somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে কারা!

১৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ যাত্রায় টিকে গেছেন এরদোগান সরকার। ১৫ই জুলাই রাত ন’টার কিছু পর যে সেনা অভ্যুত্থান শুরু হয় তার পরের কয়েক ঘণ্টা সবকিছু ছিল বিদ্রোহীদের দখলে। রাত ১২টার পর গণমাধ্যমে প্রথম কথা বলেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। তখনও কেউ ভাবেনি এরদোগান সরকার সকাল পর্যন্ত টিকবে। তবে সবকিছু পাল্টে যায় রাত ১টার পর। এক মোবাইল বার্তায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তার সমর্থকদের আহ্বান জানান রাস্তায় নেমে আসতে। তিনি নিজেও রাস্তায় নামার ঘোষণা দেন।

তারপরই সশস্ত্র এ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ঢল নামে সাধারণ জনতার। তারা রাস্তায় বেরিয়ে সেনাবাহিনীর ট্যাংকগুলো দখলে নেয়। জনতার চাপে তুরস্কের প্রধান বিমানবন্দর থেকে রাতেই সরে যেতে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী। এরদোগান বিমানবন্দর হয়ে ইস্তাম্বুল ফিরে টেলিভিশনে ভাষণ দেন। রাস্তায় নেমে তাকেও বিক্ষোভে যোগ দিতে দেখা যায়। এই লেখাটা যখন লেখছি তখনও রাজধানী আঙ্কারার কিছু অংশ বিদ্রোহীদের দখলে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান নতুন করে গণতন্ত্র বাঁচাতে তার সমর্থকদের আঙ্কারার রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। এতকিছুর পরও খুব আচমকা কিছু না ঘটলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকছে- এটা বলা যায়।

তবে কথা হচ্ছে কেন সেনাবাহিনীর একটি অংশ এরদোগান সরকারের অপসারণ চায় আর কে আছে এর পেছনে? গত শুক্রবার অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকজন তুর্কি বন্ধুর সঙ্গে কথা বলি, যাদের অধিকাংশই সাংবাদিক, বা এখানকার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত। এমনই একজন বন্ধু, ইস্তাম্বুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, আমরাও রাষ্ট্রের কিছু পরিবর্তন চাই। কিছু জিনিসের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চাই। তবে তা অস্ত্রের মাধ্যমে না। আসলে গতকাল দেখা গেল যারা এরদোগানের কট্টর বিরোধী তারাও সেনা অভ্যুত্থানকে সমর্থন করছেন না। প্রধান বিরোধী দল বলছে, সেনা অভ্যুত্থানের কারণে লম্বা ভোগান্তি গেছে তুরস্কের উপরে। নতুন করে আর চাই না। ফলে সব বিরোধী গোষ্ঠীর সমর্থনই এরদোগান পেয়েছেন গত রাতে। যাই হোক, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বর্তমান সরকারের সমস্যা এখানেই। আসলে সেনাবাহিনীসহ অন্য বিরোধী দলগুলো বারবার অভিযোগ করছে এরদোগান সরকার যা করছে তা এ রাষ্ট্রের আদর্শবিরোধী। এ সরকার অব্যাহতভাবে ইসলামপন্থার সঙ্গে ঝুঁকে যাচ্ছে যা তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের জন্য হুমকি। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি একনায়কের মতো দেশ চালাচ্ছেন। দিনে দিনে কর্তৃত্ববাধী হয়ে উঠছেন।

এরদোগানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিজাবের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন। প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় আলোচনা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রবেশ করেছে, যা আগে ছিল নিষিদ্ধ। মূলত এসবের পুনঃবিদায় চায় এরদোগান বিরোধী শক্তি। তারা আধুনিক তুরস্কের প্রবর্তক মোস্তফা কামাল পাশার মূলনীতির সমূহ বহাল চায়। এ অভ্যুত্থানের পেছনে এসব কারণই প্রধান বলে অনেক বিশ্লেষক বলছেন।

এদিকে এরদোগান সরকার এ অভ্যুত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফেতুল্লা গুলেন-এর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে। গুলেন আন্দোলনের এ নেতার সমর্থন নিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিল এরদোগান। এরপরই দুজনের মধ্যে নানা বিষয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। পুরো তুরস্ক জুড়ে এখনও গুলেনের প্রচণ্ড প্রভাব। রয়েছে বিশাল ভক্ত বাহিনী। তবে এরদোগানের সঙ্গে তুরস্কের অভ্যন্তরে লড়াই করার ক্ষমতা ক্রমেই গুলেনের কমছে। এখন যা ‘নাই’-এর ঘরে এসে থামবে বলেই বলছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে গুলেনপন্থিদের বিদায় করেন এরদোগান। গত শুক্রবার রাতের অভ্যুত্থানের পর এক শ’র উপরে ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে চাকরি ছাড়া করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাদের একটি বড় অংশই গুলেনপন্থি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ এই অভ্যুত্থানের পেছনের কাহিনী নিয়ে অনেক কথাই হয়তো আমরা জানবো। কিন্তু এ অভ্যুত্থান এরদোগানের জন্য শাপেবর হয়ে এলো না তো? একদিকে যেমন এরদোগান নিজের জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় পাস করলেন আর একদিকে তিনি পেলেন নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। এরদোগান আরো ক্ষমতাময়ী হয়ে উঠতে চাইলে অদূর ভবিষ্যতে এমন আশঙ্কার পুনরাবৃত্তির কথা বলছেন অনেকেই। তবে অনেকেই এ থেকে শিক্ষা নিয়ে এরদোগান তার প্রথম আমলের নমনীয়তার দিকেই ফিরে যাবেন বলে আশা করছেন। আপাতত আমরা দৃষ্টি রাখি তুরস্কে কী ঘটে, বা ঘটছে সে দিকে। আর নানা তর্ক-বিতর্কের পর গণতন্ত্রের প্রতিই রাখি আস্থা।

লেখাটি আজকের মানবজমিনে প্রকাশিত হয়েছে, তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×