somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশানের জন্য ভালোবাসা...

০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি ভাবে শুরু করবো বুঝতেসিনা। কোনদিন যে এইরকম নোট লিখতে হবে এ কথা ভূলেও ভাবিনি। কিন্তু আজকে হসপিটাল থেকে ফিরে এসে কি বলবো অথবা চিন্তা করবো বুঝে উঠতে পারতেসিনা।



তৌসিফ আহমেদ ঈশান। 06 CSE এর অতি পরিচিত এক নাম। ছেলেটার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিলো ২০০৭ এর দিকে, যখন ওরা প্রথম ক্লাস করতে ঢুকে। 2008 এর CSE Day এর সময় যখন আমাদের প্রচন্ড কর্মঠ কিছু ছেলের দরকার ছিলো; আমরা ঈশানের মত কিছু সদা হাস্যজ্জ্বল, বিনয়ী ছেলেকে পেয়েছিলাম। এর আচার ব্যবহার এর কারনে ছেলেটা শুধু নিজের ব্যাচের কাছে না, আমাদের সহ সিনিয়র সব ব্যাচের কাছেও একটি অতি পরিচিত নাম ছিলো।



কতবার একে ঝাড়ি মারসি গুনে শেষ করা যাবেনা; কিন্তু কখনো ওকে গলার স্বর উচু করে কথা বলতে দেখেছি বলে মনে পড়েনা। যে কয়েকটা ছেলের কারনে আমি ওদের ব্যাচটাকে পছন্দ করি তার মধ্যে ঈশান মনে হয় সবার প্রথমে।



টিভিতে নিউজ ফ্ল্যাশ দেখাচ্ছে যে বুয়েটের লীগের ২ পক্ষের মধ্যে মারামারি; ১ জন আহত।



হাহ!!!! বুয়েটের কাকগুলোও শুনলে হাসবে! ঈশান লীগ করে? পলিটিক্স? আর ঈশান? ফাইজলামির জায়গা পায় না? এই রিপোর্ট যে বলদ লিখসে তাকে সামনে পেলে কানের তলায় একটা চরম চটকনা মারতাম আজকে। ৫ বছর ধরে এই ছেলেকে চিনে আসছি; এই ছেলের আচার ব্যবহার দেখে আসছি। এই ছেলে পলিটিক্স করে এবং তেলাপোকা একটা পাখি কথা ২ টা আমার কাছে এখন সমতূল্য।



২ পক্ষের মারামারি? হ্যা, ২ পক্ষই তো! ঈশান একলা নজরুল হলে ওর রুমে ছিলো; ০৮ আর ০৯ এর কিছু ছেলে মিলে ওর উপরে বেসবল ব্যাট আর হকিস্টিক নিয়ে চড়াও হলো। অবশ্যই ২ টা পক্ষ। একা ঈশান আর ওইদিকে একটা রক্তপিপাসু গ্যাং। ২ টা পক্ষ... কস্টের হাসি আসতেসে কথাটা শুনে। কি কারনে ঈশান এর এই অবস্থা? ঘটনার বিবরণী শোনা যাক। "০৬ ব্যাচের র‍্যাগ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। বুয়েটের দীর্ঘদিনের ট্রেডিশন অনুসারে র‍্যাগ কন্সার্টের ফেন্স এর ভিতরে শুধুমাত্র র‍্যাগ ব্যাচ থাকে! মেয়েদের নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি সবকিছু চিন্তা করেই এটা করা হয়ে থাকে। ঈশান গেটে ছিল শুধুমাত্র ০৬ ব্যাচের প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য।



তখন সুজিত(০৮ ব্যাচ-এম এম ই_ দুই বছরের জুনিওর!!) জোর পূর্বক তার রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে ভিতরে ঢুকতে চায়! ঈশান তাকে বাঁধা দিলে ঈশানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে!! ঈষান এর কোন প্রতিবাদ না করে চুপ থাকে। এই অবস্থায় ঈশানকে ডিফেন্ড করার জন্য অন্যান্য বন্ধুরা এগিয়ে আসলে, সুজিত ০৬ ব্যাচকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়!! ঐ রাতে সুজিত ০৬ এর নাহিয়ান নাসির এর উপর চড়াও হয়ে ওর বুকে লাথি মারে। বিদায়ী ব্যাচ হিসেবে ০৬ ব্যাচ কোন ঝামেলায় যেতে চায়নি!! সেটাই পরবর্তীতে কাল হয়!!



আজকে দুপুর একটায় সুজিত এর নেতৃত্তে সুজিত, দ্বীপ ,মিঠুন নজরুল ইসলাম হলে ০৬ নিধনে চড়াও হয়! পরিস্থিতি এমন ছিল যে ০৬ এর টি- শার্ট কেঊ সামনে পড়লেই জীবন সংশয় নিশ্চিত। দুর্ভাগ্যক্রমে কাউকে না পেয়ে এবং ঈশান কে একা পেয়ে তার উপর হকিস্টিক নিয়ে চড়াও হয়।"



ঈশান কে কেউ কি হসপিটাল এ দেখে এসেছেন? আমি দেখে আসলাম। বাম হাত ভালো মতন ই ভেঙ্গেছে; ডাক্তার রা বলছেন হয়তবা অপারেশন করা লাগতে পারে। ২ পা ই গুরুতর জখম। ঈশান এর পিতামাতা হতভম্ব হয়ে ছেলের পাশে বসে ছেলের দিকে তাকায়ে আছেন। তাদের ছেলে, যাকে তারা কখনো কোনো ঝামেলায় জড়াতে দেখেন নি ; আজকে তুচ্ছ কারনে কিছু সন্ত্রাসীর হাতে যখম হয়ে পড়ে আছে। কি করেছে সে? তার পিতামাতা জানতে চায়। সে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে; তাহলেও একটা কথা ছিলো। সে কি পলিটিক্স করে? কাউকে উত্যক্ত করেছে? কাউকে মেরেছে? কি করেছে? কি?????



আর যদি কিছু নাই করে থাকে তাহলে কিসের জন্য আজকে সে বেডে শুয়ে কাতরাবে?



সেদিন ঈশান, জিশান, জুনিয়র এদের ছবি পেপারে আসার পরে অফিসের এক কলিগ কে দেখাচ্ছিলাম; দেখেন, আমাদের জুনিয়র ছেলেগুলা অনেক ভালো কাজ করেছে। ঈশান এবার বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বুয়েট আর আমাদের ডিপার্টমেন্টের নাম উজ্জ্বল করে এসেছে; CFICC competition এ ৩য় হয়ে এসেছে। শুধু পড়াশুনা না, পড়াশুনার বাইরেও এধরনের কম্পিটিশন, অথবা ডিপার্টমেন্টের কোনো প্রোগ্রাম arrange করার সময় প্রথম সারিতে যে কয়েকটা ছেলে এগিয়ে আসে তার মধ্যে সে একজন। এইধরনের একটা ব্রিলিয়ান্ট , নিরিহ ছেলের আজকে এইরকম দশা কেনো হবে?



প্রচন্ড রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা জন্মাচ্ছে বুয়েট কে নিয়ে। এই বছরের শুরুর দিকে চাকরীতে ঢুকার পর পরই যখন গৌতম কে একই ভাবে বুয়েটের লীগের নামধারী কিছু সন্ত্রাসী পিটায়ে গেলো তখন দেখতে গিয়েছিলাম। মাথায় ব্যান্ডেজ; হাত ভাঙ্গা... আজকে ঈশান কে দেখে পুরা একই ঘটনা মনে পড়ে গেলো। লুপ; শুধু নামগুলার পরিবর্তন। আর কত?



০২ সালের সনি আপুর কথা কি মনে আছে? নাকি উনি শুধুমাত্র একটি নাম হয়ে হারিয়ে গিয়েছেন? আমরা কি কিছুই শিখিনি? বুয়েটের মত একটা জায়গাতে রাজনীতির কালো বিষাক্ত থাবা ঢুকে গিয়েছে আজকে। গত দেড় বছর ধরে অনেক কিছু দেখেছি; শেষ বর্ষের ছাত্র হিসেবে; এবং একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে। একটি "ব্র্যান্ড" এর দলের লেবাস লাগিয়ে কিছু হায়েনা ঘুরঘুর করছে রক্তের লোভে। আজকে ঈশানের মত একটা ছেলে হসপিটাল এ শুয়ে আছে। কালকে যে আপনি হবেন না বলতে পারেন? আপনি যে আরেকটি মুনিম, গৌতম, ঈশান অথবা সনি আপু হবেন না?



বুয়েটের তদন্ত কমিটি নামের প্রহসন কি জিনিস তা দেখার প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। আজকে আমি তো হসপিটাল এ ছিলাম; কই, তদন্ত করতে চায় তারা, স্বাক্ষ্য চায়; তারা কি কেউ এসেছিলেন? ছবি চান তারা? কি চান? ৫ জনের স্বাক্ষ্য? ৮০০ জন এর স্বাক্ষ্য? আজকে ঈশানের নিজের মুখ থেকে ঘটনা শুনে এসেছি আমি। ভিডিও করে আপ্লোড করবো? তাদের সামনে দেখাবো? কি চায় তারা? নাকি ২-১ জন সন্ত্রাসীকে বাচাতে গিয়ে তারা সকল সাধারন ছাত্রছাত্রীকে ভেড়া বানায়ে হায়েনার সামনে ঠেলে দিতে চায়? প্রশাসন কি এইটাকে একটা কাবাডি খেলা পাইসে? তু তু তু করে করে যাচ্ছে; ছাত্রছাত্রীদেরকে "আমরা সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই" বলে আশ্বাস দিচ্ছে; এবং তার পরেই মেধাবি ছেলেরা হাসপাতাল এ পড়ে আছে।



অনেক কস্ট নিয়ে কিছু অনুরোধ করবো আজকে বুয়েটে পড়া সকল ছেলেমেয়ে আর সকল বুয়েটিয়ান এর প্রতি। আজকেই , এই ঘটনার বিচার দেখে তারপর থামবেন। কোনো কম্প্রোমাইজ না। কোনো আশ্বস্তি না। যদি এখন ই তারা স্বাক্ষ্য চায় এখনই square hospital এ ঈশান এর কাছে গিয়ে তদন্ত কমিটি গিয়ে নাম গুলো শুনে আসবে। এবং এদেরকে হল থেকে না, বুয়েট থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করে দিতে হবে। এইটাই এখন একমাত্র দাবি । কোনো retaliation না। রক্তের বিনিময়ে রক্ত না। আমরা পশু না। আমরা সভ্য; আমরা বিচারে বিশ্বাসী। আমরা চাই, যে আমরা যাতে আরেকটি সনি আপুর মত ঘটনা না দেখি। আজকে যদি আমরা চুপ করে ঘরে ফিরে যাই, তাহলে আজকে ঈশান, কালকে তোমাদেরই মধ্যে কেউ আরেকজন এভাবে পড়ে থাকবে, বিনাবিচারে। আর এই পশুগুলো বুক চাপড়ে ঘুরে বেড়াবে।



বুয়েটের প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের সেরা সন্তানগুলো আসে; শিক্ষা গ্রহন করতে। সন্ত্রাসী হতে নয়। এই সন্ত্রাসীদের বুয়েটিয়ান নাম এর অপব্যবহার করা থেকে এখনই থামাতে হবে। না হলে একটা সময়ে বুয়েটিয়ান পরিচয় নিয়ে আমরা সবাই অনেক গর্ব বোধ করতাম; কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে এই একই পরিচয় টা দিতে গিয়ে মাথা নিচু করতে হবে।



প্রচন্ড আক্ষেপ হচ্ছে আজকে আমি আর ছাত্র নই। তাহলে এখন এই ছেলেমেয়েগুলোর সাথে বুয়েটের ভিসির কাছে গিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করতে পারতাম। আমি হয়তবা পারবোনা, কিন্তু তোমরা পারবে। চেয়ারে, ল্যাপটপের সামনে বসে থেকো না। উঠে দাড়াও। এইটা তোমাদের বিশ্ববিদ্যলয়; কোনো রাজনীতির লেবাস পরে থাকা সন্ত্রাসীদের খেলাঘর নয়।



খোদা বুয়েটকে রক্ষা করুন। আমিন।

(লেখাটি Shaikh Shawon Arefin Shimon ফেসবুক থেকে নেয়া)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×