শফিক কলিম ঃ সন্ধা সাড়ে 6টা। ভলভো বাসে চড়ে মিরপুরের 10 নম্বরে নেমে দৰিণে খানিকটা গেলেই সুইমিং পুল ঘেষে ক্রীড়া কমপ্লেক্স। দারোয়ান সাঁতারম্ন রুবেল রানার রম্নম দেখিয়ে দিল। রম্নমের ভেতর তিনি পায়চারী করছেন। পরিচয় দিতেই চেয়ার এগিয়ে দিলেন ।
সাঁতারু রুবেল রানা আর ক্রিকেটার হাবিবুল বাশারের মাঝে একাধিক মিল আছে। একজন এনে দিয়েছেন সাফ গেমসের সোনা, অন্যজনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রথম ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ। দ্বিতীয় জনকে দেশের বাইরেরও অনেকে চেনেন। রম্নবেলকে চিনতে দেশেরই অনেকে হিমশিম খান। নাম ওঠলেই অনেকে বলে ওঠেন, 'রুবেল রানা, সে আবার কে?' 2003 সালে ইসলামাবাদ সাফ গেমসে পুরুষদের 100 মিটার ব্যাক স্ট্রোকে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দেওয়া সাঁতারম্ন বললে অনেকে চেনার ভান করেন। রম্নবেলের সাফ স্বর্ণ জয়ের বহু আগে থেকেই হাবিবুল বাশার বিখ্যাত। যার ভান্ডারে রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের প েসবের্াচ্চ সেঞ্চুরি ও রানের রেকর্ড। বলা যায় ক্রিকেটের 'ডিপেন্ডেবলম্যান'। সেই হাবিবুলের মতই বিখ্যাত হতে চান রুবেল রানা। দুজনে আবার একই জেলার সনত্দান।
দেশের জন্য কিছু করতে চান রম্নবেল। সর্বশেষ জাতীয় সাঁতারে 10টি স্বর্ণ জয় করেন তিনি। 7টি ব্যক্তিগত ও 3টি দলীয়। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন দু'টি। তবে নিজের গড়া রেকর্ড ভাঙ্গেন রুবেল। 50 মিটার ব্যাকস্ট্রোকে 28.52 সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইনে পেঁৗছে নতুন সাফ রেকড গড়ের্ন। ইসলামাবাদ সাফ গেমসে তিনিই 28.59 সেকেন্ডে টাচ লাইন ছুঁয়েছিলেন। প্রতিযোগিতার শেষ দিন ব্যাকস্ট্রোকের 100 মিটারে পুরনো রেকর্ড (1:2.55 সেকেন্ড) পেছনে ফেলে 1:1.96 সেকেন্ড সময় নেন। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে সাউথ এশিয়ান অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণ পদক জেতা সম্ভব মনে করেন রুবেল। তবে এ জন্য তিনি চান উন্নত প্রশিণ। তিনি মনে করছেন, শীতে বাংলাদেশে প্রশিণ চালিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই এ সময়টাতে বিদেশে প্রশিণের জন্য পাঠানো যেতে পারে। রুবেলের ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল আর দশজন তারকা খেলোয়াড়ের মতই।
1998 সালের কথা। কোচ আমিরুল ইসলামের হাত ধরে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা। অংশ নিয়েই আলোড়ন সৃষ্টির পর কর্মকতর্াদের নজরে পড়েন। জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। আমিরুল ছাড়াও এমদাদুল হকের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করলেন রুবেল রানা।
গত দশ বছরে বহু প্রতিভাবান পুরুষ সাঁতারু বেড়িয়ে এসেছেন। তুলনামূলকভাবে প্রমিলা সাঁতারুর ঝলক টিকে রয়েছে সেই সবুরা, ডলি, মেরিনা, মমতাজ শিরিন আর সামপ্রতিক সময় লাবনী আক্তার জুঁইয়ের মধ্যে। কিন্তু ভাল মানের প্রশিণের অভাবে তারা তাদের সামর্থানুযায়ী পারফর্মেন্স করতে পারছেন না বলে মনে করেন রুবেল রানা। কিছুটা হতাশা তার চোখে-মুখে : 'প্রথমত ভাল মানের বিদেশী কোচ প্রয়োজন। ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত বাছাই করা সাঁতারুদের উন্নত প্রশিণের জন্য বিদেশে পাঠানো দরকার। আনত্দজর্াতিক অঙ্গনে সাফল্যের জন্য রম্নবেল রানা দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশী কোচ আনার পৰপাতি। কিন্তু শীতের মৌসুমে নয়। এ সময়টাতে বিদেশে প্রশিৰণের জন্য পাঠানো যেতে পারে বলে তার মনত্দব্য। এ প্রসঙ্গে তার কথা হলো- ঠান্ডার কারণে পুলেই নামতে পারছি না। তাহলে বিদেশী কোচ এনে লাভ কি? অযথা কোচের পেছনে পয়সা খরচ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শীতের মৌসুমে অনুশীলন চালিয়ে নেওয়ার জন্য গরম পানির পুল রয়েছে। তাই তারা প্রশিণ চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে সে ব্যবস্থা নেই। ভাল ফলাফল পেতে অবশ্যই পজিটিভ সিদ্ধানত্দ নেওয়া প্রয়োজন। আর সবচে বেশি প্রয়োজন ইলেক্ট্রনিক্স স্কোর বোর্ড। এ বোর্ড না থাকায় আনত্দজর্াতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগে নিজেদের টাইমিং জানতে পারছি না। ট্রেনিংয়ে হ্যান্ড টাইমিং করা হয়।' আবাসিক ট্রেনিংকালে যে খাবার দেওয়া হয় তার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
2005 সালে আনত্দঃবাহিনী সাঁতারেও শ্রেষ্ঠ সাঁতারুর সম্মান পান দেশের এ কৃতী সাঁতারম্ন। নৌ-বাহিনীর প ে5টি স্বর্ণ জয় করেন। তার ভান্ডারে রয়েছে 22টি জাতীয় রেকর্ড। সাফ রেকর্ড একটি। 2000 সালে জাতীয় জুনিয়র সাঁতারে অংশ নিতে এসেই মিরপুর সুইমিং পুলে ঝড় তোলেন। ছয়বারই ভাঙ্গেন পুরনো জাতীয় রেকর্ড। পরের বছর নৌবাহিনীর প েঅংশ নেন 7ম বাংলাদেশ গেমসে। তার দাপট ঠিকই বজায় থাকে। কারার সামেদুল, জুয়েল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, নিয়াজ আলীদের মত সাঁতারুরাও যুতসই চ্যালেঞ্জও ছুড়তে পারেননি।
সাঁতার অঙ্গনে তাড়াতড়ি বিয়ে করার একটা প্রবণতা আছে। এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না রুবেল রানা।তার ভাষায়, 'সাঁতারকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে সময়ের আগে বিয়ে করা উচিত নয়। এতে মনোযোগ ভিন্ন দিকে চলে যায়।'
রুবেলের ক্যারিয়ারে হতাশাও আছে। সবচেয়ে বড় হতাশা হচ্ছে ,'সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ের পরও অ্যাথেন্স অলিম্পিকে অংশ নিতে না পারা'। তারপরও প্রবল আত্মবিশ্বাসে বললেন, 'সময় তো এখনো শেষ হয়নি। আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছি।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



