আমাদের দেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। বর্তমান সরকার সব রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলছে। আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই সার্কভুক্ত এই দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভুটানকে সহযোগিতা এবং সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভুটান ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হলে ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সম্মতির প্রয়োজন। চার দেশীয় ট্রানজিট চুক্তির আওতায় শীঘ্রই এ সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এসব চুক্তির আলোকেই আগামীতে ভুটান থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসার সুযোগ তৈরি হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভুটান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ। এছাড়া বাণিজ্য বৈষম্য ভুটানের অনুকূলে রয়েছে। অথচ বাংলাদেশের অনেক পণ্য ভুটানে রফতানির সুযোগ রয়েছে। বিবিআইএন বা চারদেশীয় ট্রানজিট চুক্তি কার্যকর করতে হলে ভুটানের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র ভুটানের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানির সক্ষমতা অর্জন করেছে। আবার বাংলাদেশের পোশাক ভুটানে রফতানি হতে পারে। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হলে ভারত, ভুটান ও নেপালকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা ভাবা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ভুটানের এক হাজার ১২৫ মেগাওয়াটের কুরি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করার বিষয়ে কথা চলছে। এ কারণে যৌথ ইশতেহার ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কাঠামোগত চুক্তির আওতায় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রদানের বিপরীতে মাসুল ধার্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যে সম্পাদিত সহযোগিতা চুক্তি ও যৌথ ইশতেহারের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



