somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় ক্রীড়া নীতি আছে বাস্তবায়ন নেই

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শফিক কলিম ঃ ক্রীড়া েেত্র জাতীয় মান অর্জনের জন্য বাংলাদেশ আন্তজর্াতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। বিশ্ব মানবাধিকার আন্দোলনে ঘোষিত 'সবার জন্য ক্রীড়া' নীতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশও বদ্ধ পরিকর। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনতা বৃদ্ধি করে পরিকল্পিত উপায়ে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ক্রীড়ানুশীলনের জন্য বস্তুগত অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মম জাতি গড়ে তোলা রাস্ট্রের কর্তব্য। আর সে কর্তব্য পালনের জন্যই প্রণীত হয়েছিলো জাতীয় ক্রীড়া নীতি। 1976 সালে সামরিক অধ্যাদেশ বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রণীত এ অ্যাক্টের গণতান্ত্রিক চরিত্র ুন্ন করে ক্রীড়াঙ্গনে স্বৈরতান্ত্রিক রাজত্ব কায়েম হয়। অবশ্য বিগত সরকার মতায় আসার পর কিছুটা হলেও সে ধারা থেকে বেড়িয়ে এসেছিলো। পরবতর্ীতে বর্তমান সরকার মতায় আসার পর শিা মন্ত্রনালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের মধ্যে চুক্তি হয়েছে ক্রীড়াকে এগিয়ে নেয়ার জন্য্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো- যে উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া নীতি প্রণীত হয়েছিলো তা কি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে?
জাতীয় ক্রীড়া নীতির ধারা-2এর 5 উপধারায় রয়েছে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য বিশেষ ধরনের ক্রীড়ার ব্যবস্থা করা। সেটা কি হয়েছে? বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী দল বেশ কয়েকবার স্পেশাল অলিম্পিক ও বিশেষ অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে। সাফল্য নিয়ে এসেছে তারা। মজার ব্যাপার হলো কোনবারই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ খুব বেশি আর্থিকভাবে সহায়তা করেনি, যতোটা করে থাকে অন্যান্য ফেডারেশনগুলোর জন্য। জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন বিশেষ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
আবার ধারা 5-এর 1 উপধারায় রয়েছে দেশের স্কুল পযর্ায়ের পাঠ্যক্রমে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিা ও ক্রীড়া সমর্্পকে একটি পূনর্াঙ্গ বিষয় বাধ্যতামূলক হিসেবে অন্তর্ভক্ত করা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পযর্ায়ে, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে একই বিষয়ে 100 নম্বরের একটি ঐচ্ছিক পাঠক্রম অন্তভর্ূক্ত হবে। উভয়েেত্র মোট 100 নম্বরের ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় অংশে বিভক্ত থাকবে। এটাও বাস্তবায়ন হয়নি। একই অনুচ্ছেদের 2 উপধারায় রয়েছে দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি করে পূর্ণাঙ্গ শারীরিক শিা কলেজ স্থাপন করা হবে। কিন্তু তাও নেই। ঢাকার পর চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়েছে। বাগেরহাট ও ময়মনসিংহে দু'টি শারীরিক শিা কলেজ নিমর্াণ কাজ চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, আরো কয়েকটি জেলায় শারীরিক শিা কলেজ নিমর্াণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এগুলোর পাশাপাশি ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজানো বেসরকারী কিছু শারীরিক শিা কলেজ টাকার বিনিময়ে কোর্স শেষ হওয়ার আগেই সার্টিফিকেট দেয়া শুরু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধারা 19-এ রয়েছে প্রতি থানায় একটি করে স্পোর্টস কমপেক্স, জেলাগুলোতে পূণর্াঙ্গ স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, সুইামং পূল, মহানগরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক ও উন্নতমানের ভৌত ক্রীড়া স্থাপনা সুবিধাদির সৃষ্টি করতে হবে পযর্ায়ক্রমে। এই ধারা বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত সে রকমভাবে কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। বরং যে সকল ক্রীড়া স্থাপনা রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে রনাবেন হচ্ছে না।
জাতীয় ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়নে মূল ভুমিকা পালনের কথা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের। এ মন্ত্রনালয়ের অধীনস্ত দপ্তরসমূহকে দিক নির্দেশনা প্রদান সহ তদারকির দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় পালন করবে। শিা মন্ত্রনালয় স্বীয় অধীনস্ত দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে শিােেত্রর জন্য ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়নে সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। এখন অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্রীড়া নীতি শুধু করার জন্যই করা হয়েছে, বাস্তবায়নের জন্য নয়। অথবা বলা যায় নামসর্বস্ব জাতীয় ক্রীড়া নীতি। বাস্তবায়ন না হওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া নীতি আজ প্রশ্নের মূখে, এটাই স্বাভাবিক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×