
ব্লগে অনেকে কোরানের আয়াত বুঝতে না পেরে ভিন্ন ব্যাখ্যা করেন অনেক সময়। তাদের বোঝার সুবিধার জন্য এই পোস্ট। এটা চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ।
হে ঈমানদারগণ! কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখুক। আর জেনে রাখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।" (সুরা তওবা: আয়াত ১২৩)
মদিনায় হিজরতের পর থেকে হুদাইবিয়ার সন্ধি পর্যন্ত মক্কার কাফেরদের সাথে ক্রমাগত বিভিন্ন খণ্ড যুদ্ধ ও বড় যুদ্ধ হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বৈরিতা চলমান ছিল।এ কারনে বিভিন্ন আয়াতে মুসলমানদের যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটা যুদ্ধেরই সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল। আর যুদ্ধের সময় তারা যেন দুর্বল চিত্ত না হয়ে কঠোরতা প্রদর্শন করে সে কথাই বলা হয়েছে উপরের আয়াতে। তবে মুসলমানরা যুদ্ধে কখনও কোনও নিরিহ, নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করেনি। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, পুরোহিত, শান্তিপ্রিয় মানুষ এরাও যুদ্ধের সহিংসতার বাইরে ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের যুদ্ধের পরে শাস্তির উদাহরণ আছে।
হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো৷ তোমাদের মধ্যে বিশজন সবরকারী থাকলে তারা দুশ জনের ওপর বিজয়ী হবে৷ আর যদি এমনি ধরনের একশ জন থাকে তাহলে তারা সত্য অস্বীকারকারীদের মধ্যে থেকে এক হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে৷ কারণ তারা এমন এক ধরনের লোক যাদের বোধশক্তি নেই৷ (সুরা আনফাল, আয়াত ৬৫)
৬৫ নম্বর এই আয়াতে আল্লাহ'তালা তার রাসূলকে বলেছেন, ইসলামের শত্রুরা যদি শান্তি না চায়, তারা যদি শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে তাহলে তুমি কাফেরদের বিরুদ্ধে মুমিন মুসলমানদেরকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত কর এবং তাদেরকে বলে দাও সংখ্যায় কম হওয়ার জন্য কিংবা অনুন্নত যুদ্ধাস্ত্রের জন্য মুসলমানরা যেন ভয় না পায়। কারণ এখানে সৃষ্টিকর্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তিনি সত্যের সৈনিকদেরকে এ ব্যাপারে অভয় দিয়ে বলেছেন, মুমিনরা যদি অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে রুখে দাঁড়ায় তাহলে একজন মুমিন মুসলমানের মুকাবেলায় দশজন কাফেরও টিকতে পারবে না। আর এই শক্তি আসবে ঈমানের আলো থেকে। যেটা ইসলামের শত্রুদের নেই। এমনকি তারা এ জিনিসটি অনুধাবন করতেও অক্ষম।
ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে অবশ্য এই পবিত্র আয়াতের অনেক বাস্তব দৃষ্টান্ত চোখে পড়বে। দেখা গেছে, যখনই মুসলমানরা অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে খাঁটি নিয়তে রুখে দাঁড়িয়েছে সেখানেই তাদের নজিরবিহীন বিজয় অর্জিত হয়েছে। লোকবল এবং যুদ্ধ সরঞ্জামের দিক দিয়ে মুসলমানরা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও পরাক্রমশালী শত্রু পক্ষকে তারা নাস্তানাবুদ করেছে। বদরের যুদ্ধে এক হাজার শত্রু সেনার বিপরীতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন, ওহুদ যুদ্ধে ৩০০০ এর বিপরীতে মুসলমানরা ছিলেন মাত্র ৭০০ জন, খন্দক যুদ্ধে দশ হাজার কাফেরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন মাত্র ৩০০০ মুসলমান আর তাবুক যুদ্ধে এক লক্ষ শত্রু সেনার বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে লড়াই করেছেন মাত্র দশ হাজার ঈমানদার মুসলিম। কাজেই এ আয়াতে এটাই বুঝানো হয়েছে, সত্য ও মিথ্যার যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত হয় ঈমান ও দৃঢ়তার বলে, এখানে উন্নত যুদ্ধাস্ত্র বা লোকবল মুখ্য নয়।
দেখা যাচ্ছে সব যুদ্ধেই মুসলমানদের সংখ্যা অনেক কম ছিল। তাই কম সেনা বাহিনী নিয়ে গায়ে পরে কেউ যুদ্ধ বাধাবে এ কথা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কম সেনা নিয়ে তাদেরকে উদবুদ্ধ করার জন্যেই ৬৫ নং আয়াতটি আল্লাহ নাজিল করেছেন। আল্লাহ আমাদের ইসলামের সহি বুঝ দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



