গুলশানে জঙ্গী হামলায় দেশী-বিদেশী নাগরিকদের নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা, শোক বা বেদনা প্রকাশের ভাষা হারিয়ে গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রমাণিত হয়, ধর্মান্ধতা, মাদকতা আমাদের তরুণ সমাজকে ক্রমেই দানবে পরিণত করেছে। গুলশানের জঙ্গী হামলায় যারা জড়িত তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাহলে তাদের কেন এই অধঃপতন। বিষয়টি যদি আমরা একটু গভিরে গিয়ে দেখি তাহলে দেখা যায় এরা বেশিরভাগই ধর্মান্ধতা এবং মাদকতার সাথে জড়িত। তারা বেশির ভাগই পরিবার থেকে থাকে বিচ্ছিন্ন। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয়। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। মাদক বহু পরিবারকে সংকটাপন্ন করেছে, অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে অনেককে পাকড়াও করে মামলা ঠুকিয়া দেয়া হয়। এইরূপ মামলার ফাঁদে পড়ে অনেক সম্ভাবনাময় ব্যক্তির জীবনে বিপর্যয় নেমে আসা অসম্ভব নয়। অথচ মাদক সাম্রাজ্যের রাঘব বোয়ালরা অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসায়ীরা বিশ্বের সর্বত্রই প্রভাবশালী। তারা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক। তারা অবৈধ অস্ত্রধারী বা অস্ত্রধারীদের পৃষ্ঠপোষক এবং তারাই আন্ডার ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকে। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে এই রাঘববোয়ালদেরই ধরতে হবে। মাদক পাচার ও বিপণনের সঙ্গে প্রকৃতই যারা জড়িত তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আইন আমলে নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। মাদক পাচারের রুটসমূহ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশ মাদক উতপাদনকারী দেশ নয়। বিভিন্ন রুটে বিদেশ হতে মাদকদ্রব্য এইদেশে পাচার হয়ে আসে। এই রুটসমূহ বন্ধ করতে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সরকার কাজ করছে। আশা করা যায়, সুফল পাওয়া যাবে। সে সঙ্গে চাই সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিরোধ। যেসকল ছেলেমেয়ে অসৎ সঙ্গে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজের সহায়তার হাত প্রসারিত করা বাঞ্ছনীয়। দরকার নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং সুন্দর পরিবেশ। সর্বনাশা মাদকের দংশন হতে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে হবে। এরাই হবে একদিন দেশের এক একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এই জন্য আমাদের সকলেরই নিজ নিজ অবস্থান হতে সৎ ও সচেতন ভূমিকা রাখা একান্ত প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

