somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারবো কি লক্ষ শহীদের ঋণ শোধ করতে?

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন খুব ভোরে উঠেছি। সচরাচর এত সকালে ঘুম ভাঙ্গে না আমার। সেদিন হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। অবশ্য ঘুম ভাঙ্গার একটা বিশেষ কারনও আছে। সেদিন অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। “একটি গ্রাম, গ্রামের মধ্যে বিশাল এক বাজার বসেছে। সেই বিশাল বাজারের মাঝখানে প্রায় সব মানুষ জটলা পাকিয়ে আছে। আমি তার পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষেরই জানার কৌতুহল থাকে। আমারও ঠিক তাই। সেই জটলা পাকানো মানুষের ভিড়ে ঢুকে গেলাম জানার জন্য, কি হয়েছে? ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকেই ধাক্কা খেলাম। আমাদের দেশের দুই নেত্রী দুইটি চেয়ারে বসে আছেন। দুইজন দুইজনকে দোষারোপ করছেন। আর চারপাশের মানুষগুলো তাদের ঘিরে রেখেছে। সবাই তাদের এই তর্কবিতর্ক চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে। কেউ কিছু বলছেনা। আমার মেজাজ খুব খারাপ হলো। হঠাৎ করেই আমি তাদের দুইজনকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আপনারা পেয়েছেনটা কী? আপনারা যা ইচ্ছে তা করে যাবেন। আর আপনাদের ভুলের কারনে আমরা সাধারণ মানুষ কষ্টে থাকবো। আর কতকাল এমন নোংরা খেলায় মেতে থাকবেন? আপনাদের জন্য আজ আমাদের দেশের কি অবস্থা সেদিকে কি খেয়াল রেখেছেন? আপনারা কি চোখের মধ্যে টিনের চশমা পরে থাকেন? এভাবে আর কত দিন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন? এই কথা বলতে বলতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। যারা এখন আমার লেখা পড়ছেন তারা হয়তো ভাবছেন, কি সব লিখছি। কিন্তু এটাই সত্যি। বেশ কিছু দিন ধরে দেশের যে পরিস্থিতি, আমার মনে হয় দেশের প্রত্যেকটা মানুষই এমন স্বপ্ন দেখে।

সে দিনকার আকাশে ছিল ঝকঝকে রোদ, রোদ আমার বরাবরই প্রিয়। রোদে স্নান করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শীতের সকালের মিষ্টি রোদ হলেতো আর কথাই নেই। অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। প্রতিদিনই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ঐদিন খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। বুঝতে পারলাম না।

সেদিন সারা দেশে সরকারি ভাবে অবরোধ চলছিলো। বিরোধী দলের ছিলো দ্বিতীয় দিনের “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি।” সে দিন বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এত সহজে যে গাড়ি পেয়ে যাবো ভাবতে পারিনি। তারপরও ভয় কাটলো না। আমাকে আরও একটা স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠতে হবে। আমি খুব ভালোভাবেই স্টেশনে গিয়ে পৌছলাম। সেখান থেকে গাড়িও পেয়ে গেলাম। খুবই অবাক লাগছিলো। সরকারি দলের অবরোধেও গাড়ি চলছে। কিন্তু না, অল্প কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই পুলিশের বাধা। পুলিশ বললো-
“আর যাওয়া যাবেনা।”
“কি অদ্ভুত, তাহলে অফিস পর্যন্ত কি ভাবে যাবো?” পুলিশের কাছে প্রশ্ন করলাম।”
পুলিশ বললো, “হেঁটে চলে যান।”
“এতদূর হেঁটে কি করে যাবো?”
“তাতো জানি না। তবে গাড়ি আর যাবে না।”
গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে একদল পুলিশের কাছাকাছি গেলাম। পুলিশদের উদ্দেশ্য করে বললাম-
“ভাই এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে?”
এক পুলিশ দূর থেকেই আমাকে উত্তর দিল, “সরকারি দল আর বিরোধি দল যতদিন চালায়”
এর পর আমার কি বা বলার থাকে। ঐ পুলিশ আমার সামনে এসে কিছু কথা বললো, “এই দুই সরকার দেশটাকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে নিয়ে গেছে। ওখান থেকে উঠার ক্ষমতা হয়তো বাংলাদেশের আর থাকবেনা।”
কি ভয়াবহ একটা কথা। ভীষণ খারাপ লাগছিলো তখন। আমি আরও কয়েকজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
“আমরা একবার ৭১ এ যুদ্ধ করেছি। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা সোনার বাংলা পেয়েছি। কত মা, বোন ইজ্জত দিয়েছে, কত ভাই প্রাণ দিয়েছে। সেই প্রাণের, ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অথচ আজ আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনা, কাজের জন্য কর্মস্থলে যেতে পারিনা, পেট্রোল বোমায়, কক্টেলে প্রাণ হারাবার ভয়ে। আমাদের দেশটাকে সারা বিশ্বের কাছে কলঙ্কিত করে ফেলেছে এই নোংরা স্বার্থপরের রাজনীতি। কোথায় আমরা সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়াবো। তা নাকরে আমাদের দেশ আজ বিশ্বের বুকে ছোট থেকে ছোট হয়েই চলেছে। এর থেকে পরিত্রাণ কি কখনো পাবো না?”
আমাকে এক পুলিশ জবাব দেয়, “ভাই আমরা সবই বুঝতে পারি। কিন্তু আমাদের মুখ বাঁধা। সারকার আমাদের যা নির্দেশ দিবে তাই করতে হবে। এই যে আপনি কিছু কথা বললেন, সবই ঠিক কিন্তু বেশি কিছু বলতে গেলেই দেখবেন, কোন দিন আপনাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাই আর কিছু না বলে, যান কাজে যান।”
আমি সেদিন হেঁটে হেঁটেই অফিসে এসেছিলাম। এইতো আমার দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ।

(যখন ছোটখাট একজন সাংবাদিক ছিলাম, তখনকার ঘটনা।)
-----সাঈফ জামান
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×