somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালো মানুষের গল্প।

২৬ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১১ সালের মে মাসে আগের লাভ গুরুর ''আমার ভালবাসা'' অনুষ্ঠানে এসেছিল ''দিতি'' নামের একটি মেয়ে। মেয়েটি তখন বলেছিল সে মুসলমান থেকে ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়েছে এবং ভালো একজন মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে।
এবার আসি মেয়েটির প্রথম জীবনে। মেয়েটি ছিল বাবা মায়ের বড় সন্তান এবং একটি মাত্র মেয়ে। শুধু মাত্র গায়ের রং কালো হওয়ার কারণে এবং বিয়েতে যৌতুক দিতে হয়েছে বলে বিয়ের পর তার নিজের পরিবার তাকে ত্যাগ করে। অথচ মেয়েটি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেনি বরং বাবা মায়ের পছন্দেই করেছিল।
অধিক ধৈর্য্যশীল এবং ভাল মানুষ হওয়ার কারণে মেয়েটি শত অত্যাচার সহ্য করেও লম্পট স্বামীর ঘর করতে চেয়েছিল। যৌতুকের জন্য মেয়েটির পেটের ৮ মাসের দুই বাচ্চাকে মেরে ফেলে তার স্বামীর পরিবার। তাকে বিভিন্নভাবে হত্যা করতে চায়। শ্বশুর শ্বাশুরী ননদ স্বামী সবাই তার উপর অত্যাচার করত,,এমন কেউ ছিল না যে তাকে বাঁচাবে। এমনকি সে তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়েছে কিন্তু পায়নি। বাবা বলেছিল, ''মেয়ে বিয়ে দিয়েছি দায়িত্ব শেষ।''
এই কারণে লাভ-গুরু বারবার একটি প্রশ্ন করছিলেন, ''লোকটি কি আপনার নিজের বাবা?''
যাই হোক, মেয়েটির ডিভোর্স হয়, বাবার বাড়িতে থাকে আশ্রিতার মত। তারপর একটা হিন্দু লোকের সাথে নিজেকে জড়ায়। যারা গল্পটা তার মুখে শুনেছেন তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন কতটা কষ্ট পার করেছিল মেয়েটি। শুধুমাত্র কালো গায়ের রং, এই কারণে নিজের বাবা মা তাকে পর করে দেয়। আজব এবং মর্মান্তিক।
শ্বশুর, শ্বাশুর্‌ স্বামী, ননদ এরা অত্যাচার করেছে তারপর মেয়েটি সাহায্য চেয়েছে বাবা মায়ের কাছে তাও পায়নি। মেয়েটিকে ঢাকায় একা ফেলে গিয়েছিল তার স্বামী তারপর সে পুলিশের মাধ্যমে বাড়ি যায়। হায়রে দুনিয়া। আর আবেগ প্রবণ না হই, আসি আসল কথায়। মেয়েটির গায়ের কালো রংয়ের জন্য কি তার বাবা মায়ের জিন দায়ী নয়? তাহলে কেন তারা নিজেদের মেয়েকে দূরে ঠেলে দেবেন?
আর গায়ের রং কি মানুষ রং মিস্ত্রির দ্বারা লাগিয়ে নেয় নাকি বিধাতার দান? তাহলে কেন মানুষ এটার কারণে এত কথা বলে ?
আমরা কি সভ্য জগতের মানুষ? নাকি সভ্য জগতের পোশাকের আড়ালে অসভ্য মানুষ বসবাস করে এই দুনিয়ায় ?
একদিন একটা কালো ছেলে আমার পাশে আরেকজন ছেলের সাথে কালো মেয়েদের নিয়ে তাচ্ছিল্য করে কথা বলছিল সেটা শুনে আমি বললাম ''আপনি নিজেওতো কালো ছেলে!''
ছেলেটি আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল ''ছেলে মানুষের আবার কালো ফর্সা কিসের?'' আমি আবার বললাম ''আপনার মা বা বোনও তো কালো হতে পারে তাই আপনার উচিত নয় কালো মেয়েদের তাচ্ছিল্য করে কথা বলা''
ছেলেটি বলল
''কালো তো কালো সে মা হোক আর বোন''
আমি আর কিছু বলিনি, এইসব পশুর সাথে তর্ক করার মানে হয় না।
আচ্ছা, যদি পৃথিবীর সব মেয়ে সুন্দরি হত তাহলে কী হতো? এসব কালো ফর্সার কোন মানেই থাকতো না।
আচ্ছা, আমরা ছেলেরা কেন পারি না মেয়েদের গায়ের রং না দেখে ভিতরের মন দেখতে? আবার মেয়েরা কেন পারি না ছেলেদের টাকা পয়্সা মেকী স্মার্টনেস না দেখে তাদের মন কে প্রাধান্য দিতে? কেন পারিনা ভালবাসার বিনিময়ে ভালবাসা দিয়ে পৃথিবীটাকে সুন্দর করতে? আচ্ছা আপনি দেখছেন আপনার স্ত্রী বা প্রেমিকা খুব সুন্দরি, তার ভিতরের আত্মাটাকি তার চেহারার মত সুন্দর? মেয়েদেরকে বলি, আপনার প্রেমিক বা স্বামীর টাকা আছে এগুলোকি প্রকৃতই শান্তি এনে দিতে পারে? টাকা ওয়ালার স্ত্রীরা তাহলে পেদানি খেয়ে ডিভোর্স করে কেন? অথবা আপনার প্রেমিক আপনার সামনে খুব স্মার্ট, কিন্তু সেটাকি তার আসল রুপ? স্মার্ট দেখেই যার প্রেমে পরলেন তারতো কুৎসিত মন থাকতে পারে।
প্রাচীন কালে কালো মানুষদের গোলাম বানিয়ে বিক্রি করতো আর মেয়েদের দাসী বাদী। আমরাকি সেই যুগে? না আমরা সেই যুগে নই আমরা সভ্য যুগের মানুষ।
আসুন সবাই ভাল হয়ে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৪৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×