
হুমায়ূন ফরীদি
লড়েছেন দেশের তরে মহান সেই একাত্তরে
মুখফুটে বলেননি কভু—অহংকারভরে
জন্মেছেন যে দেশে—পায় কি শোভা কভু তারে?
দেশপ্রেম যার হৃদয়জুড়ে।
মা—মাটি—জল, তার ঋণ কে শোধিতে পারে?
তাঁর যুদ্ধের খবর
জানাবে তার প্রবাসি সুহৃদজন
সুদূর সুইডেনে বসে।
বহেমিয়ান জীবন তার খরস্রোতা নদীর মতো
তিনি ছিলেন এক মহান দাতা
স্রষ্টার কাছ থেকে অনুগ্রহ নিয়ে
রেখেছেন নিজের করে
দিনে দিনে দান তার গিয়েছে কেবল বেড়ে
বেলি ফুলের মালা দিয়ে —বধুবরণ
ইতিহাসের পাতায় তা আছে লেখা
আবারো ভালবেসে তার মরণ একাকিত্বের আভরণ পরে।
তাঁর নাকি দুঃখ ছিলো তাতেই সে অত বড়ো হলো—
জানেনা কেউ তাহা
অভিনয় জগতের রাজা অভিনয় নয়তো সোজা
দেশটারে ভালোবেসে—ভালোবাসার বসন্তদিনে এসে
মহাপ্রয়ান তার যে হলো—দেশের মানুষ অনেক কেঁদেছিলো
কেঁদেছিলো এক হৃদয়হীনা , অমন করে কেউ কী পারে?
অভিনয়টারে গলধকরণ করে।
সৃষ্টি তাঁর কহিবে কথা
অভিনয় শিল্প যতোদিন আছে টিকে
নশ্বর এই অবণীতে।
দক্ষিণের ঐ বঙ্গোপসাগর তার সমান এক হৃদয় নিয়ে
সবার মুখে ফুটিয়েছেন হাসি
চোখে দানিয়েছেন জল অগণিত দর্শকের চোখে
খলনায়ক হলেও তিনি সবাই তাঁর পক্ষ নিতো।
নায়ক হলে তো কথাই নেই
হুমায়ূন ফরীদি জন্মেছিলেন এই বঙ্গেতেই
যায় না ভুলা কভু তারে
মুখের উপর অবলীলায় বলে দিতেন সত্যটারে
বলবেন না কেনইবা তিনি অকুতভয় যিনি
স্বাধীনতার সূর্যটারে
ছিনিয়ে এনেছিলেন যুদ্ধ করে ।

মিলনমন্ত্রগানে
স্বেচ্ছাচারিতার আভরণ পরে
ঘুমাও নাকি সান্ধ্যরাতে নিয়ম করে!
তাহলে কী নেবো ধরে —স্বপ্নে আছো বিভোর হয়ে?
এটাই তো সখি বাস্তবতা দিবালোকের মতন,
জেনে গেছে সবাই যখন, একটু না হয় পরখ করো;
সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে
লক্ষীপেঁচা রাতের আঁধারে যেমন।
অপেক্ষার আঁধার যে অনেক হলো
তবু বলি বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র
সুদীর্ঘ আয়ু নিয়ে লীলা তুমি করতে পারো শুরু;
হৃদয় যার অপেক্ষার আকাশ বুকপাঁজড়ে তার
কান পেতে পরখ করতে পারো
ভালোবাসার নিঠুর বীণা—
কিন্নরী কন্ঠ থেকে মধুরতরো কীনা।
তার ভালোবাসা স্নানে পবিত্র তুমি হতে পারো
তারপর আরশিতে যদি দেখো
ভালোবাসার ম্যাগনেলিয়া তোমার অবয়ব হলো
কিংবা তার চেয়ে ঢের বেশি অপরুপা তুমি
তবে এই বেলা ভালোবাসা স্নানে বিশুদ্ধতরো হয়ে ওঠো।
সুপ্রিয় মহানগরী, প্রেমের যনজট ঘুচিয়ে ফেলো
তোমাতেই গড়বো বসত তুরাগ নদীর উতলা ঘ্রাণে—
ভাসাবো মোর ছোট্ট খেয়া সেথা আনমনে।
বসন্তের মিলনমন্ত্রগানে বর্ষার জলে ভিজবো দুজন
তা তা থৈ থৈ তা তা থৈ থৈ ছন্দাকারে।
---------------------------------------
আগামী কাল কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির জন্মদিন।তিনি এক বীর মুক্তিযুদ্ধা। দৃষ্টান্ত দেয়ার মতো দেশপ্রেমিক। দেশ ছেড়ে যাননি । এই মহান ব্যক্তির প্রোপিক আমি ব্যবহার করি। তার মৃত্যুর পর আমার ব্লগার হয়ে ওঠা। আমার কবি হয়ে ওঠা। বাংলা নাটক দেখা ছেড়ে দিয়েছি প্রায়। ছায়নটে বালাই ষাট অনুষ্ঠানে তাঁর জন্মদিনে তাঁর কন্ঠে সুনীলের কবিতা আবৃত্তি আজো কানে বাজে। আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছুঁয়াবো আমি বিষপান করে মরে যাবো। ভার্সাটাইল জিনিয়াস ফরীদি। লাল স্যালুট হুমায়ূন ফরীদি। পরজনমে বেহেশত লাভ করুন। আর ২য়টি ব্লগে এসে আমার কবিতা। মোদ্দকথা আমি কবি হলাম ।ফরীদি বলে গেলেন “আমার পরাণ যাহা চায়” প্রেরণা দিলেন।ব্যাস এটুকুই।
হুমায়ূন ফরীদি কবিতাটি আবারো প্রকাশ করা হলো।ছবি নেট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
