শফিক কলিম ঃ ক্রীড়া েেত্র জাতীয় মান অর্জনের জন্য বাংলাদেশ আন্তজর্াতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। বিশ্ব মানবাধিকার আন্দোলনে ঘোষিত 'সবার জন্য ক্রীড়া' নীতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশও বদ্ধ পরিকর। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনতা বৃদ্ধি করে পরিকল্পিত উপায়ে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ক্রীড়ানুশীলনের জন্য বস্তুগত অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মম জাতি গড়ে তোলা রাস্ট্রের কর্তব্য। আর সে কর্তব্য পালনের জন্যই প্রণীত হয়েছিলো জাতীয় ক্রীড়া নীতি। 1976 সালে সামরিক অধ্যাদেশ বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রণীত এ অ্যাক্টের গণতান্ত্রিক চরিত্র ুন্ন করে ক্রীড়াঙ্গনে স্বৈরতান্ত্রিক রাজত্ব কায়েম হয়। অবশ্য বিগত সরকার মতায় আসার পর কিছুটা হলেও সে ধারা থেকে বেড়িয়ে এসেছিলো। পরবতর্ীতে বর্তমান সরকার মতায় আসার পর শিা মন্ত্রনালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের মধ্যে চুক্তি হয়েছে ক্রীড়াকে এগিয়ে নেয়ার জন্য্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো- যে উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া নীতি প্রণীত হয়েছিলো তা কি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে?
জাতীয় ক্রীড়া নীতির ধারা-2এর 5 উপধারায় রয়েছে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য বিশেষ ধরনের ক্রীড়ার ব্যবস্থা করা। সেটা কি হয়েছে? বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী দল বেশ কয়েকবার স্পেশাল অলিম্পিক ও বিশেষ অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে। সাফল্য নিয়ে এসেছে তারা। মজার ব্যাপার হলো কোনবারই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ খুব বেশি আর্থিকভাবে সহায়তা করেনি, যতোটা করে থাকে অন্যান্য ফেডারেশনগুলোর জন্য। জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন বিশেষ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
আবার ধারা 5-এর 1 উপধারায় রয়েছে দেশের স্কুল পযর্ায়ের পাঠ্যক্রমে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিা ও ক্রীড়া সমর্্পকে একটি পূনর্াঙ্গ বিষয় বাধ্যতামূলক হিসেবে অন্তর্ভক্ত করা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পযর্ায়ে, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে একই বিষয়ে 100 নম্বরের একটি ঐচ্ছিক পাঠক্রম অন্তভর্ূক্ত হবে। উভয়েেত্র মোট 100 নম্বরের ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় অংশে বিভক্ত থাকবে। এটাও বাস্তবায়ন হয়নি। একই অনুচ্ছেদের 2 উপধারায় রয়েছে দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি করে পূর্ণাঙ্গ শারীরিক শিা কলেজ স্থাপন করা হবে। কিন্তু তাও নেই। ঢাকার পর চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়েছে। বাগেরহাট ও ময়মনসিংহে দু'টি শারীরিক শিা কলেজ নিমর্াণ কাজ চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আরো কয়েকটি জেলায় শারীরিক শিা কলেজ নিমর্াণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এগুলোর পাশাপাশি ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজানো বেসরকারী কিছু শারীরিক শিা কলেজ টাকার বিনিময়ে কোর্স শেষ হওয়ার আগেই সার্টিফিকেট দেয়া শুরু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধারা 19-এ রয়েছে প্রতি থানায় একটি করে স্পোর্টস কমপেক্স, জেলাগুলোতে পূণর্াঙ্গ স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, সুইামং পূল, মহানগরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক ও উন্নতমানের ভৌত ক্রীড়া স্থাপনা সুবিধাদির সৃষ্টি করতে হবে পযর্ায়ক্রমে। এই ধারা বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত সে রকমভাবে কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। বরং যে সকল ক্রীড়া স্থাপনা রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে রনাবেন হচ্ছে না।
জাতীয় ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়নে মূল ভুমিকা পালনের কথা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের। এ মন্ত্রনালয়ের অধীনস্ত দপ্তরসমূহকে দিক নির্দেশনা প্রদান সহ তদারকির দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় পালন করবে। শিা মন্ত্রনালয় স্বীয় অধীনস্ত দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে শিােেত্রর জন্য ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়নে সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। এখন অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্রীড়া নীতি শুধু করার জন্যই করা হয়েছে, বাস্তবায়নের জন্য নয়। অথবা বলা যায় নামসর্বস্ব জাতীয় ক্রীড়া নীতি। বাস্তবায়ন না হওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া নীতি আজ প্রশ্নের মূখে, এটাই স্বাভাবিক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


