
কালবৈশাখী
প্রলয়ের আলোয় ভীত সন্ত্রস্ত যেন চারিধার
বাতাসের গর্জনে যেন তান্ডবের হুংকার।
পাগলা হাওয়ায় উত্তাল নদী উত্তাল তার ঢেউ
পথ ঘাট সব মানব শূন্য চলছে না আর কেউ।
বৃক্ষদল মাথা নুয়ে নুয়ে প্রাণভিক্ষা চাইছে
ডাল ভেঙে গিয়ে তীব্র ব্যথায় কষ্টের মাতম তুলছে।
পথের ধূলি নেই পথে আর উড়ছে কেবল উড়ছে
পাখির বাসা ভেঙে তচনচ পখিরা প্রলাপ গাইছে।
নড়বড়ে ঘর ভয়ে জড়োসড় এদিক ওদিক দুলছে
নৌকো মাঝি ঘরের কোনে স্রস্টার নাম জপছে।
আঁধার রাতের আঁধারগুলো ,
বিজলীর চমকে প্রকট হলো
ঝড়ের দাপটে আকাশ নদী উত্তাল যৌবনে নিরবধি
তারই প্রস্তুতি যেন চলছে।
বৃষ্টিগুলো অবশেষে ক্রন্দন জল হয়ে ধরাতে মেশে।
ঝড়ের প্রকোপে ঘরবাড়ি সব কাপছে
বৃষ্টি মাথায় শীতল করে কালবৈশাখী চলছে।
কালবৈশাখীর অভিমানে বরষা হয়ে অশ্রু নামে
সূর্য দগ্ধ পোড়া ভূমে নূপুর পায়ে স্নিগ্ধ শীতল বর্ষা নামে ।
গ্রীষ্মের দাবদাহ প্রশমন করে বহুপ্রতীক্ষার সুশীতল পরশ দানে ।

লোড শেডিং এর কবলে গ্রাম বাংলা
২দিন পর বিদ্যুৎ এল
প্রতিরাতে ছিল ঝড়ের আনাগোনা
ল্যাপটপটা কাজ করেনি
নিত্যদিনের কাজকর্মে লোড শেডিং দিচ্ছে হানা
ঝড়ের বাতাসগুলি ছিল বিজলীর চমকে চমকিত
দিনগুলি ছিল বৃষ্টিমাথা পথ কাদায় কাদায় বিড়ম্বিত।
সেলফোনে ছিল না চার্জ
তাই ছিলনা গ্রামীন নেটওয়ার্ক
সকল প্রকার যোগাযোগ ছিল বন্ধ
জীবনটা ছিল বনবাস যেন একাকিত্বে ঘেরা মন্দ
অখাদ্য খেয়ে খেয়ে
জীনটা ছিল ঘোর হতাশায় বৃষ্টিতে নেয়ে নেয়ে
ঝড়ে ভেঙে গেছে পাখিদের কত বাসা
খড়কুটো খুঁজে খুঁজে পাখিরা ব্যস্ত মেরামতে তা
নতুন উদ্যমে গাইছে তারা টু ট্যাটু ট্যাটু
পাখিরা কলতানে আমাদের মনে প্রেরণা দানে হয়তো ।
এখানে এসে পেয়েছি খুজে গ্রাম বাংলার চিরন্তন রূপ
হাড় ভাঙা খাটুনির পরও বাংলার কৃষক—বঞ্চিত যেন খুব।
এই যে সোনার বাংলা সোনালী ধানের রূপে গড়া
তাতে রবীন্দ্র নজরুল মুগ্ধ নয়নে — জীবনানন্দ আত্নহারা
এ্ই সোনার বাংলার নিখুঁত কারিগর বাংলার কৃষকেরা কবে?
মানবের মাঝে মাথা উঁচু করে যথাযোগ্য মর্যাদা পাবে ।
-----------------
কবিতাগুলো মোমের আলোয় লিখা । এখানে কালে ভদ্রে ইলেকট্রিসিটি আসে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


