somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

প্রেমপত্র-১৯

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ময়ূরাক্ষী
আমি জানি এই আধুনিক যুগে এখন আর কেউ চিঠি লিখে না।দরকার হলে টেক্সট করে দেয়।তবু এই আমি তোমাকে চিঠির পার চিঠি লিখে যাচ্ছি।কি যে ভাবছো?তবে আমি আতি প্রাচীন ভাবেই বলতে চাই।মনের আবেগ কি আর সামান্য ক্ষুদে বার্তা বলে বুঝাতে পারবে।আর তুমিও তো আমার কাছে সাধারন কেউ নও।তোমায় খুঁজে পেতে আমার কত জন্ম কেটে গেল,তা যদি তুমি জানতে?
আমি ও বুঝতে পেরেছি কিছুটা সময় নিয়ে।তোমাকে ফেসবুকে প্রথম দেখার পর।অবাক হয়ে দেখেছি, কিভাবে তুমি ধীরে ধীরে আমার ভেতরটা দখল করে নিচ্ছো। খুব সন্তর্পনে আমার ভেতরে আমি নিজেই তোমার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি। তুমি কি কখনো তা বুঝতে পারতে?আমি শুধু হাবুডুবু খাই ঐ চোখেরই মায়ায়,কেমন করে কেউ এত মায়াবতী হতে পারে?
গত কিছু দিন তোমায় দেখার পর আমি স্বপ্নময় সময় কাটাচ্ছি।এখন পানি খেতে গিয়ে কোক খেয়ে ফেলি।আর গ্লাসে পানি ঢালতে গিয়ে দেখি পানি ঠিকই ঢেলেছি তবে গ্লাস নাই।পুরো মাথার মধ্যে বসে তুমিই খেলা করছো।আমি তোমাকে নিজের করে পেতে চাই। আমি আরো ১০০ বছর তোমার সাথে কাঁটাতে চাই। ১২০০ মাস কিংবা ৩৬৫০০ দিন। প্রখর রোদে ছায়া হয়ে তোমার পাশে হাটতে চাই। তোমার প্রতিটি হাসির কারন হতে চাই। তোমার সব কষ্টের কান্না হতে চাই। অভিমানে ফুলে ওঠা তোমার গালের রক্তিম আভা হতে চাই। কিংবা, তোমার চুল এলোমেলো করে দেয়া আলতো বাতাস হতে চাই। তুমি কি একবার, শুধু একবার আমায় সে সুযোগ দেবে?
তুমি কি আমার হাসি হবে? সুখের সময় ভাসিয়ে দেয়া সাগরের এক মুক্তো হবে? তুমি কি আমার কষ্ট হবে? অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়া নোনতা স্বাদের অশ্রু হবে? তুমি কি আমার জীবন হবে? হাজার বছর আগলে রাখা জীবন-মরণ সংগী হবে?
আমি জানি এই যুগের প্রেম হচ্ছে সারপ্রাইজ দেওয়া,গিফট দেওয়া-নেওয়া,ভাল রেস্টুরেন্টে খাওয়া,ট্যাগ চেক ইন দেওয়া,সাথে গার্লফ্রেন্ডের পিকে লাভ স্টিকার ইমোটিকন দিয়ে কমেন্ট করা।এজন্য ওই সম্পর্কগুলো বেশিদিন স্থায়ীইও হয় না।এসব পাতলা কাচের প্রেম টিকে থাকে পরবর্তী ক্রাশের আগ পর্যন্ত।তারপর ধুপ করে পরে ঠাস করে ফেটে যায়।
কিন্তু আমি ওটা ভাবিই না।খুব প্রাচীন ভাবে বলতে ইচ্ছে করে,তুমি আমার সম্পত্তি নও সম্পদ।রাস্তা ঘাটে চলতি পথে বিলবোর্ডে হাজারও ফটোশপ সুন্দরীদের মধ্যে তোমাকে অন্যরকম লাগে,থাকুক এমন আরো হাজার ফটোশপ কুইন।আমার অগোছালো জীবনে পাশে থাকবে আমাকে গোছাতে।ভিষন ভাঙ্গাচূড়া ঢোলাইখালের এই আমাকে একজন তুমিই সাইজ করার জন্যে যথেষ্ট।তোমার সব পাগলামির সাথে পাগল হবো রাস্তায় রস্তায় অলি গলিতে নতুন পৃথিবী খুঁজে নেব তোমার মাঝে কিন্তু তাও হাত ছাড়ব না,সাইন বোর্ড লাগিয়ে ব্যাংক যেমন জমির মালিকানা জানিয়ে দেয় তেমনি করে পুরো শহর তুমি শুধু আমার সম্পদ এই লেখা লাগিয়ে তোমার সাথে ঘুরবো।তোমার জন্য এক হাতে লড়াই করে পুরো পৃথিবী বদলে দিব কিন্তু তোমাকে বদলাতে হবে না তুমি থাকবে এমনই যেমন টা এখন অসম্ভব মায়াবতী।তোমার আকাশের গ্রহ নক্ষত্র চন্দ্র সূর্য সব আমি হব।তুমি ছাড়া এই জীবনে আর কাউকে চোখে পরবে না।আমাকে কখনো অনুভব করার প্রয়োজন হবে না তোমার কারন অনুপস্থিতে মানুষ অনুভব করে,আমি আঠার মত তমার পাশে লেগে থাকব ঠিক মেলায় মাের আঁচল ধরে চলা বাচ্চাটির মত।তোমার সকল দুর্বলতা কে তোমার যা কিছু খারাপ যাকিছু সাধারন যা কিছু ব্যার্থতা তার সব কিছু ভালবাসি এবং বাসবো তুমি শুধু আমায় বিশ্বাস করো!আমি এতটুকুই তোমায় বলব মনে প্রানে আমি যা বিশ্বাস করি আর তা হলো
আমি তোমার সম্মান কে সম্মানিত করি , এতটুকু বলতে পারি আমার কাছে তুমি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও স্বস্তি বোধ করবে ঠিক যেমন তোমার আব্বুর কাছে করো,তোমার ঠোটের চেয়ে আমার কাছে কপালের টিপ বেশি আকর্ষণীয় হবে কথা দিচ্ছি।আমি তোমাকে সামাজিক মর্যাদা দেবার সাহস রাখব আজীবন সমাজের মুখের উপর বলেতে পারব "আমি সামাজিক ভাবে এই তোমাকে গ্রহণ করছি" । সীমাহীন প্রাচুর্য দিতে না পারি,আমি দেখতে আতটা ভাল না হতে পারি,সমস্ত জীবন তোমার নামে লিখে দিব।আনন্দের সমুদ্র না হোক,অন্তত অশ্রু নদী শুষে নেব ।আমি এতটুকুই বলতে পারি তোমাকে।
পরিশেষে এতটুকু বলব যখন লেখতে বসেছি ভেবেছিলাম শেষে এই কথাটা বলব "তুমি কি আমার বাবুর আম্মু হবা?"কিন্তু অদ্ভুত ভাবে মনে হলো শুধু এতটুকুই তোমার কর্ম। আমি চাই এর থেকে বেশি সমস্ত আস্তিত্ব জুড়ে সর্বাগ্রে শুধু তুমি তাই মন থেকে এই মুহূর্তে এটাই অনুভব করছি।
"আমি অদ্ভুত তুমি হীনতায় ভুগছি"
ইতি
তোমার বদ্ধপাগল
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×