আমার ছেলে মেয়েরা বই পড়তে খুবই পছন্দ করে। কুয়ালালামপুরে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে একটি সুপার শপ আছে যার নাম Tesco.

এই শপের বই ও স্টেশনারী করনারে যে কয়েকখানা ইংরেজি বই আছে তার বেশির ভাগই তারা পড়ে শেষ করে ফেলেছে। টলিতে বসে বসে তারা দুজনে বই পড়ে। বাজার করা শেষ হলে বইগুলি আবার যথাস্থানে রেখে আমরা চলে আসি। এখান থেকে বেশ কিছু বই আমরা কিনেও ফেলেছি।

পপুলার নামে বই ও স্টেশনারির যে বিশাল দোকান আছে সেখানকার চিল্ড্রেন কড়া নাড়ে অনেক শিশুরা বসে বসে বই পড়ে। আমার বাচ্চারাও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। তবে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা সম্ভব না। তারা চায় সবগুলি বই বাসায় নিয়ে আসতে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব যে সবগুলো বই কিনে ফেলব।
শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম, ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মালয়েশিয়া তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখি। একদিন শনিবার সকাল দশটায় ছুটলাম সেখানে। বিশাল লাইব্রেরি বিল্ডিং এর বাইরে রাস্তায় সাধারণের পার্কিংয়ের জায়গা। সেখানে পার্কিং করে ভেতরে খোঁজ নিয়ে শিশু বিভাগের ঢুকে পড়লাম। শিশু বিভাগে ঢুকতে হলে জুতা খুলে বাইরে রেখে আসতে হবে। ভেতরের ঝকঝকে-তকতকে পরিষ্কার। বিশাল কক্ষের পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। শিশুদের পড়ার জন্য রয়েছে ছোট ছোট টেবিল ছোট ছোট চেয়ার। তাদের বিনোদনের জন্য রয়েছে অনেকগুলো কম্পিউটার গেম খেলা চলে। ইচ্ছে করলে তারা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন। তাদের জন্য বড় আকারের টিভি ও রাখা আছে সেখানে তারা শিক্ষামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পারে।

সেখানে দেখলাম মালয় ও চাইনিজ ভাষার বইয়ের সাথে সাথে ইংরেজি বইয়ের ব্যাপক সমাহার। অনেকদিন পর প্রাণ খুলে শত শত বই দেখলাম। আমার ছেলেমেয়েরাও বই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এত বই তো পড়ে শেষ করা যাবে না। পাঠ কক্ষের ভিতর পাঠকদের সেবার জন্য বিরাট একটি টেবিলে এখানে তিন জন স্মার্ট তরুণ তরুণী বসে আছেন পাঠকদের সেবা দেওয়ার জন্য। তোদের কাছে বই এন্ট্রি করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে । আবার কেউ বই পড়ে ফেরত দিয়ে যাচ্ছে।

এই টেবিলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমরা মালয়েশিয়ার নাগরিক নই আমরা কি বই নিতে পারব? স্মিত হেসে তিনি জবাব দিলেন , অবশ্যই পারবে তোমরা কি সাথে পাসপোর্ট নিয়ে এসেছো?
আমরা পাসপোর্ট সাথে করেই নিয়ে এসেছি।
তাহলে তোমরা দু' তলায় চলে যাও । সেখানে দেখবে মেম্বারশিপ দেয়ার জন্য আলাদা কাউন্টারে এক জন ভদ্রলোক বসে আছেন। তিনি তোমাদেরকে মেম্বার করে দিবেন। মেম্বার করার পরে তোমার দুটি কার্ড পাবে । কার্ড দুটি নিয়ে আমাদের কাছে চলে আসো। প্রতিটি কার্ডে এক সাথে ছয়টি করে বই বাসায় নিতে পারবে এবং এক মাস রাখতে পারবে । এক মাস পরে বই গুলো ফেরত দিয়ে আবার 6 টি করে বই নিতে পারবে। আবার এক মাস পড়তে পারবে।

দুতলায় গিয়ে যথারীতি ভদ্রলোককে আমাদের কথা জানানোর পর তিনি কম্পিউটার লগ ইন করে আমার কাছে এগিয়ে দিলেন আমি নাম ঠিকানা পাসপোর্ট নাম্বার সব কিছু টাইপ করে উনাকে দেখালাম তারপর উনি আমাদেরকে বসতে বললেন প্রায় 10 মিনিট অপেক্ষা করার পরে উনি আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমাদের হাতে দুটি মেম্বারশীপের কার্ড ধরিয়ে দিলেন কার দুটি নিয়ে আবার শিশুদের পাঠ করতে গিয়ে অনেকগুলি বই বেছে নিয়ে সেগুলি সংশ্লিষ্ট ট্রেনে করে বাসায় আসলাম।
লাইব্রেরী একটি জাতির অহংকারের প্রতীক । একটি জাতি কতটা উন্নত তা সে জাতির লাইব্রেরী দেখলেই বোঝা যাবে। মালয় ভাষায় ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মালয়েশিয়াকে বলে- PARPUSTAKAN NEGARA MALAYSIA.
আমার ছেলে নন ফিকশন বই পড়তে বেশি পছন্দ করে বলে বিজ্ঞানভিত্তিক বইগুলো বাসায় নিয়ে এসেছে। বইগুলোর কভার এই পোস্টে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বইগুলো জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ 27 শে জুলাই। কিন্তু এরই মধ্যে বইগুলো পড়া শেষ হয়ে যাওয়াতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে , আগামী শনিবার অথবা রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মালয়েশিয়াতে গিয়ে বইগুলো জমা দিয়ে আরও নতুন নতুন বই আমরা বাসায় নিয়ে

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



