
অনেক দিন আগের কথা। সেই সময় সিঙ্গাপুর নামক রাজ্যে পরমেশ্বরা নামে এক জন রাজা ছিলেন। তিনি নামে মাত্র রাজা বা পুতুল রাজা ছিলেন। প্রকৃত পক্ষে সিঙ্গাপুর শ্যাম দেশীয়দের দ্বারা শাসিত হতো। এ কারণেই তিনি ছিলেন খুবই অসুখী।
এক দিন রাজার সাথে শ্যাম দেশীয় এক অফিসারের খুব ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে রাজা তাকে হত্যা করেন। শ্যাম দেশের রাজা এ ঘটনায় খুবই ক্রুদ্ধ হন। তিনি তার সৈন্যদেরকে পরমেশ্বরাকে বন্দী করে নিয়ে আসতে আদেশ করেন।
রাজা পরমেশ্বরার পালানো ছাড়া উপায় ছিলো না। তিনি রাণী ও সৈন্যবাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেলেন। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে উত্তরে চলে গেলেন। শ্যামদেশীয় সেনাবাহিনী তাকে খুজে পেল না।
এক দিন পরমেশ্বরা তার লোকদেরকে বললেন, “ আমরা সুবিধা মতো একটি সুন্দর জায়গা খুজে নেব এবং একটি নতুন রাষ্ট্র শুরু করবো। যেটা হবে সবার বসবাসের জন্য নিরাপদ”।
রাজার লোকেরা তার কথায় রাজি হলো।
একদিন তারা নদীর পাশের একটি আড়াল যুক্ত জায়গায় এলেন। সেখানে পরমেশ্বরা একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সহসা তিনি তার পিছনে একটি ছোট্ট হরিণ দেখতে পেলেন। রাজার কুকুরটি হরিণটিকে শিকার করার চেষ্টা করছিলো।
হরিণ টি ভয় পেল না। সে সাহসের সাথে কুকুরটিকে প্রতিরোধ করলো। কুকুরটি পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো।
“এই জায়গাটিকেই আমি পছন্দ করলাম। এসো এখানেই আমাদের ঘর-বাড়ি নির্মাণ করি”। রাজা পরমেশ্বরা ঘোষণা করলেন।
পরমেশ্বরা তার পাশের একটি গাছকে দেখিয়ে বললেন, “এই গাছকে তোমরা কি নামে ডাক?”
“মেলাকা গাছ, জাহাপনা”।তার লোকেরা উত্তর দিলো।
“তাহলে আমরা এই জায়গাটিকে মেলাকা নামেই ডাকবো”। রাজা ঘোষণা করলেন।
তিনি তার লোকদেরকে নতুন পাওয়া এই ভূমিতে ঘর-বাড়ি নির্মাণ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার জন্য আদেশ জারি করলেন।
উন্নয়ণ শুরু হয়ে হলো। ব্যবসায়ীরা সেখানে ব্যবসা করার জন্য আসতে শুরু করলো। তারপর এই রাজার শাসনে মেলাকা একটি সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হলো। অনেক বছর তিনি প্রজাদের নিয়ে সুখে রাজ্যত্ব করেছেন।
বি. দ্র. মেলাকা বা মালাক্কা বর্তমানে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ।
রাজা পরমেশ্বরা সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



