somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ সাজ্জাদ  হোসেন
আমি কখনো নিজের নাম লুকোই না। আকাইমা শব্দ দিয়ে বানানো ছন্ম নাম আমার পছন্দ নয়। মা-বাবা'র দেয়া নাম দিয়েই প্রোফাইল খুলেছি।

লেখাটি অবশ্যই পড়া উচিত

০৫ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেখেন কান্ড! মালয়েশিয়ার চিত্রপট!
---------------------------------------------------
==♪== গৌতম রায় ==♪==

ইন্দোনেশিয়া হয়ে মালয়েশিয়ায় ঢুকেছিল বাংলাদেশের এই মানুষগুলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য! তিন লাখ টাকায় এসে মালয়েশিয়া দর্শনের আগেই শ্রীঘর দর্শনে যাচ্ছে। সমুদ্র উপকূল থেকে সম্প্রতি এই গরুগুলোকে আটক করে মালয়েশিয়া পুলিশ। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, মালয়েশিয়ায় দু'পা ফেলিয়া।
গরু এখন জেলের ঘানি টানবে। শুধু তাই নয়, মালয়েশিয়া আইন অনুসারে- অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে কেউ ধরা পড়লে সাজা হিসাবে সর্বোচ্চ তিনটি বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। তার সাথে কারাদন্ড, অর্থদন্ড তো আছেই। মানে যৌবন অর্ধেক শেষ। গরুকে তো বেত্রাঘাতই করতে হয়।
কি ব্যাপার! আপনি দুঃখ করছেন? আমি কিন্তু একদমই না। জানেন কেন? ধরুন, উড়িষ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণী ভয়াবহ হামলা চালাবে সবাই জানে। কিন্তু কোন বোকা জেলের দল যদি কারো কথা না শুনে, সবকিছু উপেক্ষা করে জোর করে সাগরে ট্রলার নিয়ে ঢুকে যায় আপনি কি করবেন? পারবেন বাঁচাতে? হয়তো আফসোস করবেন। আবার কেউ হয়তো রাগে ক্ষোভে বলবেন- শালা মরুক গে! আমি কিন্তু বলি বেটারা গরু। নাহলে এই দুর্যোগে যায় কেউ?
হ্যাঁ যায়। যেমন, আমার দেশের গরুগুলো। ইন্দোনেশিয়া হয়ে যায়। আহারে কি স্বপ্ন মালয়েশিয়ায়! একবার কোনভাবে ঢুকতে পারলেই হলো। পাশের বাড়ীর মতিনের মতো সেও কোটিপতি হবে। মতিন যে কি করে কোটিপতি হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় চাকুরী করে যে কোটিপতি হওয়া যায় না সেটা তো আহাম্মকরা জানে না। তারপরেও আবার দুই তিন দেশের ইমিগ্রেশন, কোষ্ট গার্ড, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে চ্যালেঞ্জ করে? গরুর বুদ্ধিতে যা আছে। এরপরেও যদি সফল হয় মালয়েশিয়া ঢুকার। তারপর? তারপরের ইতিহাস আমরা জানি সবাই। এখনো লাখো অবৈধ শ্রমিক ছটফট করছে দেশে ফেরার জন্য। প্রয়োজনে লাখ টাকা হলেও খরচ করবে। তারপরেও তো পারছে না যেতে। মালয়েশিয়া যদি এতই স্বপ্নের দেশ হয় তাহলে ওরা কি ফিরে যেতে চাইতো? আর এই দেশে বৈধভাবে থাকলেই বা লাভ কি? লাভের গুড় তো খেয়ে ফেলে লেভী আর দালালরাই। আবার আছে শ্রমিকের আয়ে ভাগ বসানোর ব্যবস্থাও। পথে ঘাটে আছে ফুলিশ। যাকে আমরা আদর করে মামু বলি।
বাংলাদেশে একজন ভ্যান চালক বা ঠেলাগাড়ী চালকের দৈনিক মুজুরী ৭০০ টাকা। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এবার ভাবুন, নিজ দেশ ছেড়ে এত ঝুঁকি নিয়ে ৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে যায় তাদের আপনি কি বলবেন? আমি গরু বললে দোষ হবে কেন? আপনি কি এদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলবেন? এদের দ্বারা কি দেশ উপকৃত হবে? আমি তো বলি- রেমিট্যান্স বলদ। এছাড়া খবর নিন তো ক'জন শ্রমিক দেশে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা পাঠায়? তাহলে কি আছে মালয়েশিয়ায়? নিজ দেশ ছেড়ে কেন ওরা ভিন দেশের ক্রীতদাসত্ব বেছে নেয়। কেউ কেউ বলেন, কি করবে বলুন? দেশে কাম কাইজ নাই। তাই বিদেশ যায়। কথাটা সর্বাংশে মিথ্যে। যদি দেশ থেকে বেরিয়ে মাসে লাখ টাকা কামানো যায়, তাহলে রিস্ক একটা নেয়া খুব ভুল নয়। কিন্তু প্রায় আমার দেশের সমতূল্য আয় যেদেশে, সেদেশে কেন আমি রিস্ক নেবো? কোন সাহসে বা কোন ভরসায়?
একদিন অনেকে বলতো- না জেনে যাচ্ছে। এটাও ভুল। সারাদিন ফেইসবুক টিপতে পারে, রাজনীতিও ভালো বুঝে, ক্রিকেটে রানের হিসাব তো কম বুঝে না। তাহলে নিজের ভালোটা কেন বুঝে না? ঐ যে বললাম গরু। গরু কি আর পেপার পড়ে, টিভি দেখে? কোনকিছুর খবর রাখে?
কিন্তু গরুর উপরেও আছে বলদ বা ধামড়া। সেটা হলো গরুগুলোর অভিবাবক। যারা চোখ বুঝে সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে ফেলে দিচ্ছে। এই বলদগুলোই হচ্ছে দেশের আগাছা।
এরাই মেয়ে হলে ১৮ এর আগেই অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে ঘরছাড়া করে। আর ছেলে হলে বিদেশ পাঠিয়ে বাড়ীছাড়া করে। এবার তোরা মানুষ হ'...।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:২১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফতোয়া যখন আইসক্রিম: ক্ষমতার গরমে গলে, মার্কিন বাতাসে জুড়ায়!

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩




মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×