মানব সভ্যতা বিকাশে বিজ্ঞানীরা নব আবিস্কারে সদা ব্যকুল। প্রত্যকটা আবিস্কারই মানবপ্রেমি, জ্ঞানী, গুনী ও সৎ কর্মপরায়ন লোকের কাজের সহায়তা দান করেছে। প্রত্যেকে তা মানব কল্যানেই ব্যবহার করেছেন। নবীজি (দ.) ইরশাদ করেছেন, যাকে যে কাজের লক্ষ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তারই জন্য সহজতর। বর্তমান সভ্য সমাজে মানুষের মৌলিক চাহিদার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম চাহিদা হল, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। এ প্রযু্ক্তি যুগের চাহিদা পূরণে বিজ্ঞানীদের বড় বিপ্লব এবং মানুষের কল্যানে নিয়োজিত এক অবিনব আবিস্কার। তথ্য প্রযুক্তির আলোচনা অত্যন্ত ব্যাপক যা অন্ধের হাতি দেখার গল্পের মতই। এ বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। বর্তমানে এমন কোন লোক নেই যারা কম্পিউটার,ল্যাপটপ,ট্যাব, স্মার্টপোন, আইফোন ইত্যাদি প্রযুক্তির সাথে পরিচিত নয়। হয়ত সরাসরি বা দূর হতে সম্পৃক্ত। জগতে প্রত্যেক বিষয় বা বস্তুর আলো-আধারের দুদিকই আছে। অনুরূপ তথ্য প্রযুক্তির বেলায়ই তা প্রযোজ্য। কাউকে যদি বলি, ছোট্ট একটি কাটি দিয়ে গাছের ডাল কাট। সারাদিন চেষ্টা করে বড়জোর বাকল সামান্যই তুলতে পারবে। যদি বলা হয় ধারালো দা দিয়ে কাট তা নিমিশেই কেটে ফেলবে। ধারালো দা যদি ভুল করে হাত-পায়ে কোপ লাগে তাহলে ভয়াবহ রক্তাক্ত হবে। জগতের সব কিছুর বেলায় এটা সত্যিই। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে যদি সতর্কতা অবলম্বন করা নাহয় তা ভয়ানক বিপদের কারণ হতে পারে। একটি আরবি প্রবাদ আছে, প্রত্যেক বস্তুকে তার বিপরীত দিয়ে চেনা যায়। তাই প্রারম্ভে বিপরীত মাত্রার ব্যবহার ও তার ক্ষতিকর দিক আলোকপাত করছি- বাংলাদেশ বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষেই পা বাড়াচ্ছে। সাথে ইন্টারেনট ব্যবহারকারী বাড়ছে বাহু গুনে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুক, টুইটার, ভাইভার, ওয়াটস আপ সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম। অতি হাতের নাগালে পেয়ে অনেকে তা ধর্মীয় উন্মাধনা, কুরুচিপূর্ণ ছবি, পর্ণগ্রাফী ভিডিও জঙ্গীবাদের মত উগ্রপন্থা এসব মাধ্যমে ছড়াচছে। অনেকে ছদ্ধনাম ব্যবহার করে বিভিন্ন আইডি খুলে কারো চরিদ্র হনন ও বিভিন্ন উন্মাদনা ছড়ায় তাতে। বড়ই দু:খ লাগে যখন দেখি ফেইজ বুক সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লিলতা ছড়ায় আবার তা অন্যের কাছে শেয়ার করে। অথচ কে তা লাইক করল বা শেয়ার করল তা অন্যের কাছে স্পষ্ট দেখা গেল। তাতেও লজ্জাবোধের উদয় হয়না। একটি জাতীয় পত্রিকার দেখেছি, আমাদের প্রজন্মের বিরাট একটি অংশ বিভিন্ন খারাপ ওয়েব সাইট গুলো ব্রাউজ করে। আবার এ পত্রিকায় তাও আছে, কেউ যদি একবার খারাপ ওয়েব সাইটগুলোতে একবার প্রবেশ করলে তাতে তার প্রবেশের পদচিহ্ন আজিবন থেকে যায়। আবার প্রায়ই ধর্মীয় অত্যন্ত ভাব গাম্ভীর্যময় ছবি ও ভিডিও সাইবার জগতে ছেড়ে দেয়া হয়। বাস্তবে এসব ছবি ও ভিডিওর সত্যতা খুজে পাওয়া দুষ্কর হয় । অনেক সময় সত্যতাই মিলেনা। ফলে সত্য ও বস্তুনিষ্ট অনেক খবরাখবর ছবি ও ভিডিও সহজে বিশ্বাস করতে অসুবিধা হয়। ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিছু উচ্ছৃংখল ও ধর্মীয় উম্মাদনা প্ররোচনাকারী ব্যক্তি চট্টগ্রামের রামুতে ফেইস বুকে গুজব ছড়ায়ে অসংখ্য বৌদ্ধবিহার পুরিয়ে দিয়েছিল। যাকে বলা হয় সাইবার অপরাধ। আরো কিছু সাইবার অপরাধ হল, প্রতারণা- ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নানাভাবে যোগাযোগ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে প্রতারিত করা হয়। অনেক সময় ইন্টেরনেটে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল বা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। চাই শত্রুতাপ্রসুত, রাজনৈতিক কিংবা অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে করা হউক। নিজস্ব পরিচিত ঠিকানা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে করা হলে তা অভিযোগের মাধ্যমে বন্ধ করা যায়। অজ্ঞাত পরিচয়ে তা বন্ধ করা কঠিন হয়। কম্পিউটার ব্যবহার করার বেলায় অতি সতর্কতা প্রয়োজন যেন তা আসক্তির পর্যায়ে যেন না পৌছে। ২০০৯ সালের একটি ঘটনা- চীনে দুজন দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের তিনজন ছেলে-মেয়েকে বিক্রি করার অপরাধে। অভাব-অনটন , জীবনে মৌলিক চাহিদা বা প্রাণ রক্ষার্থে সন্তান বিক্রি করেনি। শুধুমাত্র এম এমও নামে এক ধনের গেম ৩০০০ হাজার ডলারে কিনার চাহিদা পূরণের জন্য এ সন্তান বিক্রি করে। সুতরাং স্পষ্টই বলা যায় আসক্তি কত মারাত্মক পর্যায়ে মানুষকে নিয়ে যায়। আজকাল প্রত্যেকই কমবেশী কম্পিউটার ব্যবহার করেন। আমাদের কোন ব্যাপারটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা আসক্তি। যখন দেখি মা –বাবা, ভাই-বোন ও বন্ধু-বান্ধবদের সময় না দিয়ে সেই সময়টা কম্পিউটারের পিছনে ব্যয় করলে তখন বুঝতে হবে তার কম্পিউটার বা তথ্য প্রযুক্তিতে আসক্তি জন্মেছে। যখন তথ্য প্রযুক্তিতে আসক্তি হলে দেখা যাবে কাজকর্মে ক্ষতি হচ্ছে। লেখা-পড়া ব্যঘাত সৃষ্টি সহ গভীর রাত পর্যন্ত নির্ঘুম থাকার ফলে স্বাস্থের হানি হয়। বর্তমানে বড়-ছোট ছেলে-মেয়েদের সমস্যা হয়ে নতুনভাবে দাড়িয়েছে তা হল, সামাজিক নেটওয়ার্কের আসক্তি। প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সময় ঘন্টার পর ঘন্টা কোন কাজে না লাগিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্কে পরিচিত, অর্ধ-পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের সাথে কাটিয়ে দিচ্ছে। তাই প্রত্যেক কিছুর একটি সীমারেখায় আবদ্ধ করা উচিত। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে মিশে, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা সকলের আয়ত্ত করতে হয়। আমাদের প্রজন্ম যদি প্রযুক্তির ব্যবহার করে আসক্ত হয়ে শুধু বদ্ধ ঘরে বসে থাকে তা সুখকর নয়। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজে বা সন্তান-সন্ততির ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে নিন্মোক্ত সতর্কতা অবলম্ব করা- সন্তানদের কম্পিউটার, বা অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যম ব্যবহার যেন হয় সকলের চোখের সামনে। কিশোর কিংবা অপরিপক্ষ সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সদা দৃষ্টি রাখা। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্যবহারে অধিক সময় ব্যয় করে যেন লেখা পড়া ও সহশিক্ষা কার্য্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটা। নির্দিষ্ট একটি সময়ে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেয়া। প্রয়োজনে সন্তানদের সাথে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা। সাইবার ক্রাইমে যেন জড়িয়ে না পরে দৃষ্টি রাখা। প্রত্যেকের উচিত তথ্য প্রযুক্তির আইন সম্পর্কে অবগত হওয়া। কপিরাইট আইন জানা। কম্পিউটারে সময়ের অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তা সচেতনভাবে দৃষ্টি রাখা।
অন্যদিকে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সৃষ্টিশীল ও শিক্ষণীয় কাজে ব্যবহার করে সমাজে ও ব্যক্তি জীবনকে আলোকিত করা যায়। বিভিন্ন সপ্টওয়্যার ,অ্যাপস, ইবুক ও পিডিএফ ফাইলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে শিক্ষার জায়গা বিরাট প্রশস্থ করা হয়েছে। ইন্টারনেটে গুগল সহ আরো বিভিন্ন চার্জ ইঞ্জিন ব্যবহার করে যেকোন তথ্য পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত হতে সহজেই যেকোন বিষয় সার্জ বা অনুসন্ধান করা যায়। শুধুমাত্র সঠিক শব্দ লেখা প্রয়োজন। একটি উদাহরণ এখানে প্রনিধান যোগ্য। আমি গাউসে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রাহ
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক: বিনাজুরী নবীন স্কুল এণ্ড কলেজ,রাউজান।
Email: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

