somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনার ঔষধ কি সত্যি আবিষ্কার হয়েছে?

১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই পোস্ট দিয়ে চিৎকার করছেন করোনার ঔষধ এসে গেছে। মানুষ গনহারে শেয়ার দিচ্ছে। সত্যি কথা হলো, যে ঔষধটা নিয়ে এত চেঁচামেচি সেটা এখনো বাজারজাত হয় নি (আপতত সে সম্ভাবনা নাই) কিন্তু নকল করে যে বাজারে আসবে না, বাংলাদেশে এর গ্যারান্টি নাই। অসাধুরা সুযোগ নেবেই। মানুষও ধুমায়া কিনবে। জ্বর হলে মুড়ির মত করে খাবে।

একটি টিকা বা প্রতিষেধক সফলভাবে বের করে আনা বেশ জটিল কাজ। এর জন্য অনেক সময় ও অর্থ দরকার হয়। টিকা বিক্রির অনুমতি পাওয়ার আগে অনেক লম্বা সময় ধরে হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। প্রি-ক্লিনিক্যাল টেস্ট, ক্লিনিক্যাল টেস্ট, এনালাইসিস, লাইসেন্স এত সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে আসতে প্রচুর সময় দরকার। আর কতটা অর্থ দরকার কল্পনাও করতে পারবেন না। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানীগুলোরও এতটা অর্থ বরাদ্দ নেই। পিফিজার, মার্ক, গ্লাক্সোস্মিথ, স্যানোফি এবং জনসন অ্যান্ড জনসন এর মত বড় বড় কোম্পানীগুলোও অসহায়। তার কারন অধিকাংশ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী এত লং প্রসেসে ইনভেস্ট করতে চায় না।

কোভিড-১৯ এর জন্য টিকা খুঁজতে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে চ্যারিটেবল ডোনেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।এর মধ্যে একটি হলো অলাভজনক সংস্থা দা কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডসেন ইনোভেশন বা “সিইপিআই”। যার যৌথ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে আছে নরওয়ে ও ভারত সরকার, বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং দা ওয়েলকাম ট্রাস্ট।সিইপিআই ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালস ও মডার্নার ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিতে সহায়তা করছে।আরেকটি সংস্থা “জিএসকে” তাদের হাতে থাকা প্রযুক্তি দিয়ে সিইপিআইকে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

মহামারি ভাইরাসের একটা পরিসংখ্যান দেখুন,
পক্স ভ্যারিওলা ভাইরাস (গুটি বসন্ত) কবে রোগটি প্রথম ধরা পড়ে সঠিক কোন তথ্য নাই। কয়েক শতাব্দি পর ১৭৯৬ সালে প্রথম এর টিকা আবিষ্কার হয়। কিন্ত টিকা আবিষ্কারের ২০০ বছর পরও ভারতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়।অবশেষে ১৯৭৯ সালে এই ভাইরাস নির্মুল করা হয়।

জিকা ভাইরাস প্রথম ধরা পড়েছিল ১৯৪৭ সালে।যার কোন ঔষধ বা টিকা আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি।

ইবোলা ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। মহামারি আকার ধারণ করা ভাইরাসটির প্রথম ভ্যাকসিন বাজারে এসেছিল ২০১৫ সালে। যে ‍ভ্যাকসিন গত বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন দেয় নি।

পোলিও ভাইরাস প্রথম ধরা পড়েছিল ১৯১৬ সালে। মহামারী আকার ধারণ করা ভাইরাসটির কারণে পঙ্গু হয়ে যায় কত মানুষ আর প্রাণ হারায় হাজার হাজার মানুষ। ১৯৫০ সালে এসে এই ভাইরাসের টিকা আবিস্কার হয়।

২০০২ ও ২০০৩ সালে পৃথিবীর প্রায় ১৭ টি দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়েছিল সার্স এবং মার্স ভাইরাস। এখন পর্যন্ত সার্স এবং মার্স ভাইরাসের কোনো টিকা তৈরী করতে পারেন নি বিজ্ঞানীরা।

এইচআইভি ভাইরাস(এইডস) প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৮১ সালে। এর পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এইডস রোগের কারনে ২কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায়। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৬% এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আজ পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন টিকা বা ঔষধ নেই।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এর কারণে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সাল এই এক বছরেই মারা গেছেন প্রায় ৫ কোটি মানুষ। এখনো এর স্থায়ী কোন সমাধান নেই। কিছু ঔষধ আবিষ্কার হয়েছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রচুর। অনেক দেশই এসব ঔষধ বিক্রির অনুমোদন দেয় না।

২০০৯-১০ সালে সোয়াইন ফ্লু'র সময় প্রায় ষাট লাখ মানুষকে গ্লাক্সোস্মিথক্লেইনের পানডেমরিক্স ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।পরে এমন কিছু সমস্যার জন্য বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন বাজার থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিলো।কারণ ভ্যাকসিনটি নেয়ার পর একজন মানুষ দিনে অনেক বার ঘুমিয়ে পড়তো অর্থাৎ স্লিপিং ডিজঅর্ডার সমস্যায় আক্রান্ত হতো।

দয়া করে যা দেখবেন তাই নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়বেন না। মহামারী আকার ধারণ করা একটা ভাইরাসের এত সহজ সমাধান থাকলে পৃথিবী এত অসহায় পড়ে থাকত না। আপনার বাংলাদেশে তৈরী হয়ে গেছে করোনার ঔষধ আর জ্ঞান বিজ্ঞানে এই দেশ থেকে হাজার গুণ উন্নত দেশগুলোও অসহায় আত্মসমর্পণ করছে ভাইরাসটির কাছে। ব্যাপারটা খুব হাস্যকর, খুবই হাসকর।

ঘরে থাকুন। সতর্ক থাকুন। সুস্থ থাকুন।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখে ঠোঁটে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


এই সমগ্র বাংলাদেশে- এখন
ইরি ধানে ধানে সবুজ ছুঁয়ে গেছে;
মাঠে মাঠে পাখিদের নব আনন্দে
হেসে ওঠছে লাল সবুজের প্রাণ;
ফসল পাকবে সমগ্র মাঠে মাঠে
সুখে সমৃদ্ধি হবে জীবন সংসারে
কৃষকের প্রত্যায়শা ভরে তুলবে
গোলা ভরা ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

ছবি সংগৃহিত

রমযান মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে ফরয করেছেন এবং কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:

شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুসনামা-২

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২



ইউনুস সরকার তাঁর আমলে যে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতি গ্রহণ করেছিল, এর প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভয়া*বহভাবে পড়েছিল, এর চেয়ে কম ভয়া*বহ প্রভাব পড়েনি আমাদের সামাজিক অঙ্গনে। সামাজিক ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×