somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাদককে না বলতে শিখুন

৩০ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৮:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল কোন কিশোর কিংবা তরুণকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি মাদকাসক্ত কিভাবে হলে? মোটামুটি ৮০ শতাংশেরই উত্তর হবে, ‘বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে হয়েছি’। অর্থাৎ, নিজেদের দোষটা তারা কোনভাবেই নিজেদের ওপর নিতে রাজি নয়। ভাবখানা এমন, আমি তো খেতেই চাইনি। ওরা জোর করে মুখের ভেতর পুরে দিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে একদম পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়েছে।
স্কুল লাইফ থেকেই অসংখ্যবার মাদক গ্রহণ করার নিমন্ত্রণ(!) পেয়েছি। তখনকার সময় যেহেতু ইয়াবা ছিল না, তাই গাঁজা, ফেনিসিডিল কিংবা নিদেনপক্ষে সিগারেটে একটা টান দেওয়ার জন্য কতই না সাধাসাধি করতো ক্লাসের অনেক ছেলেরা। আমি কিন্তু একবারের জন্যও সেগুলো ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করিনি।
এরপর কলেজে ওঠার পর যখন স্বাধীনতার মাত্রা আরেকটু বেড়ে গেল।তখন মাদক গ্রহণের আমন্ত্রণও কয়েক ধাপ বেড়ে গেল।আমার খুবই কাছের এক বন্ধু প্রতি বৃহস্পতিবারেই আমাকে বারে নিয়ে যেতে চাইত, কিন্তু সেখানেও আমি নিজেকে সংযত রাখতে পেরেছিলাম।
এরপরে আসলো পুরোপুরি মুক্ত, স্বাধীন ভার্সিটি জীবন। হলে আমার যে বাকি তিনজন রুমমেট ছিল তাদের মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলত, কে কত দামের হার্ডড্রিঙ্ক কিনতে পারে এবং খাওয়া শেষে যার যার টেবিলের নিচে স্বীয় অর্জনের(!) প্রমাণ স্বরূপ সাজিয়ে রাখত। আর গাঁজা, সিগারেট?? পুরো রুম ধোঁয়াতে আচ্ছন্ন হয়ে গেলেও তারা নির্বিকার থাকত।এখানেও আমি আল্লাহ্‌র রহমতে নিজেকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হই।
এত কিছু বলার মূল উদ্দেশ্য হল, বন্ধুবান্ধব আপনাকে মাদক গ্রহণের জন্য ডাকতেই পারে। আপনি তাতে সাড়া দিবেন কিনা, সেটা পুরোটাই আপনার ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভর করে। হতাশা কাটাতে কিংবা আধুনিকতার জোয়ারে নিজেকে মানিয়ে চলতে চাই বলে মাদক নিতে হবে, এসব ভণিতা একটু ছাড়ুন। ক্ষণিকের উত্তেজনাকে প্রাধান্য না দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সুখের কথা ভাবুন। আরে ভাই, অন্যের দোষ দিয়ে নিজের জীবনটা নষ্ট করে লাভ কি?? একবার চলে গেলে তো হারিয়েই ফেললেন জীবনটাকে। ১৬-১৭ বয়সে জাতি আপনাকে শিশু ভাবলেও পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্যতা কিন্তু আপনার কয়েক বছর আগেই এসে গেছে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×