অামরা সবাই কম বেশি জানি-
বর্তমান যে ইবলিস শয়তান এটা জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
অাল্লাহপাক পবিত্র কোরঅানে প্রায় পঞ্চাশবার জিন সম্পর্কে অালোচনা করেছেন। সুতরাং এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
"অার অবশ্যই অামি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে, কালচে কাদামাটি থেকে। অার এর পূর্বে জিনকে সৃষ্টি করেছি উত্তপ্ত অগ্নীশিখা থেকে"-(সুরা অাল হিজর, অায়াত-২৬-২৭)
জিন কত প্রকারঃ
রসুল (সাঃ) বলেছেন, জিন তিন প্রকারঃ
(১) যারা শূন্যে উড়ে বেড়ায়,
(২) কিছু সাপ এবং কুকুর (জিন বিভিন্ন প্রানীর রুপ ধারণ করতে পারে। কিন্তু তাদের একটা দল সর্বদা সাপ এবং কুকুর বেশ ধারণ করে চলাফেরা করে। এটা তাদের স্থায়ী রুপ) এবং
(৩) মানুষের কাছে অাসে এবং চলে যায়।
মানুষের মত জিনদের নিকট নবী-রসুল প্রেরণ করা হয়েছিলো। সুতারাং জিনরাও মানুষের মত কেয়ামতের ময়দানে বিচারের সম্মুখিন হবে।
"জিন" অারবী শব্দের অর্থ "গোপন"
"জিনরা" মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকে বলেই অাল্লাহপাক এর নাম দিয়ছেন "জিন" ।
অাল্লাহপাক বলেন," নিশ্চই সে (জিন) এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে যেখানে তোমারা তাদেরকে দেখনা। ( সুরা অাল অারাফ-২৭)
"ইফতীর" শব্দের বাংলা অর্থ "ভূত"। জিনদের মধ্যে যারা অবাধ্য, বেয়ারা, দুষ্টু ও মাস্তান প্রকৃতির তাদেরকে "ইফতীর" বলা হয়।
সুতরাং "ভূত" কোন অালাদা কিছু নয়। এটা জিনদের একটা অবাধ্য, বেয়ারা অংশ।
জিনদের শরীর বা কাঠামো অাছে-যদিও সাধারনত তা অামাদের দৃষ্টিগোচর হয়না।
মূলত জিনদের প্রধান খাদ্য কয়লা, হাড্ডি এবং গোবর।
জিন মানুষকে অাছর করতে পারে। তবে অনেকসময় অনেকে মানসিক রোগকে জিনের অাছর বলে উল্টাপাল্টা কবিরাজি চিকিৎসা করে।
কয়েকটা কারণে একজনকে জিনে অাছর করতে পারে।
(১) যার ভীতর অতিরিক্ত রাগ (২) অতিরিক্ত ভয় (৩) যৌন চাহিদা লোপ (৪) মাত্রারিক্ত উদাসিনতা (৫) নোংরা ও অপবিত্র থাকা।
অাবার, জিন চড়াও হয়- যদি গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়, বা তাদের খাদ্য খাবার নষ্ট করা হয় বা অাঘাত করা হয় তখন।
জিনে ধরা এবং মানসিক রোগী পার্থক্য নির্নয় করা যায় কয়েকটি বিষয় দেখে-
(১) জিনে ধরা রোগী কিছুক্ষনের জন্য বেহুশ হয়। কিন্তু মানসিক রোগী বেহুশ হয়ে পড়েনা।
(২) জিনে ধরা রোগী প্রায়ই স্বপ্নে সাপ, কুকুর, বিচ্ছু, বানর, শেয়াল, ইদুর দেখে থাকে। কখনো কখনো সে দেখে অনেক উচু থেকে পড়ে যাচ্ছে।
(৩) জিনে ধরা রোগী সর্বদা ভীতু ভাব থাকে। মানসিক রোগীর সচারচার এমন ভাব থাকেনা।
(৪) জিনে ধরা রোগী নামাজ পড়া, কোরঅান তেলাওয়াত, অাল্লাহর জিকির ইত্যাদি পছন্দ করেনা। বরং এগুলো তার অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
(৫) জিনে ধরা রোগী অনেক সময় ভিন্ন ভাষা বা ভঙ্গীতে কথা বলে।
(৬) জিনে ধরা রোগী অনেক সময় অাশ্চর্যজনক কিছু বিষয় করে থাকে । যেমন-অল্প সময়ের ভীতর অনেক দূরে চলে যাওয়া বা গাছে উঠে সরু ডালে বসে থাকে ইত্যাদি।
সুতরাং অামাদের উচিত সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সঠিক জানা এবং বিশ্বাস করা ।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



