somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কোরআন কি স্পষ্ট কিতাব? নাকি ইহা সহজবোধ্য করে নাযিল করা হয়নি?

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুদীর্ঘকাল থেকে ইসলামের ইজারাদার দাবী করা মানুষদের থেকে নিন্মলিখিত সাবধান বাণী পাওয়া যাইতেছে-

১। হাদীস হইতেছে ইসলামের স্তম্ভ, কোরআন সরাসরি আল্লাহ প্রেরিত হইলেও হাদীস অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২। বুখারী শরিফ দ্বিতীয় কোরআন, ইহা নিয়ে প্রশ্ন চলে না।
৩। সহীহ হাদীস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা মুনাফিকি/ফাসেকীর লক্ষণ।
৪ এবং আরো

অথচ বাস্তবতা হইতেছে এইরকম-

* প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ কর্মের জন্য জবাবদিহী করতে হইবে। অন্য কোন মানুষ (পিতা/মাতা/ভাই/বোন আত্মীয় স্বজন/পীর/ফকির/ওলী/আউলিয়া/শয়তান) কেহই ঐ মানুষের কর্মের জন্য রেস্পন্সিবিলিটি নিবে না।
* ইসলাম অর্থ শান্তি। ইহা জানার পরেও কেহ যদি কোরআন থেকে শান্তির পথ/সিরাতুল মুস্তাকিম না খোঁজার চেস্টা করে তবে ঐ লোক বিচারের দিনে আল্লাহকে বলতে পারবে না যে আমি ইহা অবগত ছিলাম না।

এখন ঐশ্বরিক ব্যাপারে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করলে কি কি ফায়দা দেখা যাক-

১। মানুষকে আল্লাহর স্পিরিট থেকে দুরে রাখা যাবে, ফলে বেশিরভাগ মানুষই ভিরু হয়ে যাবে। সমাজের নানা রকমের প্রভাবশালী মানুষদের বিরাট উপকার হবে।
২। মোল্লাদের (কৃত্রিম+অপ্র‍য়োজনীয়) পেশা বন্ধ হয়ে যাবে, এই ভয়ে অনেকে নিজেদের জারিজুরি ফাঁস করতে চায় না।
৩। সমাজে আদর্শিক অবস্থা বিরাজ করলে তাতে চাইলেই ক্ষমতা খাটানো যাবে না ফলে অনেক ক্ষমতাশীল মানুষ ইসলামের দলাদলি দেখতে চায়।
৪। মানুষকে বিভ্রান্ত রাখলে তারা নানা রকমের মতে জড়িয়ে থাকবে তাই কেয়ামত পর্যন্ত তারা বিতর্ক করতে থাকবে কখনোই এক হইতে পারবে না। ফলে ডিভাইড এন্ড রোল সিস্টেম দিয়ে সারাটা জীবন এদের থেকে লাভবান হওয়া যাবে।

যাহারা কোরআনের অপব্যখা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেছে, জংগীপনার দিকে সাধারণ মানুষকে জড়িত করতেছে তা অনুধাবন করার পরেও যেইসকল আলেম(জ্ঞানী/জানা মানুষ) উহা নিয়ে বিরত থাকতেছে তাদের চরম জবাবদিহী করতে হইবে।

কোরআন অনুসারে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা জরুরী নহে বরং ভাল মানুষ হওয়া জরুরী বলা হইয়াছে। এখন ইসলামী রাজনীতির নামে যেইভাবে জিহাদের ডাক দেওয়া হইতেছে উহা বেশিরভাগই হইতেছে দুনিয়াবী স্বার্থ কায়েমের জন্য ইসলামকে ব্যবহার। এই পথে সাপোর্ট যারা যারা দিতেছেন তারা মুলত খোদার দেওয়া সীরাতুল মুসতাকিম/সরল পথকে অপ্র‍য়োজনীয় আবরণ দিয়ে আচ্ছাদিত করে ফেলতেছেন।

আসল কথা হইতেছে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনে আপনার অবদান কতটুকু ইহাই পুণ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে, আল্লাহর গোলামী মাথায় রেখে আপনে কতটা ভাল কাজ করলেন, কতটা ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন, লোভ/রিপু থেকে নিজেকে কতটা বিরত রাখতে সক্ষম হইলেন উহাই আপনার বেহেশতে যাবার নির্ণায়ক হইবে।
অপরদিকে, সমাজের মানুষকে অশান্তির রাস্তায় যদি নেবার পথে আপনি অবদান রাখেন কিংবা না জেনে, কেবল ঝোঁকের বশবর্তী থাকিয়া যদি মানুষের ক্ষতি করেন, ভুল পথে পরিচালিত করেন, জেনে শুনে পৃথিবীর সম্পদ নষ্ট করেন, রিপু নিয়ন্ত্রণের চেস্টা না করেন এবং আল্লাহর কথা মনে হইবার পরেও আপনি খারাপ কাজ থেকে পিছবা হন নাই এইরকম খারাপ কাজের কারণে আপনি দোজখে যাইবার জন্য উপযুক্ত হইবেন।

আল্লাহ তো কোরআনে স্পষ্ট অক্ষরে বলে দিয়েছেন- চয়েস আপনার। কোন পথে আপনি থাকতে চান? যদি আল্লাহর পথে থাকতে চান তবে নিজেকে শান্ত করে কোরআন পড়া শুরু করে দেন। প্রেক্ষাপট অনুসারে কোরআন পড়লে আর কোন মৌলভী লাগবে না, আল্লাহ আপনাকে যে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন উহাই যথেষ্ট।


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৪৫
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×