
বয়স তখন ছিল অনেক অল্প
লাগতো ভাল শুনতে কেবল রূপ কথার গল্প।
লেখাপড়া লাগতো না খুব একটা ভাল
একটু খানি পড়েই ছড়াতাম আলো।
বর্ষার বৃষ্টিতে লাগ তো খুব মিষ্টি যে
বৃষ্টির জলে স্কুলের পথ যেত তলিয়ে।
হাটু জল ভেঙে স্কুলে যেতে আনন্দের শেষ নেই;
হাসতাম খিলখিলিয়ে যাত্রীসহ রিকশা যখন যেত উল্টিয়ে ।
লাগতো ভাল উড়াতে চইঙ্গা ঘুড়ি
টাকি মাছের ভর্তা আর কাছকি মাছের চচ্চরি।
মোড়গ লড়াই ষাড়ের লড়াই দেখতে কি যে আনন্দ!
সবচে বেশি লাগতো ভাল লোড শেডিঙে যখন লেখাপড়া বন্ধ ।
রাতের আকাশে গুনতাম তারা
পূর্ণিমা রাতে মনটা পাগলপারা ।
আরও প্রিয় কার্টুন ছবি আর রেসিলিং
এসো গান শিখি আর বৃষ্টি মুখর দিন।
গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টি মুখর বর্ষা কালে
আনন্দ করতাম ভেলায় চড়ে শাপলা তুলে।
মামাতো ভাইয়ের পাতা জাল আর বড়শিতে
পড়তো ধরা কত মাছ কাটতো বেলা মহানন্দে ।
দেখতে দেখতে যেত কেটে ছোট্ট বেলার রঙিন দিন
হরেক রকম ফুল , বাহারি প্রজাপতি আর সুন্দর ফড়িং।
লাগতো না ভাল প্রতিদিন খুব সকালে উঠতে;
ঘুম ঘুম চোখে আরবি শেখার মক্তবে ছুটতে।
কোথায় যে হারালো ভালবাসায় ঠাসা রঙিন শৈশব ?
এখন কেবল স্মৃতি হাতড়িয়ে করি তার অনুভব।
শেষ বিকেলে মধুর প্রতীক্ষা ছিল একটাই
অফিস শেষে কখন বাবা ফিরবেন বাসায়?
সবুজ বেলা ভাসিয়ে স্মৃতির ভেলা
ক্ষণে ক্ষণে হাত ইশারায় ডাকে;
নিষ্ঠুর বাস্তবতা ব্যস্ততার পোষাক পরে
বেদনার গহীনে আটকিয়ে রাখে।
............................।
উৎসর্গঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । তার বালক কবিতা পড়ে আমার এই কবিতা লিখা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



