আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
আমার আপনজন, আসিবে কখন? কত জনের জন্ম হলো!!
আমার মনে শুধু প্রতীক্ষার ডালপালা ছড়ালো
এমন সময় ভিতর থেকে একজন বলে গেল
হয়নি শুরু তাঁর প্রসব ব্যথা — আজকেই কী তবে
সিজার করা লাগবে — এখনও হয়নি সময়
ধ্যানভাঙা সন্নাসীর মতন অধৈর্য
আমি বললাম— হ্যা আজিকেই হবে—হতে হবে
সহিতে পারি সবই সহিতে পারিবো না আর
— তার ব্যথা তিল পরিমাণ
অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো—জুম্মা রাতের শেষ প্রহরে...
মহেন্দ্র ক্ষণে এসেছে নতুন শিশু — নতুন অতিথি
আমি চেয়ে থাকি— তার দিকে পরম বিস্ময়ে
আমার জনক আযানের ধ্বনি পৌঁছে দিল তার কানে
ঝিনুকের বুকে যেমন মুক্তো থাকে—
আমার বুকে ঠিক তেমন পরম মমতায় তারে
রেখেছি জড়িয়ে— পৃথিবীর কোন অশুভ ছায়া যেন না লাগে তার গায়
পরম বিস্ময়ে দেখিতেছিলাম তারে
— মনে হলো শতজনমের সাধনায়
স্রষ্টার কৃপায়, এমন রত্ন মেলে,
সে যে আমার সাতরাজার ধন অমূল্যরতন, আপনের আপন
আমারই দর্পন —স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি
সে তাকালেই যেন আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি অমিত সম্ভাবনার সপ্তাকাশ
তার ক্রন্দনে যেন খোদার আরশ কেঁপে ওঠে
হাসিতে তার যেন ভেসে যাই আনন্দলোকে,
পৃথিবীর সব শোক যেন হয়ে যায় লীন
দুরে আছিস সোনামানিক সময়ের প্রয়োজনে
— জানি না কেমন করে তোর অন্নগ্রহন রাত্রীর ঘুম
ক্ষণে ক্ষনে চাতক মনে আজি তোকেই মনে পড়ে...
উৎসর্গ: সকল বাবা
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



