somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অহংকারী লাল গোলাপ

৩০ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-------------------------------
বসন্তের কোন এক সুন্দর দিনে বনে একটি লাল গোলাপ ফুটল।
অনেক প্রকারের গাছ-বৃক্ষ, লতা-পাতা সেখানে জন্মেছে। যখন
গোলাপটি চার দিকে দেখল, কাছেই একটি সরলবৃক্ষ (পাইন) বলল,
"বাহ! কী সুন্দর গোলাপ ফুল! আমি যদি এর মতো আকর্ষণীয়
সুন্দর হতে পারতাম!"
অন্য একটি গাছ বললো, "প্রিয় পাইন গাছ! এতো দুঃখ করিও
না, আমরা চাইলেই সবকিছু হতে পারি না।"

গোলাপ ফুলটি তার মাথা ঘূরিয়ে মন্তব্য করলো, " মনে হচ্ছে
একমাত্র আমিই এই অরণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর।"
একটি সূর্‍্যমূখি ফুল তার হলুদ মাথা উঠিয়ে গোলাপকে বললো,
"কেন তুমি একথা বলছো? তুমি ছাড়াও এই বনে অনেক অনেক
সুন্দর গাছ আছে। তুমি শুধু তাদের মধ্যেই একটি।"
লালগোলাপ উত্তরে বললো, "আমি দেখছি, সবাই মুগ্ধদৃষ্টিতে শুধু
আমার দিকেই তাকাচ্ছে।" তার পর গোলাপ ফুলটি ফণীমনসা
গাছের দিকে তাকিয়ে বললো, "চেয়ে দেখ এই বিছরি গাছটি, তার
সারা গায়ে কাটায় ভরে আছে।"
পাইন গাছ বললো, "লাল গোলাপ! এটা কেমন ধরনের কথা বলছ?
কে বললো তুমি এত সুন্দর! তোমার গায়েও তো কাঁটা আছে।"

অহংকারী লাল গোলাপটি ক্রুদ্ধচোখে পাইন গাছের দিকে তাকিয়ে
বললো, "আমার মনে হয় সুন্দর কাকে বলে এসবের কিছুই তুমি
বুঝ না। তুমি তুলনা করতেই জান না আমার গায়ের কাটা আর
ফণীমনসার গায়ের কাটার সাথে।"



"এ কেমন অহংকারী গোলাপরে বাবা!" পাইন গাছটি ভাবলো।
গোলাপটি চেষ্টা করলো যে, ফণীমনসা গাছ থেকে একটু সরে সে
যেন অন্য দিকে ঘুরে থাকতে পারে। কিন্তু এটা তার পক্ষে সম্ভব
হলো না। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, গোলাপটি ফণীমনসার দিকে
তাকিয়ে তাকে অপমানকর কথা বলছে। যেমনঃ "এই গাছটি কোন
কাজে আসে না! আমি তার প্রতিবেশী হওয়াতে খুব খারাপ অনুভব
করছি।"

এতে ফণীমনসা গাছের মন কখনও খারাপ কেরেনি এবং গোলাপকে
এই বলে উপদেশ দিলো যে, "আল্লাহ কোন প্রয়োজন ছাড়া কোন গাছ
বা জীবনের সৃষ্টি করেননি।"

বসন্তকালের শেষ, এবং আবহাওয়া খুব খারাপ হতে শুরু করল। বনে
জীবন ধারণ করা খুব কঠিন হতে শুরু করছে। যখন গাছ বৃক্ষ
এবং পশুপাখিদের পানির প্রয়োজন, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না। এতে সবারই
কষ্ট দিন দিন বাড়তে লাগলো। লালগোলাপটিও সুকিয়ে ঝুলে পড়তে
শুরু করছে। একদিন গোলাপ দেখলো যে, চড়ুই পাখি তার ঠোঁট ফণী-
মনসার গায়ে ডোবিয়ে কি যেন করলো তার পর খুশি মনে উড়ে চলে
গেলো। এটা কী করছে বুঝতে না পেরে লাল গোলাপ পাইন গাছকে
জিজ্ঞেস করলো যে, চড়ুই পাখি কী করতে ছিলো। পাইন গাছ তাকে
বললো যে, চড়ুই পাখি ফণীমনসা গাছ থেকে পানি পান করেছে।
"এটা কোন ব্যথা পায়নি যখন চড়ুইগুলো ফণীমনসার গায়ে গর্ত করছে?"
গোলাপ জিজ্ঞেস করলো।

"হ্যা, ব্যথা পেলেও ফণীমনসার মন খারাপ হয় কোন পাখি পিপাসায়
কষ্ট পেলে।" উত্তরে পাইন বলল।

গোলাপ বিস্ময়ে চোখ খু্লে বললো, "ফণীমনসা গাছে কী পানি আছে?"

"হ্যা, তুমিও তা থেকে পানি পান করতে পার। তুমি ফণীমনসা গাছের
কাছে সাহায্য চাইলে তা থেকে চড়ুই তোমার কাছে পানি নিয়ে আসতে
পারে।"

লাল গোলাপ তার অতীতের খারাপ ব্যবহার ও কথায় লজ্জায় পড়ে গেলো,
কীভাবে সে এখন ফণীমনসা গাছের কাছে পানির কথা বলবে? অবশেষে
সে ফণীমনসার কাছে পানির জন্য সাহায্য প্রার্থনা জানালো। ফণীমনসা সদয়
হয়ে পানি দিতে রাজি হলো। চড়ুই তার ঠোঁট পানিতে পূর্ণ করে গোলাপের
মূলে পানি পৌঁছে দিলো। এভাবে তা থেকে গোলাপ একটি সুশিক্ষা অর্জন
করলো এবং কারো চেহারা দেখে অন্ধভাবে বিচার করা থেকে বিরত থাকলো।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×