পুলিশ হচ্ছে একটা দেশের জনসাধারণের আসল দর্পণ। পুলিশের সততা, কর্মনিষ্ঠার ব্যারোমিটারে একটা দেশের মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করা চলে। বর্তমান সমাজে যেখানে চারিদিকেই অসততার ঢেউ, সেখানে প্রচুর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশকে সৎ থাকতে বলার অর্থই হল একজনের মুখে একখণ্ড মিশ্রি পুরে দিয়ে তাকে হুকুম দেয়া -- চুষবে, কিন্তু সাবধান! রস গিলতে পারবে না।
---- নটরাজনের লেখা উপন্যাস পুলিশ সাহেব থেকে উদ্ধৃত
পুলিশের মডারেট অফিসাররা প্রায়শই এই উক্তি উদ্ধৃত করে থাকে তাদের সতীর্থদের অপকর্মের সাফাই গাইতে গিয়ে। কিন্তু এটা আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত। ধরে নিলাম আমাদের সমাজ খুব খারাপ, সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষের অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত। কিন্তু তার পরেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। সরকারী ব্যাংকেই শুধু চুরী হয় কেন, বেসরকারী ব্যাংকে হয় না কেন। এক সমাজের লোকইতো দুই জায়গায় কাজ করে। পুলিশতো মিশনে গেলে ঠিকই সোজা হয়ে যায় কিন্তু দেশে অাসলেই অাগের চেহারা। এই দেশের লোকেরাইতো অান্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরী করে রফতানী করে, কিন্তু সরকারী লোকজন দেশী মানও বজায় রাখতে পারে না। সরকারী চিনীকল, পেপার মিল, পাটকল সারাজীবন লোকসান এ চলল, অথচ সেগুলো কিনে নিয়ে মেঘনা ও বসুন্ধরা গ্রুপ দিনে দিনে শুধু লাভই করে যাচ্ছে।
সরকারী হাসপাতালে গেলে ঘৃনায় বমি আসে অবস্থা দেখে, সরকারী প্রাইমারী স্কুলে কোন ভদ্রলোক তার বাচ্চা কাচ্চাকে পড়ানোর কথা চিন্তাও করে না। সরকারী ট্রান্সপোর্ট বিআরটিসি যেখানে লোকসানের ভারে মুখ থুবরে পড়েছে, সেখানে এস এ পরিবহনের মত প্রাইভেট কোম্পানী শুধু ট্রান্সপোর্ট ব্যাবসা থেকেই আজকে টিভি, কুরিয়ার এমনকি ব্যাংকিং ব্যাবসা করে গ্রুপ অফ কোম্পানীতে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান কোনদিনও লাভ করেনি, অথচ একই রুট এ একটার যায়গায় এখন চার-পাচটা বেসরকারী বিমান চলাচল করে এবং লাভও করে। এরকম ভূড়ি ভূড়ি উদাহরণ তৈরী করেছে সরকারী লোকজন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে চড়ম অযোগ্য, অকর্মন্য ও অথর্ব লোকজন দিয়ে সরকার সার্ভিস পরিচালনা করে। সরকারী সেবায় নুন্যতম মানদন্ড বলে কিছু নাই। ইহকালে মানুষ চোর, বাটপার, ছিনতাইকারী, চাদাবাজ ও ডাকাতকে যত না ভয় পায় তার চেয়ে বেশি ভয় পায় সরকারী লোকজনকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




