somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরাবেগ ইস্তাম্বুলে তবু ঈদের আনন্দ

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ঈদ মানে যে আবেগীয় উন্মাদনা তুর্কিদের কাছে তা একদমই অচেনা। পর্যটন নগরী ইস্তাম্বুলের ঈদের সকাল দেখে কে বলবে এটা মুসলমান অধ্যুষিত কোনো জনপদ।

অন্য ৮-১০টা সকালের মতোই এখানকার ঈদের সকাল। খুব সকালে কিছু দোকানপাট খোলা হচ্ছে, স্টেশনে কম বেশি মানুষ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে, কেউ বাসায় ঘুমাচ্ছে। এদের কেউ কেউ মসজিদে গেছেন ঈদের নামাজ পড়তে। নামাজ পড়ে যে যার বাড়ি চলে যাচ্ছেন। কারও গায়ে নতুন জামা কাপড় নেই। ওদের আলাদা করে কোনো ঈদগাহ নেই। নামাজ শেষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের বালাই নেই। বলতে গেলে ঈদ বলে আলাদা কোনো উৎসাহ, উদ্দীপনা নেই। নেই ঈদের জন্য বাড়তি কোনো আয়োজন।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পড়তে আসার পর এমন নিরাবেগের মধ্য দিয়েই কেটে গেল বেশ কয়েকটি ঈদ। রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের বাইরের যে ধর্মীয় আবরণ তা যেন ভেতরের সঙ্গে একদমই মেলে না। তাদের জীবনাচার ইউরোপীয় ধাঁচের। মেয়েরা চলনেবলনে আধুনিক, স্মার্ট। ধর্মাবেগকে এদের অধিকাংশই বোধ হয় দৈনন্দিন জীবনের বাইরে নিয়ে গেছে।
এবারের কোরবানি ঈদের সকালও অনেকটা নিরাবেগেই কাটল। মসজিদে নামাজ পড়ে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বসি। সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুলের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে আয়োজিত ঈদ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মনটা কেমন যেন হয়ে ছিল। দুপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মিলে বিরিয়ানি রান্না করে খেয়েছি। তারপরও কীসের যেন অভাব অনুভব হচ্ছিল। ঈদ হলো, অথচ হই-হল্লা, ছোটাছুটি হলো না এটা ঠিক যেন একজন বাংলাদেশির সঙ্গে যায় না?
সন্ধ্যা ৭টায় ছিল আমাদের প্রোগ্রাম। এর আগে থেকেই কনস্যুলেট অফিসে প্রবাসীরা আসতে শুরু করেন। যাদের অধিকাংশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের অধিকাংশই আবার দেশটির সব থেকে পুরোনো ও প্রভাবশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।


দেখতে দেখতে মিলনমেলায় পরিণত হলো ছোট কনস্যুলেট অফিস। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, ইস্তাম্বুলের কনসাল জেনারেল এফ এম বোরহান উদ্দীন ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কনসাল মো. আনিসুজ্জামান। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনসাল অফিস নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। তবে ইস্তাম্বুলের পরিবেশটা একদমই ভিন্ন। নতুন কনসাল জেনারেলকে প্রথম দেখায় মনে হলো, এদিকে তিনি যেমন ভিন্ন রুচির অন্যদিকে দক্ষ একজন কূটনীতিক। তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও ভালো কিছু করার প্রত্যয় আমাদের আশাবাদী না করে পারে না।
কনসাল জেনারেলের সঙ্গে লেখকসহ প্রবাসী শিক্ষার্থীদের কয়েকজনশুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শুরু হয় খাবার পর্ব। ঈদ উপলক্ষে দেশীয় টাইপ কোনো খাবার খাব ধারণা করছিলাম। এর আগেও আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কনস্যুলেট অফিসের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়ান বিরিয়ানি খেয়েছি। কিন্তু এবার খাবার দেখে চোখ রীতিমতো ছানাবড়া। দেশীয় পোলাও, ঝাল গরু, মুরগি, ডাল, সবজি, ডিম। এ যেন ঢাকার কোথাও চলা বিশেষ অনুষ্ঠান! খাওয়ার শেষ পর্বে বসায় তৈরি দেশীয় ফিরনিটা ছিল আচমকা সারপ্রাইজের মতো। যা কালেভদ্রেই জোটে প্রবাসীদের কপালে।
খাওয়া শেষে কনসাল জেনারেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাদা করে মতবিনিময় করলেন। বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো তুরস্কের মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য তিনি ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানালেন। বললেন, ইস্তাম্বুলে ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণে কাজ করে যাবেন তিনি। প্রিয় বাংলাদেশকে ঘিরে এমন আরও কত পরিকল্পনা নিয়ে কথা হলো। এক সময় ফুরিয়ে আসে কথার ঢালি। ভাঙে হাট। যে যার মতো ফেরার পথ ধরে। তবে রেখে যায় টান, অমোঘ ভালোবাসা। যা পবিত্র ও সতত। আর যাই হোক, মা বা দেশমাতাকে অস্বীকার করে বাঁচা যায় না। দেশের বাইরে না আসলে এই বাস্তব উপলব্ধিটা কে জাগাত আমাদের ভেতরে। আমাদের অতীত ঐতিহ্য আছে। এখন উন্নয়ন দরকার। ভালো থাক বাংলাদেশ। গরিব রাষ্ট্রের তকমা গা থেকে মুছে ফেলে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো গর্বিত উদাহরণ হও। তুমি গর্বিত হলে যে আমরা গর্বিত সন্তান হই। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

লেখাটি আজকের প্রথম আলোয় প্রকাশিত।নিরাবেগ ইস্তাম্বুলে তবু ঈদের আনন্দ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:২৫
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×