এখানে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করছি। সরকারি অর্থায়নে একটি বেসরকারি ডরমিটরিতে থাকি। আমি কিছুটা ঘুমকাতুরে। ক্লাস না থাকলে প্রায়ই ৯টার পর ঘুম থেকে উঠি। যে দিন ক্লাস না থাকে, সোজা লাইব্রেরিতে চলে যাই। শীতপ্রধান দেশ বলে বছরে আট-নয় মাসই এখানে ঠাণ্ডা থাকে।

আমার ক্লাস ৯টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ২টায়। মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের কাজ মূলত ক্লাসের বাইরে। ক্লাসে শিক্ষক একটি টপিক দিয়ে এর ওপর গবেষণাধর্মী আর্টিকল লিখতে বলেন। এ আর্টিকলের ওপর আবার ক্লাসে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করতে হয়, যা পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে ক্লাসের চেয়ে বেশি সময় কাটে লাইব্রেরিতে। ক্লাস শেষে সাধারণত দুপুরের খাবার খেয়ে লাইব্রেরিতে যাই। কখনো মধ্যরাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে থাকি। মাঝে মধ্যে আবার সন্ধ্যায় ডর্মিতে ফিরে ডিনার করি। তার পর বিশ্রাম নিয়ে কোনো দিন ডর্মির লাইব্রেরিতে, কোনো দিন আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ফিরে যাই। তবে সপ্তাহের সব দিন এভাবে রুটিন মেনে কাজ করা সম্ভব হয় না আমার।
আমি গান শুনি এবং গাইতেও ভালোবাসি। কবির সুমন, অঞ্জন দত্ত, নজরুলগীতি, লালনসহ জীবনমুখী গান বেশি শুনি। মাঝে মধ্যে সিনেমা দেখি। আর মন খারাপ থাকলে কবিতা পড়ি। সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের আল মাহমুদ, পুর্ণেন্দু পত্রী, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, আবুল হাসানের কবিতা আমার খুব ভালোলাগে।
আমার শিক্ষা মাধ্যম তার্কিশ-ইংলিশ বলে একটি জিনিসই দুবার করে পড়তে হয়। তাই ব্যস্ততা আর পড়াশোনার চাপটা অনেক বেশি। তবু কখনো কখনো ক্লান্তি বোধ করলে বা সাপ্তাহিক ছুটিতে মারমারা সাগরের পাড়ে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। মালয়েশিয়ান আর উইঘুর রেস্টুরেন্টে বেশি যাওয়া হয়। খেতে খেতে স্বদেশী খিচুড়ি, মুড়ি-চানাচুর মিস করি। ভাত, ছোট মাছ আর আলু ভর্তা, শুঁটকি ভর্তার জন্য জিভের পানি ফেলি।
লেখাটা ২০১৫-১১-২১ ইং তারিখে দৈনিক বনিক বার্তায় প্রকাশিত...দিন লি পি
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




