক ক্লাসে যেন পুরো দুনিয়া। কানাডিয়ানদের সাথে ভাঙ্গা ইংলিশে ভাব জমাতে না পারলেও ওদের সাথে জমে গেল। আমিও ভুলভাল ইংলিশ বলি, ওরাও, কিন্তু কেমন একই সুরে মিলে গেল সবার। ওদের দেশ নিয়ে জানতে চাইলাম, ওরা আমার দেশ নিয়ে জানতে চাইল।
ব্রাজিল, কলাম্বিয়া বিচ, পার্টি, ফুটবলের দেশ। মূল্যবোধে পার্থক্য থাকলেও, বাহ্যিকভাবে একই মনে হয়। গায়ের রং, হাইট প্রায় বাংলাদেশীদের মতোই, দেখে বোঝা যায়না যে অন্যদেশের মানুষ। অনেককে দেখে তো আশা করে ফেললাম যে দেশী ভাই বা বোন! নাহ, তা হয়নি। একটি ব্রাজিলের মেয়ে বেশ লম্বা, বাদামি চোখ ও কার্ল করা বাদামি লম্বা চুলের মেয়ের সাথে পরিচয় হলো। তার দুপাশে দুই বান্ধবী, তারাও বেশ সুন্দরী। ওরা খুব মেনটেন করে রাখে নিজেদের।
দেশে অনেকে চুলে তেল দিয়ে ক্লাসে আসত, মুখে মেকআপের কথা তো ভাবাই যায়না। কিন্তু এখানে একেকজন মডেল! সবার চুলে রং, ভ্রু প্ল্যাকড, নিয়মিত পার্লারে যায় মনে হয়।

ওরা খুব আন্তরিক ভাবে আমার সাথে কথা বলল। প্রথমদিনই কথায় কথায় জানতে চাইল তোমরা কি বিচেও এই ড্রেস (সালোয়ার কামিজ) পরে থাকো? আমি হ্যা বলাতে চোখ ছানাবড়া। বারবার জানতে চাইছিল বিচেও?? ওরা রুড ছিলনা শুধু কালচার শকটা প্রকাশ করছিল। তারপরে বলল আমার ড্রেসটা অনেক সুন্দর।

সেদিন কম্পিউটারে নিজেদের নাম, ক্লাস ইত্যাদি তথ্য কম্পিউটারে ইংলিশে লিখে টিচারকে দিতে হবে। ক্লাসের বেশ কয়েকটি কম্পিউটার ছিল। একেকটির সামনে ৫/৬ জনের লাইন দাড় করিয়ে দিলেন। আমার নাম্বার আসবে এমন সময়ে টিচার একটু ক্লাসের বাইরে গেলেন। যাবার টাইমে বললেন ওর পরে তুমি যাবে কিন্তু। আমাকে এটা আলাদা করে বলার কারণ হয়ত আমাকে একটু সাহস দেওয়া। আমি যে অস্বস্তিতে মরে যাচ্ছি, বা ব্রেইন ঠিকভাবে কাজ করছে না তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে নিশ্চই।
যাই হোক, আমার পেছনে ছিল বেশ মোটাসোটা, কানে বেশ কিছু দুল পরিহিত এক চাইনিজ/জাপানিজ ছেলে। তার মাথার অর্ধেক টাক, বাকি অর্ধেক দিয়ে নীল ও ছাই রং এর চুল কপাল পর্যন্ত নেমে এসেছে। ওকে দেখলেই কেমন যেন লাগছে। মনে হচ্ছে গোসল করেনা কতদিন! একসময়ে আমার খুব পানি পিপাসা পেয়ে যায়, তাই আমি লাইন থেকে সরে নিজের ডেস্কে গিয়ে পানি নিতে যাই। এসে দেখি আমার পেছনে থাকা সত্ত্বেও ফাঁকা পেয়ে ছেলেটি চলে গিয়েছে। আমি কিছু বলিনি, কেননা একতো ইংলিশের অবস্থা খারাপ, দ্বিতীয় উদ্ভট দর্শন মানুষটির সাথে কথার বলার ইচ্ছে হচ্ছে না।

টিচার সেই সময়ে এসে দেখলেন আমি পেছনে, উনি রাগ করে বললেন, "হাউ ডিড হি গেট এহেড অফ ইউ?" অন্যসব টিচারেরা আমাকে খুব সহানুভূতির চোখে দেখলেও উনি বেশ বিরক্ত হয়ে গেলেন। ওনার হয়ত মনে হলো যে আমি ইচ্ছে করে অন্যকে সামনে যেতে দিয়েছি যেন কাজটি করতে না হয়!
আমি চুপ করে আছি, কেননা পুরো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। উনি আমাকে আবারো বললেন, ও ওঠা মাত্র তুমি চেয়ারে বসে কাজটি করবে। আমি মাথা নাড়লাম।
কম্পিউটারে বসে আরেক সমস্যা। দেশে থাকতে বাবা ভালোভাবে কম্পিউটার শিখতে বলত, কিন্তু আমি ভিডিও গেম খেলা ছাড়া কিছুই করতাম না। বাবা মায়ের কথার অবাধ্য হলে সমস্যায় পড়তে হয়, জানা কথা। আমি আস্তে আস্তে এক একটা অক্ষর খুঁজে খুঁজে টাইপ করতে থাকলাম। পাশের কম্পিউটারের ব্রাজিলিয়ান মেয়েটি সহ বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই পাকা টাইপিস্টের মতো হাত চালাচ্ছিল। আমার লজ্জা লাগছে, ছুটে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে একটু পরে পরে। কিন্তু সেটা আরো বেশি বাজে ব্যাপার হবে ভেবে শেষ করলাম কোনভাবে কাজটি।

পরের ক্লাস ছিল শারীরিক শিক্ষার যা বিশাল জীম রুমটিতে হতো। নিচের তলায় বাস্কেটবল এর নেট দেখলাম। ঘিয়ে পরিষ্কার স্বচ্ছ ফ্লোরে নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছি। জীম রুমের দু দিকের দেওয়াল ঘেষে সাড়ি সাড়ি সিট, সিড়ির মতো করে নিচ থেকে ওপর দিকে প্রশস্ত। সেখানে বেশ কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখে আমিও বসে পড়লাম। নরমাল ক্লাস তো তাও ছিল, এমন রুম দেখে আমি আরোই অস্বস্তি ও ভয়ে পরে গেলাম।

আমাদের দেশে ড্রিল সপ্তাহে একদিন হতো এবং হালকা খেলাধুলার মধ্যে আধ ঘন্টা কখন পার হয়ে যেত তা বুঝতে পারতাম না। স্কুল মাঠ এবং বৃষ্টি বাদলার দিনে একটি ফাঁকা ঘরে আমাদের ক্লাস হতো। আমাদের দেশে এটা খুবই আনইম্পর্ট্যান্ট একটা ক্লাস। কিন্তু ওখানে অন্যান্য ক্লাসের সমান টাইম ধরে প্রতিদিন এই ক্লাসটিও হবে। এর গুরুত্ব কোন অংশে কম না।

কিছুক্ষন পরে টিচার এসে সবার সামনে দাড়ালেন, কথা বলা শুরু করলেন। জিম ক্লাসে কেডস, শর্টস, টিশার্ট পরতে হবে, এবং ক্লাসের শুরুতে চেঞ্জিং রুমে পোশাক চেঞ্জি করতে হবে। আর যাওয়ার সময় আবার রেগুলার ড্রেস পরে নিতে হবে।

কেডস নাহয় পরলাম, কিন্তু শর্টস, টিশার্ট ? ওসব পরতে পারবনা বাবা। টিচারকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংলিশে বুঝালাম অনেকক্ষন ধরে। পুরো ব্যাপারটিতে এতই ভয় পেলাম যে আমি টিশার্ট শব্দটিও ভুলে গেলাম! সত্যিই! আমার পাশে বসা কোরিয়ান মেয়েটি টিশার্ট পরে ছিল, আমি ওর পোশাক দেখিয়ে ইশারা করে বোঝালাম যে আমি ওটা পরতে পারবনা।

টিচার আমাকে চেঞ্জিং রুমে নিয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম আড়ালে ডেকে নিয়ে মারবে নাকি! আমার ওপরে নিশ্চই বিরক্ত! চেঞ্জিং রুমটিতে বেশ কিছু লকার, বেঞ্চ, আর ছোট ছোট ঘর ছিল। টিচার আমাকে চেঞ্জিং রুম দেখিয়ে দিয়ে বললেন আমি চাইলে রুমগুলোতে কাপড় বদলাতে পারব। সবার সামনে পাল্টাতে হবেনা। আসলে আমার ইংলিশ না বুঝে ভেবেছিলেন চেঞ্জিং রুম নিয়ে জানতে চেয়েছি। তো আরো ১৫ মিনিট ধরে বুঝালাম, যে আসলে আমার টিশার্ট প্যান্টে সমস্যা, আমি ঠিকমতো চেঞ্জ করতে পারব, তবে অন্য সেট সালোয়ার কামিজ নিয়ে আসব। তখন উনি বললেল "ওওও সরি আই ডিডন্ট গেট ইট, এবসোলুটলি নো প্রবলেম।" আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
কোনভাবে পুরো দিনটি পার করে যখন বাড়িতে ফিরছি, বুকের পাথরটা আর অনুভূত হচ্ছে না। সারাদিনে আমি কি মারাত্মক টেনশনে ছিলাম সেটা তখন বুঝলাম যখন টেনশনমুক্ত হলাম। নিজেকে কি ভীষন হালকা লাগছে! মনে হচ্ছে যেভাবে হোক পার তো হয়ে গেল দিনটি!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কানাডার হাই স্কুলে প্রতিদিন সকালে একটা দমবন্ধ ভয় নিয়ে উঠতাম, স্কুল থেকে ফেরার সময়ে স্বাভাবিক হতাম। সারাক্ষন লজ্জা, ভয়, একটি ভাষা না জানার, অন্যকে না বুঝতে পারার তীব্র অস্বস্তি আমাকে ঘিরে রাখত। সাধাসিধা নিজেকে বড্ড বেমানান মনে হত স্মার্ট লুকিং ও ইংলিশ স্পিকিং সহপাঠিদের পাশে। যেন একটি সুসজ্জিত ড্রয়িং রুমে, কৃত্রিম সাজানো গোছানোর ফুলের পাশে নেতিয়ে যাওয়া বুনো ফুল!
আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোর একটি ছিল সেই প্রথম দিনটি এবং হয়ত পুরো বছরটিই। উফফ! এখনো মনে হলে ভয় ভয় লাগে। আবার মনে হয় যে আই সারভাইবড অল অফ ইট! সত্যি বলছি এখনো জীবনে কোন কঠিন সময় আসলে ভাবি যে সেই দিনটি পার করেছি, এখন যেকোন কিছু পার হয়েই যাবে। হাহা।
সামনের পর্বগুলোতে কানাডায় পরিবারের এবং স্কুলের স্ট্র্যাগল এবং সেগুলো সবাই কিভাবে মোকাবিলা করলম সেসব থাকবে। পাশে থাকুন সবাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংবদন্তি আভিনেতা শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন ফরীদি এর কিছু পুরনো দিনের ফটো

লিখেছেন একজন অশিক্ষিত মানুষ, ১৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩২


তার অভিনিত আমার দেখা প্রথম নাটকটির নাম মনে নেই তবে সে নাটকে তার নাম ছিল কানকাটা রমজান আলী।
তারপর ওনার অভিনিত অনেক নাটক ও ছবি দেখেছি।যত দেখেছি ততই ভালো লেগেছে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলো না হারাই

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:৫৯


সুন্দর এই সন্ধ্যা
লাগছে ভীষণ ভালো—ভ্যাপসা গরম কেটে গেছে
ঘর্মাক্ত দেহটি এখন আর নেই
মনটিও সতেজ তাই ভাবছি বসে আনমনে
শুধু তোমাকেই। দেখ বেদনা কাব্য পুড়ে হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের টিভি সংবাদ

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:২১




সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি ছাড়লাম। স্ক্রলে ভেসে উঠছে-

তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সারা দেশে শোকরানা দিবস পালন করেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দূর আকাশে ভেসে...

লিখেছেন নস্টালজিক, ১৬ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৫:৪৬



শোনো সহস্র শিশু ইয়েমেনে মরে
না খেতে পেয়ে, বলি
শিশু অধিকারে সরব(!) যারা
তাদের পথেই চলি।

যে পথে ফুল বিছানো সদ্য
কবি লিখছেন নতুন পদ্য
সেই পদ্যে জাদুকরী রঙে
শব্দ কল কাকলি ...

শোনো ধর্মের কথা মৃয়মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৭:২০



প্রায় প্রতিদিনই দেখি মসজিদ নির্মানের জন্য টাকা তুলছে।
রাস্তার ফুটপাতে মাইক বাজিয়ে অথবা বাস যখন রাস্তার জ্যামে পড়ে তখন এক হুজুর ইনিয়ে বিনিয়ে মসজিদ নির্মান ও এতিম বাচ্চাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×