শফিক কলিম ঃ সমপ্রতি ফিগার স্কেটিং নামে একটি ফেডারেশন গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পূত্র। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উচ্চ পযর্ায়ে যোগাযোগও করেছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রী পূত্র জোরালো ভূমিকা রাখায় সেটা অনুমোদনও হয়ে যেতে পারে।
শুধু ফিগার স্কেটিংই নয়, সীমিত ক্রীড়া বাজেটের এ দেশে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন গঠিত হয়েছে। সুযোগ পেলেই 'ব্যাঙের ছাতা' ফেডারেশন গঠন করার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট অনুমোদনের জন্য দিচ্ছে ক্রীড়া সংগঠকরা। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও তাদের নিরাশ না করে অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকতর্ারা একবারও ভাবেনও না আদৌ এই ফেডারেশনটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। এসব ফেডারেশনে এমন কিছু নেই যে, না থাকলেই নয় এসব ফেডারেশন। নাম শুনলেই হাসি পায় অথচ জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন! রোলার স্কেটিং ফেডারেশন, স্কোয়াশ ফেডারেশন, বিলিয়ার্ড ফেডারেশন, ব্রিজ ফেডারেশন, ক্যারম ফেডারেশন, আর্ম রেসলিং ফেডারেশন, বাশআপ ফেডারেশন, শরীর গঠন ফেডারেশন। এসব ফেডারেশনগুলোর কোনটি অলিম্পিক ক্রীড়া ইভেন্ট নয় বা অলিম্পিকের আওতাভূক্ত নয়। অথচ এসব ফেডারেশন চালাতে গিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বছরে লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতাভুক্ত 35টি ফেডারেশনের পেছনে তাদের খরচ করতে হয় কোটি টাকার উপর। সমপ্রতি ঘোষিত 2005-2006 অর্থবছরে ফেডারেশনগুলোর পেছনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। 2002-2003 সালে ছিল 1 কোটি 14 লাখ টাকা। 2001-2002 অর্থ বছরে এর পরিমান ছিলো 97 লাখ 75 হাজার টাকা।
জিমন্যাস্টিকসে আমাদের সাফল্য নেই অথচ বাজেটে বরাদ্ধ প্রায় লাখ টাকা। ধানমন্ডি-গুলশানের ধনীর দুলাল-দুলালরি খেলা বাস্কেটবল ফেডারেশনের বরাদ্ধ একই। নাম সর্বস্ব শরীরগঠন ফেডারেশনের সাড়ে 3 লাখ টাকা, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড ও স্নুকার ও বিলিয়ার্ড, ব্রীজ, রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের পেছনে ব্যয় হয় দেড় লাধিক টাকা করে। বছরে 1 লাখ টাকা হলেও কম নয়। এর প্রয়োজনীয়তা-ই তো নেই। কারণ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষিত বর্ষ পঞ্জিতে তাদের কর্মসূচী শুধু ছাপাই হয় কার্যক্রম নেই।
প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে- কি এমন দিচ্ছে এসব ফেডারেশন যে এদের পেছনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বছরে কোটি টাকা ঢালতে হবে? শুধু তাই না, আরো একটা প্রশ্ন হলো-এতো ফেডারেশনের কি দরকার রয়েছে? এর উত্তর একটাই-না।
আঞ্চলিক বা স্থানীয় খেলাগুলো অপ্রচলিত ছোট ছোট গেমসের অন্তর্ভূক্ত। এসব ইভেন্টগুলো সরাসরি সরকারি অনুদানের আওতায় না এনে বেসরকারি বা অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচলন করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে যখন এর জনপ্রিয়তা বাড়বে তখনই তা সরকারি অনুদানের আওতায় আনা যায়।
বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থা 35টি! এরমধ্যে 24টি ক্রীড়া আন্তজর্াতিক সংশিস্ট। বাকিগুলোর কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা শুধু দেশে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আট সাফ গেমসে একবার স্বর্ণপদক, অ্যাথলেটিকস্ শে;াহ আলম, বিমল চন্দ্র তরফদারের দ্রুততম মানব হওয়া, সাঁতারে মোশারফের স্বর্ণপদক, ও কমনওয়েলথ গেমসে আতিক-নিনি-সাবরিনা-আসিফ, সাফ গেমসে আসিফ, শারমিনের স্বর্ণপদক ছাড়া উলেখ করার মত আর কি সাফল্য আছে? সবচেয়ে বড় লজ্জার কথা হলো আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডিতে এখন আমরা জাপানের (!) সাথেই পেরে উঠি না। অস্টম সাফ গেমসে আবার পাকিস্তানের সাথে মারামারি করার কলংকও আমাদের আছে।
বাংলাদেশে ফেডারেশন বাড়ছে, ক্রীড়ার পরিসর ছোট হয়ে আসছে। মান কমে যাচ্ছে খেলার। তবে বাড়ছে কর্মকতর্াদের দুনর্ীতি ও অসততা। সাথে বাড়ছে সরকারি টাকায় কর্মকতর্াদের বিদেশ ভ্রমন। অথর্াৎ খেলোয়াড়রা নয় লাভবান হচ্ছেন কর্মকতর্ারা। এর পেছনের কারণ-ক্রীড়াঙ্গনে জবাবদিহিতা না থাকা। কাগজে-কলমে জবাবদিহিতার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছে না। যদি ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহিতা থাকতো তাহলে অধিকাংশ ফেডারেশনের অস্তিত্বই থাকতো না।
এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উচিত ব্যাঙ্গের ছাতার মতো আর নতুন ফেডরেশনের জন্ম না দিয়ে পুরনো ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রম ঢেলে সাজানো। প্রয়োজনে ফেডারেশন কমিয়ে সীমিত পুঁজি ও সুবিধাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে না দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক ব্যবহার। এ জন্য ছোট ছোট ফেডারেশনগুলোকে নিয়ে একটি কনফেডারেশন গঠন করা যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


