শফিক কলিম ঃ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফজলুর রহমান মিথ্যে আশ্বাস দিতে পটু-এটা অনেকেই এখন মেনে নিতে বাধ্য। কারণ 2000 সালের 10 অক্টোবর দায়িত্ব নেয়ার পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আশ্বাস তিনি দিয়েছেন। প্রতিটি আশ্বাসই ছিল ক্রীড়া সংশিস্টই। কিন্তু তার দেয়া সে আশ্বাসগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন ক েসাংবাদিকতার সাথে প্রথম মুখোমুখিতেই বলেছিলেন-বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন। এ জন্য অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ও বাস স্টেশনগুলো তুলে দেয়া হবে। কিন্তু 4 বছর পার হয়েছে। বাস স্টেশন স্থান বদল করে উত্তর গেটের পরিবর্তে দণি গেটের সামনে খোলা স্থানে গেলেও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ হয়নি। বরং নতুন যোগ হয়েছে-মাদক দ্রব্য বিক্রয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অসাধু কিছু কর্মকতর্া ও পুলিশের সহায়তায় প্রতিদিন সূর্য পশ্চিমে হেলতেই উত্তর গেটের সামনে হেরোইন বিক্রেতারা পসার সাজিয়ে বসে। রাতে চলে ছিনতাই আর পতিতাদের দৌরাত্ম।
2003 সালের মধ্য জুলাইয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)র নিকট মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম হস্তান্তর করে। কথা ছিল অ্যাথলেটিক ট্র্যাকটি সরিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হবে। এ ব্যাপারে ক্রীড়া মন্ত্রী বলেছিলেন-আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হবে। তবে তার আগেই ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। কিন্তু তার কোন লনই এখনও দেখা যায়নি।
একই অবস্থা হকি টার্ফের। অনেকদিন হলো টার্ফ নষ্ট হয়ে গেছে মওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের। হকি স্টেডিয়ামের টার্ফ বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে তাগাদা দিলেও সেদিকে ভ্রুপে করেনি। পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন 2003-2004 অর্থ বছরেই টার্ফ বসানো হবে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে টার্ফের জন্য জামর্ানির সাথে টার্ফের ব্যাপারে আলোচনাও করে। ইতোমধ্যে হকি ফেডারেশন বাজেটও দিয়েছে। একনেকে সেটা পাশও হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে এখনও হতাশই থাকতে হয়েছে। শুধুমাত্র টার্ফের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আন্তজর্াতিক মানের টুনর্ামেন্ট আয়োজন করতে পারছে না হকি ফেডারেশন।
তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে-তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রশ্রয়ে সরকারী দলের টেন্ডারবাজদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এমন কি এই টেন্ডারবাজদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। কর্মচারীদের হাতে এক সাবেক পরিচালককে (পরিকল্পনা) প্রহারের মত ঘটনাও ঘটেছে। হয়েছে কর্মচারীদের মধ্যে মারামারি।
ক্রীড়াঙ্গনের এই হাল দেখে প্রশ্ন উঠেছে-যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কি শুধুই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে যাবেন? নাকি তার আশ্বাস আলোর মুখ দেখবে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


