somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ট ঘটনা - ৬

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা সবাই নিজেকে সচেতন হিসাবে দাবী করি। কিন্তু কাজে-কর্মে প্রমান করি যে আমরা সচেতন না। আবার যারা আছেন সচেতন, তারা কিছু দাবী করেন না, কিন্তু কাজে প্রমান করেন নিজের সচেতনতা। আবার আমার মত কিছু মানুষ আছে, যারা দাবীও করে, সাথে মোটামোটি চেষ্টা করে তার সচেতনতা প্রমাণ করতে।

যারা রাস্তায় গাড়ি ড্রাই করেন তারা খুব হরহামেশাই মানুষের সচেতনতার লেভেল দেখতে পান। জোরে গাড়ী আসছে, কোন বিকার নাই। আস্তে আস্তে রাস্তা পার হচ্ছে কেউ। হর্ণ বাজাবেন, তাতেও সরবে না।

এই মাত্র একটা পোষ্ট পড়লাম ব্লগার মুনসী১৬১২ এর ব্লগ থেকে। টাইটেল ছিল, কবে আমরা সচেতন হব । লেখাটা পড়ে মনে হল আমার এই ঘটনাটা শেয়ার করা দরকার। কারণ এই ঘটনা প্রায় সময়ই আমরা ঘটিয়ে থাকি।

মূল কথায় আসি। কয়েকদিন আগে একজন ক্লায়েন্ট কে তার ওয়েব সাইটটি বুঝিয়ে দিতে তার অফিসে যাই সন্ধার কিছুটা পরে। যাবার আগেই তাকে ফোন করে রেখেছিলাম যাতে সমস্যা না হয়। কিন্তু যাবার পরে দেখি তার অফিসে তালা ঝুলছে। যেহেতু তার কম্পানি কলসেন্টারের কাজ করে, তার অফিস রাত্রে কোন ভাবেই বন্ধ থাকার কথা না (রবিবার রাত্রে বাদে)। একটু অবাক হতেই হল। ফোন দিলাম তাকে। ফোন রিসিভ করেন না। কয়েকবার চেষ্টার পর তার অফিসের একজন এম্প্লইকে ফোন দিলাম, সেও ফোন রিসিভ করে না। কিছু সময় অপেক্ষা করে যখন চলে আসব ভাবছিলাম, তখনই তার এম্প্লই ফোন দিল। তারপর যা শুনলাম তা মর্মান্তিক।

ঐ অফিসের একজন এম্প্লই মহাখালি রেল ক্রসিংএ ঐ অফিসেরই আর একজন এম্প্লইর সাথে অপেক্ষা করছিল, ট্রেন আসছে। বেশ অনেক মানুষ রেলগেট আটকে দেবার পরও দৌড়ে দৌড়ে পার হচ্ছিল রেল লাইন। সবাই যেন তক ব্যাস্ত। একমিনিট অপেক্ষা করলেই যেন জীবন শেষ। ট্রেন খুব কাছে চলে এসেছে, এর মধ্যে ঐ এম্প্লই লক্ষ করল যে ট্রেন লাইন অতিক্রমের চেষ্টা চালাচ্ছেন একজন মহিলা, তার হাতে আবার একটি বাচ্চা মেয়ে এবং অন্য হাতে একটি ব্যাগ। হঠাৎ করে মহিলার হাত থেকে ব্যাগটি পড়ে যায় বা মহিলা নিজেই পড়ে যান। ততক্ষণে ঐ এম্প্লই বুঝে গিয়েছেন যে ঐ মহিলা এবং তার বাচ্চা দুইজনেই মৃত্যুর মুখে। উনি এটা সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে গেলেন বাচাঁনর জন্য। হ্যাঁ তিনি ঐ মহিলা এবং ঐ বাচ্চাকে বাচাতে পারলেও নিজে মারাত্মক আহত হন। ট্রেনের আঘাতটা যায় তার উপর দিয়ে। তার কিছুটা রক্ষা হয় কারণ তার অফিস খুব কাছেই ছিল, এবং অন্য একজন এম্প্লই তার সাথে ছিল। দ্রুত তাকে নেয়া হয় হসপিটালে।

শেষ যখন জেনেছি, তখনও ঐ লোক আইসিইউতে ছিলেন। খুব খারপ লেগেছে ঘটনাটি শুনে। আর রাগ লেগেছে যারা এইভাবে দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে রাস্তা এবং ট্রেন লাইন পার হন।

আমরা কি এতই ব্যাস্ত যে মাত্র এক মিনিটের জন্য এত বড় বড় রিস্ক নেই? রাস্তা পার হতে গিয়ে যত দুর্ঘটনা দেশে ঘটে, তার বড় একটা অংশের জন্য আসলে চালকের কিছু করার থাকে না। মানুষ মাঝে মধ্যেই রাস্তার আর্ধেক পর্যন্ত এসে আবার ফিরে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে চালকই এত লক্ষ করেন না। ইচ্ছামত লেন পরিবর্তন, এবং ইচ্ছামত চালানোর জন্য কোন শাস্তি এখানে হয় না। আবার কোন চালক তার ভূলে কাউতে হত্যা করে ফেললও তার সুষ্ঠ বিচার হয় না। (মিশুক-মনিরের ঘটনাটা মনে পড়ে যায়।)

ঢাকায় প্রায় রাস্তায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার আমরা করিনা। আমি নিজে একা থাকলে সব সময়ই ব্যবহার করি। কিন্তু এটা নিয়ে বিপত্তি বাধেঁ যখন বন্ধু বান্ধব সাথে থাকে। সবাই নিচ দিয়েই যেতে চায়, কেউ কষ্ট করে উপরে উঠতে চায় না। কিন্তু কেউ এটা বুঝতে চায় না যে সারাজীবন ফুটওভারব্রীজে উঠে যেই কষ্ট হবার কথা, তার থেকে বেশি কষ্ট হবে একটা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলে।

তার উপর আবার দেশে যথাযথভাবে জেব্রাক্রসের ব্যবহার নাই। আমরা কি পারিনা আর একটু সচেতন হতে?

আসেন আমরা সচেতন হই।

যদিও ছোট্ট ঘটনা - ১ , ছোট্ট ঘটনা - ২ , ছোট্ট ঘটনা - ৩ (প্রভা - এবং আমার বন্ধু এবং আমরা) , ছোট্ট ঘটনা - ৪ এবং ছোট্ট ঘটনা - ৫ এর সাথে এর সাথে ছোট্ট ঘটনা - ৬ এর কোনই মিল নাই, তবুও লিংক দিলাম।
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×