somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মালয়েশিয়াতে এক দিন।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ছেলে মেয়েরা বই পড়তে খুবই পছন্দ করে। কুয়ালালামপুরে আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে একটি সুপার শপ আছে যার নাম Tesco.

বাজার করার সাথে সাথে বই পড়াও প্রায় শেষ

এই শপের বই ও স্টেশনারী করনারে যে কয়েকখানা ইংরেজি বই আছে তার বেশির ভাগই তারা পড়ে শেষ করে ফেলেছে। টলিতে বসে বসে তারা দুজনে বই পড়ে। বাজার করা শেষ হলে বইগুলি আবার যথাস্থানে রেখে আমরা চলে আসি। এখান থেকে বেশ কিছু বই আমরা কিনেও ফেলেছি।

National Library of Malaysia logo


পপুলার নামে বই ও স্টেশনারির যে বিশাল দোকান আছে সেখানকার চিল্ড্রেন কড়া নাড়ে অনেক শিশুরা বসে বসে বই পড়ে। আমার বাচ্চারাও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। তবে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা সম্ভব না। তারা চায় সবগুলি বই বাসায় নিয়ে আসতে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব যে সবগুলো বই কিনে ফেলব।

শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম, ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মালয়েশিয়া তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখি। একদিন শনিবার সকাল দশটায় ছুটলাম সেখানে। বিশাল লাইব্রেরি বিল্ডিং এর বাইরে রাস্তায় সাধারণের পার্কিংয়ের জায়গা। সেখানে পার্কিং করে ভেতরে খোঁজ নিয়ে শিশু বিভাগের ঢুকে পড়লাম। শিশু বিভাগে ঢুকতে হলে জুতা খুলে বাইরে রেখে আসতে হবে। ভেতরের ঝকঝকে-তকতকে পরিষ্কার। বিশাল কক্ষের পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। শিশুদের পড়ার জন্য রয়েছে ছোট ছোট টেবিল ছোট ছোট চেয়ার। তাদের বিনোদনের জন্য রয়েছে অনেকগুলো কম্পিউটার গেম খেলা চলে। ইচ্ছে করলে তারা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন। তাদের জন্য বড় আকারের টিভি ও রাখা আছে সেখানে তারা শিক্ষামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পারে।

১। The Bicycle

সেখানে দেখলাম মালয় ও চাইনিজ ভাষার বইয়ের সাথে সাথে ইংরেজি বইয়ের ব্যাপক সমাহার। অনেকদিন পর প্রাণ খুলে শত শত বই দেখলাম। আমার ছেলেমেয়েরাও বই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এত বই তো পড়ে শেষ করা যাবে না। পাঠ কক্ষের ভিতর পাঠকদের সেবার জন্য বিরাট একটি টেবিলে এখানে তিন জন স্মার্ট তরুণ তরুণী বসে আছেন পাঠকদের সেবা দেওয়ার জন্য। তোদের কাছে বই এন্ট্রি করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে । আবার কেউ বই পড়ে ফেরত দিয়ে যাচ্ছে।

২। Tsunamis

এই টেবিলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আমরা মালয়েশিয়ার নাগরিক নই আমরা কি বই নিতে পারব? স্মিত হেসে তিনি জবাব দিলেন , অবশ্যই পারবে তোমরা কি সাথে পাসপোর্ট নিয়ে এসেছো?

আমরা পাসপোর্ট সাথে করেই নিয়ে এসেছি।

তাহলে তোমরা দু' তলায় চলে যাও । সেখানে দেখবে মেম্বারশিপ দেয়ার জন্য আলাদা কাউন্টারে এক জন ভদ্রলোক বসে আছেন। তিনি তোমাদেরকে মেম্বার করে দিবেন। মেম্বার করার পরে তোমার দুটি কার্ড পাবে । কার্ড দুটি নিয়ে আমাদের কাছে চলে আসো। প্রতিটি কার্ডে এক সাথে ছয়টি করে বই বাসায় নিতে পারবে এবং এক মাস রাখতে পারবে । এক মাস পরে বই গুলো ফেরত দিয়ে আবার 6 টি করে বই নিতে পারবে। আবার এক মাস পড়তে পারবে।

৩। Light and Electricity

দুতলায় গিয়ে যথারীতি ভদ্রলোককে আমাদের কথা জানানোর পর তিনি কম্পিউটার লগ ইন করে আমার কাছে এগিয়ে দিলেন আমি নাম ঠিকানা পাসপোর্ট নাম্বার সব কিছু টাইপ করে উনাকে দেখালাম তারপর উনি আমাদেরকে বসতে বললেন প্রায় 10 মিনিট অপেক্ষা করার পরে উনি আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমাদের হাতে দুটি মেম্বারশীপের কার্ড ধরিয়ে দিলেন কার দুটি নিয়ে আবার শিশুদের পাঠ করতে গিয়ে অনেকগুলি বই বেছে নিয়ে সেগুলি সংশ্লিষ্ট ট্রেনে করে বাসায় আসলাম।

লাইব্রেরী একটি জাতির অহংকারের প্রতীক । একটি জাতি কতটা উন্নত তা সে জাতির লাইব্রেরী দেখলেই বোঝা যাবে। মালয় ভাষায় ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মালয়েশিয়াকে বলে- PARPUSTAKAN NEGARA MALAYSIA.

আমার ছেলে নন ফিকশন বই পড়তে বেশি পছন্দ করে বলে বিজ্ঞানভিত্তিক বইগুলো বাসায় নিয়ে এসেছে। বইগুলোর কভার এই পোস্টে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই বইগুলো জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ 27 শে জুলাই। কিন্তু এরই মধ্যে বইগুলো পড়া শেষ হয়ে যাওয়াতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে , আগামী শনিবার অথবা রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মালয়েশিয়াতে গিয়ে বইগুলো জমা দিয়ে আরও নতুন নতুন বই আমরা বাসায় নিয়ে

৪। 100 Inventions that made history

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর বাংলাদেশের জন্য

লিখেছেন শোভন শামস, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০২


বাংলাদেশের মানুষ যারা দেশ থেকে বিপুল সম্পদ নিয়ে বিদেশে পালাতে পারবে না তাদেরকে এই দেশের উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত করে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যুবকদেরকে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে অবদান রাখা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ব্লু মার্লিন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৭



ইনানী বিচের এক কোণে নির্জন কটেজে বসে ৪৪ বছর বয়সী রসায়নের প্রফেসর রেহান আশরাফ যখন তার ডায়েরির পাতায় মার্সিডিজ S-Class গাড়ির এসি সিস্টেমের ড্রয়িং করছিলেন, তখন তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমি চিরন্তন

লিখেছেন সামিয়া, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮



মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×