somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এতো ফেডারেশনের প্রয়োজনীয়তা কি?

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শফিক কলিম ঃ সমপ্রতি ফিগার স্কেটিং নামে একটি ফেডারেশন গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী পূত্র। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উচ্চ পযর্ায়ে যোগাযোগও করেছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রী পূত্র জোরালো ভূমিকা রাখায় সেটা অনুমোদনও হয়ে যেতে পারে।
শুধু ফিগার স্কেটিংই নয়, সীমিত ক্রীড়া বাজেটের এ দেশে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন গঠিত হয়েছে। সুযোগ পেলেই 'ব্যাঙের ছাতা' ফেডারেশন গঠন করার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট অনুমোদনের জন্য দিচ্ছে ক্রীড়া সংগঠকরা। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও তাদের নিরাশ না করে অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকতর্ারা একবারও ভাবেনও না আদৌ এই ফেডারেশনটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। এসব ফেডারেশনে এমন কিছু নেই যে, না থাকলেই নয় এসব ফেডারেশন। নাম শুনলেই হাসি পায় অথচ জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন! রোলার স্কেটিং ফেডারেশন, স্কোয়াশ ফেডারেশন, বিলিয়ার্ড ফেডারেশন, ব্রিজ ফেডারেশন, ক্যারম ফেডারেশন, আর্ম রেসলিং ফেডারেশন, বাশআপ ফেডারেশন, শরীর গঠন ফেডারেশন। এসব ফেডারেশনগুলোর কোনটি অলিম্পিক ক্রীড়া ইভেন্ট নয় বা অলিম্পিকের আওতাভূক্ত নয়। অথচ এসব ফেডারেশন চালাতে গিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বছরে লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতাভুক্ত 35টি ফেডারেশনের পেছনে তাদের খরচ করতে হয় কোটি টাকার উপর। সমপ্রতি ঘোষিত 2005-2006 অর্থবছরে ফেডারেশনগুলোর পেছনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। 2002-2003 সালে ছিল 1 কোটি 14 লাখ টাকা। 2001-2002 অর্থ বছরে এর পরিমান ছিলো 97 লাখ 75 হাজার টাকা।
জিমন্যাস্টিকসে আমাদের সাফল্য নেই অথচ বাজেটে বরাদ্ধ প্রায় লাখ টাকা। ধানমন্ডি-গুলশানের ধনীর দুলাল-দুলালরি খেলা বাস্কেটবল ফেডারেশনের বরাদ্ধ একই। নাম সর্বস্ব শরীরগঠন ফেডারেশনের সাড়ে 3 লাখ টাকা, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড ও স্নুকার ও বিলিয়ার্ড, ব্রীজ, রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের পেছনে ব্যয় হয় দেড় লাধিক টাকা করে। বছরে 1 লাখ টাকা হলেও কম নয়। এর প্রয়োজনীয়তা-ই তো নেই। কারণ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষিত বর্ষ পঞ্জিতে তাদের কর্মসূচী শুধু ছাপাই হয় কার্যক্রম নেই।
প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে- কি এমন দিচ্ছে এসব ফেডারেশন যে এদের পেছনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে বছরে কোটি টাকা ঢালতে হবে? শুধু তাই না, আরো একটা প্রশ্ন হলো-এতো ফেডারেশনের কি দরকার রয়েছে? এর উত্তর একটাই-না।
আঞ্চলিক বা স্থানীয় খেলাগুলো অপ্রচলিত ছোট ছোট গেমসের অন্তর্ভূক্ত। এসব ইভেন্টগুলো সরাসরি সরকারি অনুদানের আওতায় না এনে বেসরকারি বা অ্যাসোসিয়েশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচলন করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে যখন এর জনপ্রিয়তা বাড়বে তখনই তা সরকারি অনুদানের আওতায় আনা যায়।
বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থা 35টি! এরমধ্যে 24টি ক্রীড়া আন্তজর্াতিক সংশিস্ট। বাকিগুলোর কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা শুধু দেশে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আট সাফ গেমসে একবার স্বর্ণপদক, অ্যাথলেটিকস্ শে;াহ আলম, বিমল চন্দ্র তরফদারের দ্রুততম মানব হওয়া, সাঁতারে মোশারফের স্বর্ণপদক, ও কমনওয়েলথ গেমসে আতিক-নিনি-সাবরিনা-আসিফ, সাফ গেমসে আসিফ, শারমিনের স্বর্ণপদক ছাড়া উলেখ করার মত আর কি সাফল্য আছে? সবচেয়ে বড় লজ্জার কথা হলো আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডিতে এখন আমরা জাপানের (!) সাথেই পেরে উঠি না। অস্টম সাফ গেমসে আবার পাকিস্তানের সাথে মারামারি করার কলংকও আমাদের আছে।
বাংলাদেশে ফেডারেশন বাড়ছে, ক্রীড়ার পরিসর ছোট হয়ে আসছে। মান কমে যাচ্ছে খেলার। তবে বাড়ছে কর্মকতর্াদের দুনর্ীতি ও অসততা। সাথে বাড়ছে সরকারি টাকায় কর্মকতর্াদের বিদেশ ভ্রমন। অথর্াৎ খেলোয়াড়রা নয় লাভবান হচ্ছেন কর্মকতর্ারা। এর পেছনের কারণ-ক্রীড়াঙ্গনে জবাবদিহিতা না থাকা। কাগজে-কলমে জবাবদিহিতার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছে না। যদি ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহিতা থাকতো তাহলে অধিকাংশ ফেডারেশনের অস্তিত্বই থাকতো না।
এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উচিত ব্যাঙ্গের ছাতার মতো আর নতুন ফেডরেশনের জন্ম না দিয়ে পুরনো ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রম ঢেলে সাজানো। প্রয়োজনে ফেডারেশন কমিয়ে সীমিত পুঁজি ও সুবিধাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে না দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক ব্যবহার। এ জন্য ছোট ছোট ফেডারেশনগুলোকে নিয়ে একটি কনফেডারেশন গঠন করা যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×