আমি থাকি মফস্বল এলাকায়। মফস্বল এলাকা মানেই একটু নিরিবিলি, চুপচাপ। যেখানে গাড়ি-ঘোড়ার কোন শব্দ নেই, নেই জ্যামে পরার ভয়।
আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, প্রায় আট দশ বছর আগের কথা। তখন আমাদের এলাকাটা ছিল খুবই শান্ত। তারপর আস্তে আস্তে হয়ে উঠেছে আধুনিক শহর।
যখন আমি খুব ছোট, তখন আমাদের এলাকায় আসতো নানা ধরনের ফেরিওয়ালারা। তারা বিভিন্ন ধরনের জিনিস ফেরি করে বেড়াতো। ফেরিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হতে পারে-
চুরিওয়ালা, লেসফিতাওয়ালা, তাবিজওয়ালা, লুঙ্গিওয়ালা, শনপাপড়ীওয়ালা ইত্যাদি।
অসম্ভব ভালো লাগতো লেস ফিতাওয়ালাদের ডাক। চমৎকার সুর করে তারা ডাকতো-
"লেইস ফিতা.... লেইস......"
হা হা হা
তবে শনপাপড়ীওয়ালাদের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা ছিল আমার।
একজন শনপাপাড়ীওয়ালার প্রতি আমার প্রচন্ড মায়া হত। লোকটাকে দেখলেই খুব মায়া লাগতো। গায়ের রং ছিলো ফর্সা, গাল দুটো ভরা ছিলো, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ছিলো। তবে অসম্ভব সুন্দর ছিলো তার হাসি। চমৎকার করে হাসতে পারতো লোকটা। সে প্রতি দিন আসতো না। হয়তো সপ্তাহে দুদিন আসতো।
মাঝে মাঝে খুব অবাক হয়ে ভাবতাম, এত সুন্দর একজন মানুষ, অথচ সে কিনা কাঁধে বোঝা বয়ে গ্রামে গ্রামে শনপাপড়ী বিক্রি করে বেড়ায়।
আজ লিখতে বসে সেই প্রিয় মানুষটার কথা মনে পরে গেলো। বহু বছর হয়েছে তাকে দেখিনা। হয়তো আর কখনো দেখবোওনা তাকে।
আগে শনপাপড়ীওয়ালারা পিতলের এক ধরনের ঘন্টা নিয়ে আসতো। সেই ঘন্টার শব্দ শুনে দৌড়ে আসতাম। শনপাপড়ী কিনি বা না কিনি। তাদের দেখলেই ভালোলাগতো।
আস্তে আস্তে সব হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মফস্বল শহর এখন আধুনিক শহরে রূপ ধারন করেছে। আমরা মানুষগুলোও খুব আধুনি হয়ে গেছি। শহরের বড় বড় অট্টালিকার ভিড়ে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সব কিছু।
কিন্তু আজ বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, হঠাৎ দেখি এক শনপাপড়ীওয়ালা শনপাপড়ী বিক্রি করছে। অনেক দিন পর শনপাপড়ীওয়ালাকে দেখে একটু অবাকই হয়েছি। তাই সবাইকে শনপাপড়ী কিনে খাইয়েছি। আমি নিজেও খেয়েছি। সুযোগটা হাতছারা করিনি।
জানিনা আর কখনো দেখতে পাব কিনা এই শনপাপড়ীওয়ালাদের
-----সাঈফ জামান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



