
বিশ্বকাপ ২০০২ । ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ১ম রাউন্ডে বাদ পড়ে গেল। ব্রাজিল দলে তখন এক ঝাঁক তারকা। রোনাল্ডো, রোনাল্দিনহো, রিভালেদো, রবার্টো কার্লোস প্রমুখ নাম করা খেলোয়াড়। তাদের নিয়ে সমর্থকদের ব্যাপক উন্মাদনা। রিভালডো ম্যারাডোনার বিবেচনায় সেই সময়ের সেরা খেলোয়াড়। রোনালদিনহো প্লে মেকার। ফ্রিকিক বিশেষজ্ঞ দু্ইজন। রবার্টো কার্লোস এবং রোনাল্দিনহো। রবাল্টো কার্লোস দূর পাল্লার ফ্রিকিক বিশেষজ্ঞ। কারণ তার পায়ে আছে গোলার মত শট। আর রোনাল্দিনহো ফুটবলমাঠে একজন নিমগ্ন শিল্পী। তার কাছ থেকে বর্তমান ফুটবল তারকা মেসির অনেক কিছুর হাতে খড়ি। ব্রাজিলদলে তারকার মাঝে মহাতারকা ছিলেন রোনাল্ডো দা ফেনোমেনন। তখন কোন শিশু জন্মগ্রহণ করলে তার নাম রাখা হতো রোনাল্ডো। একটুও বাড়িয়ে বলছিনা। আর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় তারকা ছিলেন রোনাল্ডোর গার্লফ্রেন্ড। নাম ছিল মনে হয় সুজানা। ক্যামেরা ম্যানের ক্যামেরা সুজানাকে যতটা খুজেছে অন্য কোন খেলোয়াড়কে এতটা খুঁজেনি। রোনাল্ডো মাথার চুলের স্টাইলে পরিবর্তন এনেছিলেন। মাথার ঠিক সামানের দিকের কয়টা চুলনি অদ্ভুত স্টাইলে ফুরফুরে মেজাজে রোনাল্ডো। সেই বিশ্বকাপে আটটি গোল করে সর্বোচ্চ স্কোরার হয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে করেছিলেন ২টি গোল। জার্মান গোলকিপার অলিভার কান গোটা বিশ্বকাপে মাত্র দুইটি গোল খান। দুটোই দা ফেনমেননের কাছে। ২য়টি ছিলো বলে কয়ে গোল দেয়ার মতন। এমন জোরালো শট গোলকিপার দেখে শুনে বুঝেও গতির কাছে পরাস্ত। ড্রাইভ দেয়ার আগে বল সরাসরি গোল পোস্টের জালে। কানের মুখে গান বেড় হলে বেড় হতো গোল হয়ে গেল চেয়ে চেয়ে দেখলাম…..আমার করার কিছু ছিলা না গো……….. ।
এবার বিশ্বকাপে বড়োদলগুলো ভাল করতে পারছেনা। ১ম রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। ইটালী হলান্ড কোয়ালিফাই করেনি। স্পেন ২য় রাউন্ডে বাদ পড়েছে। একই রাউন্ডে পর্তুগাল বাদ পড়েছে। রিয়েল মাদ্রিদের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানা রোনাল্ডো, বার্সেলোনার সেরা তারকা লিওনেল মেসির দল বাদ পড়েছে। তুলনায় দুজনের মধ্যে রোনাল্ডো বেশি ভাল করেছেন। ৪টি গোল করে নিজেকে আবারো প্রমান করেছেন। মেসি ভালো খেলতে পারেননি। ভালো খেলেনি আর্জেন্টিনা। মেসি রোনাল্ডো দুজনই পেনাল্টি মিস করেছেন। মেসিরটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ মিস। মেসি, রোনাল্ডো, নেইমার তিনজনই হলুদ কার্ড খেয়েছেন। মেসি খেয়েছে কালক্ষেপনের জন্য নেইমার খেয়েছেন তাড়াহুড়ো করার জন্য। রিয়েল আর বার্সার তারকার চেয়ে নেইমারের বর্তমান দল ফ্রান্সের পিএসজি ক্লাবের খেলোয়াড় শ্রেয়তর পারফর্মার বিশ্বকাপে। পিএসজির স্ট্রাইকার কাভানি জোড়া গোল করে উরুগুয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে গেছে হারিয়ে দিয়েছে রিয়েল প্রধান তারকা রোনাল্ডোর পর্তগালকে। পিএসজির তারকা এমবেপের ফ্রান্সের কাছে হেরে গেছে বার্সার প্রধান তারকা মেসির আর্জেন্টিনা। এমবেপের জোড়া গোল মনে থাকবে অনেকদিন। তার গতির কাছে পরাস্ত হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ থেকে স্পেন আর বার্সা রিয়েলের প্রধান তারকার বিদায় দিয়ে জিতে গেছে ফ্রান্স আর ফ্রান্স লীগের পিএসজি তারকা কাভানি-এমবেপে। আজ পিএসজি তথা ফ্রেন্সলীগের বর্ষসেরা তারকা খেলোয়াড় নেইমার খেলবেন । বড়ো দলের মধ্যে ফ্রান্সের সঙ্গে ব্রাজিল টিকে আছে। ব্রাজিল টিকে থাক । বিশ্বকাপ যোগ্যদল ব্রাজিলের হাতে যাক ।
বিশ্বকাপের আগে তিতে বলেছিলেন —নেইমারের অন্তত ৫টি ম্যাচ প্রয়োজন দলকে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। সুস্থ হয়ে ওঠার গাণিতিক কোনো হিসাব না থাকলেও দল থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, নকআউট পর্বে নিজের সেরাটা নিয়ে হাজির হবেন নেইমার।দুটি প্রস্তুটি ম্যাচ ও তিনটি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ম্যাচ এ্ই মোট পাঁচ ম্যাচ খেলে আজ সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অন্য এক নেইমারের আবির্ভাব হবে সেই প্রত্যাশা করা যায়।কোটিনহো অসাধারণ খেলছেন।পাউলিনহো,উইলিয়ান, জেসুস এমনকি থিয়েগো গোল করার সক্ষমতা রাখেন।মেক্সিকো জার্মানিকে হারিয়েছে।।সেই বিবেচনায় শক্তিশালী দল।তারা হেরেছে সুইডেনের কাছে । বিশ্বকাঁপে ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের গোল করার রেকর্ড নেই।খেয়েছে এগারো গোল। হেরেছে সবকটি ম্যাচে।এ ম্যাচে ব্রাজিল সুষ্পস্ট ফেভারিট।চমৎকার একটি খেলা হবে তেমনটাই কাম্য।
আপনি কি জানেন হার্ড টেকেলে নেইমার কেন পড়ে যায়?
"TheSun" নামক পত্রিকার একটি প্রতিবেদন থেকে বলছি।
একজন প্লেয়ারের শারীরিক ওজনের সর্বনিম্ন এভারেজ ৭২ কেজি। যেখানে -
#মেসির ওজন ৭০ কেজি।
#রোনালদোর ওজন ৭৫-৭৬ কেজি।
আর #নেইমারের মাত্র ৬৪-৬৫ কেজি।।
তাই হার্ড টেকেলে মেসি রোনালদোর তুলনায় নেইমারের শরিরের প্রতি ব্যালেন্স রাখা কষ্টকর। তার উপর তার শরীরের ৩টি স্থানে ভাংগা। কোমড়ে,ডান পায়ের গোড়ায়, বাম পায়ের রানের গোড়ায়।
শরীরের তিন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারনে ডাক্তার বলেছে হার্ড টেকেলে নেইমার যাতে শরীরের উপর অতিরিক্ত প্রেশার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা না করে।
এই কারনেই হার্ড টেকেল করলে নেইমার পড়ে যায়।
আর কিছু কিছু মানুষ তো এইটাকে ট্রল হিসেবে নিয়ে নিয়েছে।
নেইমারকে নিয়ে গর্ব করা উচিৎ যে সে তিনটা ভাংগা নিয়ে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে উপস্থিত হয়েছে।
সর্বশেষ, শুভকামনা নেইমার ও ব্রাজিল দলের জন্য ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




