আমরা সবাই নিজেকে সচেতন হিসাবে দাবী করি। কিন্তু কাজে-কর্মে প্রমান করি যে আমরা সচেতন না। আবার যারা আছেন সচেতন, তারা কিছু দাবী করেন না, কিন্তু কাজে প্রমান করেন নিজের সচেতনতা। আবার আমার মত কিছু মানুষ আছে, যারা দাবীও করে, সাথে মোটামোটি চেষ্টা করে তার সচেতনতা প্রমাণ করতে।
যারা রাস্তায় গাড়ি ড্রাই করেন তারা খুব হরহামেশাই মানুষের সচেতনতার লেভেল দেখতে পান। জোরে গাড়ী আসছে, কোন বিকার নাই। আস্তে আস্তে রাস্তা পার হচ্ছে কেউ। হর্ণ বাজাবেন, তাতেও সরবে না।
এই মাত্র একটা পোষ্ট পড়লাম ব্লগার মুনসী১৬১২ এর ব্লগ থেকে। টাইটেল ছিল, কবে আমরা সচেতন হব । লেখাটা পড়ে মনে হল আমার এই ঘটনাটা শেয়ার করা দরকার। কারণ এই ঘটনা প্রায় সময়ই আমরা ঘটিয়ে থাকি।
মূল কথায় আসি। কয়েকদিন আগে একজন ক্লায়েন্ট কে তার ওয়েব সাইটটি বুঝিয়ে দিতে তার অফিসে যাই সন্ধার কিছুটা পরে। যাবার আগেই তাকে ফোন করে রেখেছিলাম যাতে সমস্যা না হয়। কিন্তু যাবার পরে দেখি তার অফিসে তালা ঝুলছে। যেহেতু তার কম্পানি কলসেন্টারের কাজ করে, তার অফিস রাত্রে কোন ভাবেই বন্ধ থাকার কথা না (রবিবার রাত্রে বাদে)। একটু অবাক হতেই হল। ফোন দিলাম তাকে। ফোন রিসিভ করেন না। কয়েকবার চেষ্টার পর তার অফিসের একজন এম্প্লইকে ফোন দিলাম, সেও ফোন রিসিভ করে না। কিছু সময় অপেক্ষা করে যখন চলে আসব ভাবছিলাম, তখনই তার এম্প্লই ফোন দিল। তারপর যা শুনলাম তা মর্মান্তিক।
ঐ অফিসের একজন এম্প্লই মহাখালি রেল ক্রসিংএ ঐ অফিসেরই আর একজন এম্প্লইর সাথে অপেক্ষা করছিল, ট্রেন আসছে। বেশ অনেক মানুষ রেলগেট আটকে দেবার পরও দৌড়ে দৌড়ে পার হচ্ছিল রেল লাইন। সবাই যেন তক ব্যাস্ত। একমিনিট অপেক্ষা করলেই যেন জীবন শেষ। ট্রেন খুব কাছে চলে এসেছে, এর মধ্যে ঐ এম্প্লই লক্ষ করল যে ট্রেন লাইন অতিক্রমের চেষ্টা চালাচ্ছেন একজন মহিলা, তার হাতে আবার একটি বাচ্চা মেয়ে এবং অন্য হাতে একটি ব্যাগ। হঠাৎ করে মহিলার হাত থেকে ব্যাগটি পড়ে যায় বা মহিলা নিজেই পড়ে যান। ততক্ষণে ঐ এম্প্লই বুঝে গিয়েছেন যে ঐ মহিলা এবং তার বাচ্চা দুইজনেই মৃত্যুর মুখে। উনি এটা সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে গেলেন বাচাঁনর জন্য। হ্যাঁ তিনি ঐ মহিলা এবং ঐ বাচ্চাকে বাচাতে পারলেও নিজে মারাত্মক আহত হন। ট্রেনের আঘাতটা যায় তার উপর দিয়ে। তার কিছুটা রক্ষা হয় কারণ তার অফিস খুব কাছেই ছিল, এবং অন্য একজন এম্প্লই তার সাথে ছিল। দ্রুত তাকে নেয়া হয় হসপিটালে।
শেষ যখন জেনেছি, তখনও ঐ লোক আইসিইউতে ছিলেন। খুব খারপ লেগেছে ঘটনাটি শুনে। আর রাগ লেগেছে যারা এইভাবে দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে রাস্তা এবং ট্রেন লাইন পার হন।
আমরা কি এতই ব্যাস্ত যে মাত্র এক মিনিটের জন্য এত বড় বড় রিস্ক নেই? রাস্তা পার হতে গিয়ে যত দুর্ঘটনা দেশে ঘটে, তার বড় একটা অংশের জন্য আসলে চালকের কিছু করার থাকে না। মানুষ মাঝে মধ্যেই রাস্তার আর্ধেক পর্যন্ত এসে আবার ফিরে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে চালকই এত লক্ষ করেন না। ইচ্ছামত লেন পরিবর্তন, এবং ইচ্ছামত চালানোর জন্য কোন শাস্তি এখানে হয় না। আবার কোন চালক তার ভূলে কাউতে হত্যা করে ফেললও তার সুষ্ঠ বিচার হয় না। (মিশুক-মনিরের ঘটনাটা মনে পড়ে যায়।)
ঢাকায় প্রায় রাস্তায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার আমরা করিনা। আমি নিজে একা থাকলে সব সময়ই ব্যবহার করি। কিন্তু এটা নিয়ে বিপত্তি বাধেঁ যখন বন্ধু বান্ধব সাথে থাকে। সবাই নিচ দিয়েই যেতে চায়, কেউ কষ্ট করে উপরে উঠতে চায় না। কিন্তু কেউ এটা বুঝতে চায় না যে সারাজীবন ফুটওভারব্রীজে উঠে যেই কষ্ট হবার কথা, তার থেকে বেশি কষ্ট হবে একটা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলে।
তার উপর আবার দেশে যথাযথভাবে জেব্রাক্রসের ব্যবহার নাই। আমরা কি পারিনা আর একটু সচেতন হতে?
আসেন আমরা সচেতন হই।
যদিও ছোট্ট ঘটনা - ১ , ছোট্ট ঘটনা - ২ , ছোট্ট ঘটনা - ৩ (প্রভা - এবং আমার বন্ধু এবং আমরা) , ছোট্ট ঘটনা - ৪ এবং ছোট্ট ঘটনা - ৫ এর সাথে এর সাথে ছোট্ট ঘটনা - ৬ এর কোনই মিল নাই, তবুও লিংক দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



