
পুরস্কার না পেলে একজন লেখক বা কবি কি সাহিত্য জগতে মর্যাদার আসন পেতে পারেন না? পুরস্কারটা কি খুব জরুরী? উত্তর হোল পুরস্কার পাওয়াটা জরুরী না তবে পুরস্কার একজন লেখক বা কবিকে আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখতে উৎসাহিত করে। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক আছেন যারা তেমন ভালো কোন পুরস্কার পাননি অথচ তারা সাহিত্য জগতে চিরস্থায়ী আসন তৈরি করেছেন। অনেকে এমনও আছেন যারা তাদের জীবনকালে তেমন খ্যাতি পাননি ( জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস প্রমুখ )। পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে সম্মানজনক ও আলোচিত সাহিত্য পুরস্কার দেয় নোবেল কর্তৃপক্ষ। তবে দেখা গেছে ভালোর মধ্যে ভালো বাছার ক্ষেত্রে অনেক সময় নোবেল কর্তৃপক্ষও সমালোচিত হয়েছেন। যাদেরকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই ভালো লেখক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে তার চেয়েও ভালো ও প্রতিষ্ঠিত লেখককে নোবেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পুরস্কৃত করেনি যা সাহিত্যিক সমাজ সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ( যেমন লিও তলস্তয়, মার্ক টোয়েন, মেক্সিম গোরকি, ভারজিনিয়া উলফ – এরা নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন )। লিও তলস্তয় ও মাক্সিম গোরকি ৫ বার নোবেলের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কিন্তু তাদেরকে হতাশ করা হয়েছিল।
২০১২ সালে ওয়াল স্ট্রিট জারনালে প্রকাশিত প্রবন্ধে লেখক জোসেফ এপসটেইন নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের সমালোচনা করে বলেছিলেন “নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াই কি সাহিত্য জগৎ ভালো থাকত? তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার না থাকলেও সাহিত্য জগতের অবস্থা বর্তমানের চেয়ে খারাপ হতো না কারণ বর্তমানে দেয়া পুরস্কারগুলি না সত্যিকার সাহিত্যের জন্য মান (standard) তৈরি করে না সাহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।“ হয়ত উনি ক্ষোভ থেকে লিখেছেন। কিন্তু ওনার কথায় যুক্তি আছে।
আবার নোবেল পুরস্কারের মত পুরস্কার নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন এরকম পুরস্কার অমুখাপেক্ষী উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির লেখকও আছে। ফরাসি দার্শনিক ও লেখক জঁ পল সার্ত্র এমনি একজন ব্যক্তি ছিলেন। অনেকে মনে করেন তার এক সময়ের বন্ধু আলব্যের কামুর তার আগে ১৯৫৭ সালে নোবেল প্রাপ্তিকে তিনি সহজভাবে নিতে পারেননি একারনে তিনি নোবেল প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন কামুকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করার ব্যাপারে তার অনেক জোড়াল ভূমিকা ছিল। ফলে ১৯৬৪ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই তিনি নোবেল কমিটিকে এই পুরস্কার যেন তাঁকে না দেয়া হয় এই মর্মে চিঠি লেখেন। তবে মনে হয় চিঠিটি যথা সময়ে না পৌঁছানোর কারণে বা চিঠিটা পরে দেখার কারণে তার নামে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তিনি পুনরায় পুরস্কার না নেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন এবং কারণ হিসাবে বলেন “তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বস্তুগত কারণও। কোনো লেখকেরই প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার বা সম্মাননা গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ এ জাতীয় সম্মাননা লেখকের জন্য আপসকামিতার জন্ম দেয়। যে প্রতিষ্ঠান তাকে পুরস্কার দিচ্ছে, তার প্রভাব লেখকের সঙ্গে যুক্ত হোক—পাঠকের জন্য তা কাম্য নয়।“ ওনার পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে একজন প্রকৃত লেখক পুরস্কারের মুখাপেক্ষী নয়।
সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে আমাদের দেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে সাক্ষাতকারের সময় প্রশ্ন করা হলে উনি বলেছেন।
প্রশ্ন: সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক সব সময়ই কম-বেশি থাকে। এখন খুব বেশি হচ্ছে। এ–সম্পর্কে আপনি কী ভাবছেন?
হাসান আজিজুল হক : সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে ভাবাভাবির বেশি কিছু নেই। সত্যিকারের লেখক যিনি, তিনি কখনোই পুরস্কারের কথা মাথায় রেখে লেখেন না। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান থাকে নিজের লেখাকে কীভাবে আরও উন্নত, আরও সমৃদ্ধ করা যায়। এই সমৃদ্ধ করার কোনো শেষবিন্দু নেই। কাজেই লেখকের সাধনারও কোনো শেষ নেই। পুরস্কারকে বলা যেতে পারে বাই-প্রডাক্ট। পুরস্কার পাওয়া বা না–পাওয়া প্রকৃত লেখককে ভাবিত করে না। পেলে মনে করতে হবে তিনি যে ধারায় কাজ করছেন, সে ধারাটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো মাত্র। অনেক বড় লেখক কোনো পুরস্কার না পেয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁরা কেউ পুরস্কার না–পাওয়ায় নিজেদের লেখা বন্ধ করেননি বা তাঁদের রচনার সাহিত্যমূল্য কমে যায়নি। ( সূত্র – প্রথম আলো )
আসলে সাহিত্য চর্চা স্কুলের পরীক্ষার মত না। কেউ চাইলেই সাহিত্যিকদের মেধা ও কর্ম অনুসারে একটা মেধা তালিকা তৈরি করতে পারে না। নোবেল সাহিত্য পুরস্কারসহ পৃথিবীতে আরও যত আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অন্যান্য পর্যায়ের পুরস্কার আছে কোনটিই ত্রুটিমুক্ত ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে না। এমন কোনও পদ্ধতি কোনও কর্তৃপক্ষই আবিষ্কার করতে পারেনি যার দ্বারা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ লেখক।
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার শুরু থেকেই ( ১৯০১ সালে) বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেক সর্বজন স্বীকৃতি লেখক নোবেল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পতিত হয়েছেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে যা ঐ লেখকদের সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয় ছিল না। লিও তলস্তয়, হেনরিক ইবসেন, এমিলি জোলা, এন্তন চেকভ ও মার্ক টোয়েনের মত লেখকরা মনোনীত হয়েও বাদ পড়েছেন। এর চেয়ে ওনাদের মনোনয়ন না দেয়াই বরং ভালো ছিল। কারণ এই মানের লেখকদের মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কার না দেয়া এক ধরনের অপমান। রাশিয়ার প্রতি সুইডেনের দীর্ঘকালের বিদ্বেষের কারণে তলস্তয় ও এন্তন চেকভ নোবেল পুরস্কার পাননি বলে মনে করা হয়। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও তার অব্যবহিত পরে নোবেল কমিটি যুদ্ধে জড়িত কোনও দেশের লেখককে পুরস্কার দেয় নি এই সংক্রান্ত তাদের সাময়িক নীতির কারণে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিও নোবেল সাহিত্য পুরস্কারকে প্রভাবিত করেছে। সাহিত্য মান নির্ণয় ও পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে এই রকম বিশ্ব রাজনীতি কখনই গ্রহণযোগ্য না।
নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হোল ইউরোপীয়, বিশেষত সুইডিশ লেখকদের প্রতি পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ। সুইডিশ পত্রিকাগুলি পর্যন্ত এই কাজের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন সময়। সমগ্র এশিয়ার চেয়ে সুইডেনের লেখকরা বেশী পুরস্কার পেয়েছে। ২০০৮ সালে সুইডিশ নোবেল একাডেমীর তৎকালীন সেক্রেটারি হরেস এংদাহল বলেন যে “ইউরোপ এখনও সাহিত্যের কেন্দ্র”। তিনি সাহিত্যের ব্যাপারে আরও বলেন “যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন ও সঙ্কীর্ণ। তারা পর্যাপ্ত পরিমান অনুবাদ করে না এবং তারা সাহিত্যের বড় আসরগুলিতে ততটা অংশ গ্রহণ করে না।“
২০০৯ সালে ওনার জায়গায় যখন পিটার ইংলান্দ আসেন তখন তিনি এর বিপরীতে বলেন “বেশিরভাগ ভাষাতেই লেখকরা আছেন যারা নোবেল পুরস্কারের যোগ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বৃহত্তর আমেরিকাও এর মধ্যে শামিল।“ তিনি লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউরোপ কেন্দ্রিক প্রবনতা স্বীকার করেন ও বলেন যে “আমার মনে হয় এটা একটা সমস্যা। আমরা ইউরোপে লেখা ও ইউরোপের ঐতিহ্য, প্রথা ও আচার নিয়ে লেখাগুলিকে তুলনামুলকভাবে সহজে বুঝতে পারি।“ বোঝা যাচ্ছে নোবেল কমিটির অনেকের সাহিত্য সংক্রান্ত ধ্যান ধারণা ইউরোপকেন্দ্রিক ও অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপের বাইরের লেখা ওনারা ইউরোপীয় লেখার মত সহজে বুঝতে পারেন না। এসব কারনেও সঠিক মূল্যায়ন হয় না।
লিও তলস্তয় ১৯০২ থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত ৫ বার নোবেলের জন্য মনোনীত হন কিন্ত একবারও তাঁকে দেয়া হয়নি। এর আগে ১৯০১ সালে তাঁকে মনোনীত না করার জন্য নোবেল কমিটি ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পরে। ৪২ জন সুইডিশ লেখক তলস্তয়কে চিঠি লেখেন তাদের ক্ষোভ জানিয়ে। পরবর্তী বছরগুলিতেও লিও তলস্তয়কে নোবেল দেয়া হয়নি কারণ হিসাবে তলস্তয়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের ব্যাপারে নোবেল কমিটির অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি ও রাশিয়ার সাথে সুইডেনের তৎকালীন সম্পর্ককে দায়ী করেন সমালোচকরা।
২০১৮ সাল পর্যন্ত ১১৬ জনকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় যার মধ্যে ৭৫ জনই লিখেছেন ইউরোপীয় ভাষাতে। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেও যে দুইজনকে দেয়া হয়েছে তারা উভয়েই ইউরোপীয়। মনে হচ্ছে ইউরোপের ভুত নোবেল কমিটির মাথা থেকে যাচ্ছে না। ইউরোপের বাইরে ভালো সাহিত্য কম হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে তাদের পুরস্কার দেয়ার ধরণ দেখে।
২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার হ্যান্ডকেকে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়। এই লেখক কনসেট্রেশন ক্যাম্প ও ফেসিজমের সমর্থক। তিনি দ্বিধাহীনভাবে ১৯৯০ এর দশকের বসনিয়ার মানুষের উপর সার্বদের নির্মম অত্যাচার সমর্থন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী স্লোবোডান মিলসেভিককে প্রশংসা করেছেন। এই লেখককে গত দুই দশক ধরে মানুষ ব্যাপকভাবে সমালোচনা করে আসছে তার এই ধরনের অবস্থানের জন্য। সাহিত্যের সাথে রাজনীতি বা লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি মেশানো হয়ত ঠিক না। কিন্তু লেখক কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের সমর্থন করাটাও কোনওভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ অন্যায়ের সমর্থনকারীরকে পুরস্কৃত করাটাও কতটা নৈতিক এই প্রশ্ন চলে আসে।
গায়ক ও গীতিকার বব ডিলানকে ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়। যদিও এই বিভাগে নোবেল দেয়ার কথা উপন্যাসিক, নাট্যকার, নন- ফিকশন লেখকদের। উনি মেধাবী একজন গায়ক ও গীতিকার তবুও এটা নিয়েও অনেক সমালোচনা হয় কারণ এই বিভাগের পুরস্কার গায়ক বা গীতিকারদের জন্য নয়। গানের কথা আর কবিতা এক কি না তা নিয়ে কিছু বিতর্কও আছে। সকলের মনে প্রশ্ন জাগে ২০১৬ সালে কি উপরোল্লিখিত বিভাগে দেয়ার মত আর কাউকে পাওয়া গেলো না। এটা মুলত নোবেল কমিটির একধরনের খামখেয়ালি কাজ।
বিখ্যাত কবি ও লেখক যারা নোবেল পুরস্কার পাননি তার মধ্যে লিও তলস্তয়, মেক্সিম গোরকি, মার্ক টোয়েন, ভারজিনিয়া উলফ, রবার্ট ফ্রসট, ভ্লাদিমির নবকব, এমিল জোলা, আন্তন চেকভ, হেনরিক ইবসেন, জেমস জয়স, ফ্রানয কাফকা, জর্জ লুই বরজিস, আর কে নারায়ণ, হারুকি মুরাকামি, টমাস হারদি, জন আপডাইক, আর্থার মিলার, বার্টল্ট ব্রেখ্ট, অগাস্ট স্ট্রিনবার্গ, ফ্রান্জ কাফকা, জোসেফ কনরাড, গার্সিয়া লোরকা, ডি এইচ লরেন্স, হেনরি জেমস, হোর্হে লুই বোর্হেস প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। কয়েক বছর আগে মারা যাওয়া সাহিত্যিক চিনুয়া আচেব যাকে আধুনিক আফ্রিকান সাহিত্যের জনক বলা হয় এবং যিনি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ‘থিংস ফল অ্যাপার্ট’ উপন্যাসটির মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তার শক্তিমান অবস্থান ধরে রেখেছিলেন নোবেল কমিটি তাকেও নোবেল পুরস্কারের জন্য যোগ্য মনে করেনি। নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে অনেকগুলো সমালোচনার একটি হচ্ছে তারা ‘ইউরোসেন্ট্রিক’ বা ইউরোপকেন্দ্রিক।
নোবেল পুরস্কার যেখানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় সেখানে আরও যে সাহিত্য পুরস্কার দেশে-বিদেশে আছে সেগুলিও যে পুরোপুরি নিরপেক্ষ না এটা বোঝা যায়। কাজেই নোবেল বা অন্য সাহিত্য পুরস্কার না পাওয়া মানেই ভালো লেখক, কবি বা নাট্যকার না এমন মনে করার কোন কারণ নেই। কাজেই আমরা কামনা করবো লেখক ও কবিরা সাধারণ মানুষ ও সমাজের জন্যে লিখে যাবেন আপন মনে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে। মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় পুরস্কার আর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার প্রাপ্তি একটা বাড়তি সম্মান।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



