12-15 বছর আগে জন্মদিনে আমার মেঝবোনের দেয়া একটা ক্যাসেট থেকে আমি রবীন্দ্র সঙ্গীতের জগতে তাকে ভিন্ন মাত্রায় আবিষ্কার করি । কিন্তু আমার কাছে তার সিডি র গান গুলোই বেশী ভাল লেগেছে । আসলে রেকর্ড করা যে কোন গায়কের গানই সরাসরি গাওয়া গানের থেকে ভাল হয় । তাই মিউজিক চ্যানেল হিসেবে ফাল্গুন মিউজিকের উচিৎ হবে তাদের অতিথিদের গানের সবচেয়ে ভাল রেকর্ড টা শোনানো ।
কোন এক চ্যানেলে তার সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার গানের বিশেষত্ব সম্পর্কে । তার গানের যে বিশেষত্ব টা একেবারেই অনন্য সেটাই উনি বলেননি । যে কারনে নিজেকে একজন সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ মনে করি তার মাঝে এটাও একটা যে আমি গান এবং গায়কদের ঐ সব বৈশিষ্ট অনুধাবন করতে পারি ।
আমার কাছে তার গায়কীর উচ্চ মানের যে বিশিষ্টতা খুব ভালো লেগেছে, তা হচ্ছে উনি রবীন্দ্র সঙ্গীত করেন গানকে চিত্রায়ন করে । সুবীর নন্দী নতুন গায়কদের উদ্দেশ্যে প্রায়ই বলেন গানকে চিত্রায়ন করে গাইতে । একটু ব্যাখ্যা করি । আমরা ছবির সৌন্দর্য্য খুব সহযে উপভোগ করি । সূর আমাদের অনুভব কে আন্দোলিত করে আর ছবি সেই অনুভূতিকে আরেকটা মাত্রা দেয় । ছবির সৌন্দর্য্যে সূরের ব্যাঞ্জনা আছে । ঠিক একই ভাবে সূরের মাঝেও ছবির ব্যাঞ্জনা আনা যায়, অর্থাৎ গানকে সেই ভাবে গাইতে পারলে, অনুভবের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় । তখন গানে সূর আর ছবি - অনুভবের দুটো মাত্রাই কাজ করে । আমার ধারনা উনি এটা তার চিত্রশিল্পী সত্বা থেকে অবচেতন ভাবেই করেন, যে জন্য উনি নিজেই এখনও জানেননা ।
আমার কাছে ইফ্ফাত আরার রবীন্দ্র সঙ্গীত সেই অনেক বেশী মাত্রার মনে হয়েছে, মনে হয়েছে আমি গান গুলির ছবিও দেখছি । রবীন্দ্র নাথ নিজেও একজন আঁকিয়ে ছিলেন, তাই তার গানে ছবির একটা ভিন্নতর মাত্রা রয়েছে । ইফ্ফাত আরাও নিজে একজন চিত্রশিল্পী তাই তার গায়কীতে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিপূর্ণ ভাবে পাওয়া যায় । আর আমি যখন তার এ বৈশিষ্ট আবিষ্কার করি তখন আমি নিজেও ছবি আকতাম । যা হোক যতদিন রবীন্দ্র সঙ্গীত বেচে থাকবে ততদিন ইফ্ফাত আরার রবীন্দ্র সঙ্গীত এই বিশেষ বৈশিষ্টে প্রতিয়মান থাকবে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


