ল্যাম্পোস্টকে জড়িয়ে বলি- ডার্লিং !!!!
ওপরের লাইনদুটো উচ্চাংগের আধুনিক কবিতা, যা মুক্তছন্দে লেখা। এটি মুক্তছন্দে লেখা হলেও কিন্তু ছন্দোবদ্ধ দু'টি লাইন। এখানে ছন্দ আছে কিন্তু অন্তমিল নেই। অল্পকথায় এই হলো মুক্তছন্দের বৈশিষ্ট্য ।
''মনের কথাগুলো বলেছেন। ছন্দ ছাড়া যদি কবিতা হয়, তাহলে পৃথিবীতে প্রেয়সীকে লক্ষ্য করে লিখা ভালবাসার সব চিঠিই পদ্য কবিতা।''
গভীর রাতে তোমাকে স্মরণে আতকে উঠি। হারিয়ে যাই তোমার ভালবাসার অচিনপুরে। যেখানে শুধু আমি আর তুমি।
এ চিঠিটিই বর্তমানে পদ্য কবিতা। শুধু মাত্র প্রত্যেকটি লাইনকে আলাদা করে দেয়া।
এসব কবিতা কোন ভাল আবৃত্তিকারকে দিয়ে ঢং করে না পড়ালে মজা নেই। কাজেই যারা এ আবৃত্তি জানেনা, তাদের কাছে এসব কবিতার কোন রস নেই।
আমার লেখা পড়ে ওপরের এমন মন্তব্যই করেছেন একজন পাঠক।
তার সাথে আমি আংশিক একমত পোষণ করি। আসলেই ছন্দোবদ্ধ চিঠিও হতে পারে মুক্তছন্দের আধুনিক কবিতা। তার কোটেড চিটির লাইন দুটোও ছন্দোবদ্ধভাবে রচিত, যাকে কবিতার লাইন বলা যায়। ছন্দ তৈরি করতে চাইলে গদ্যের বাক্যগঠন আর পদ্য বা কবিতার বাক্যগঠন ও শব্দচয়নের সুস্পষ্ট কিছু ফারাক বুঝতে হবে। কবিতায় থাকবে উপমা-উৎপ্রেক্ষাসহ আরো অনেক কিছু।
কবিতার ভাষা কখনোই গদ্যের আদলে হবেনা। কারণ গদ্য গদ্যই আর পদ্য পদ্যই। গদ্যে কোনো ছন্দ থাকেনা কিন্তু পদ্যের ছন্দই আসল রস ও আকর্ষণ। যেমন উদাহরণস্বরূপ তা হবে- গভীর রাতে তোমাকে স্মরণে আঁতকে উঠি। হারিয়ে যাই তোমার ভালবাসার অচিনপুরে। যেখানে শুধু আমি আর তুমি।
ওপরের লাইন দুটো বাক্য ও শব্দগঠন প্রক্রিয়ায় ছন্দের সাথে উপমাও সৃষ্টি করেছে কিছুটা হলেও। ছন্দ মুলতঃ দেখা যায়না কিন্তু অনুভব করা যায়, যা মনকে দোলা দেয় আন্দোলিত করে। তবে একটা কথা স্মরণ রাখা দরকার যে, একজন ভালো কবির সব লেখাই যে মানোত্তী্র্ণ হবে এমন কথা কথা নেই। মেশিনের ছাচের জিনিসেও মাঝে মাঝে এদিক-সেদিক হয়। আর মানুষের লেখায় এমন গড়মিল হওয়াই স্বাভাবিক। তাই দেখা যায়, অনেক সময় নামকরা কবির লেখাও কখনো দুর্বল ছন্দের হয়ে যায়।
নিচে আমার একটা মুক্তছন্দের কবিতা দিলাম---দেখুন--
আমার নামটাও ভুলে যাই
আজকাল কেনো যেনো হয় বড্ড মতিভ্রম
নিজেকেও আর বিশ্বাস হয়না আমার
কিংবা মনে হয়না কোনো জ্বলজ্যান্ত মানুষ;
কী আশ্চর্য, আমার অনিন্দ্য-সুন্দর নামটাও ভুলে যাই
এমনকি ভুলি চৌদ্দপুরুষেরও সুণাম
হঠাৎ বনে যাই যখন জাতি-ধর্মবিমুখ এক ভাষাহীন!
আমার বিবেকের সকল তন্ত্রী ছিঁড়ে যায়--
হৃদয়কন্দরে বাজে নিষিদ্ধসুর
আয়নায় দাঁড়ালেই দেখি নিজেকে দাঁতাল
হায়েনার মতোন হয়ে গেছি ভীষণ ভয়ংকর জীব?
তখন আমি খুবলে খুবলে খাই কোমল শরীর
বিষাক্ত লালায় ঝলসে যায় কতো নন্দিত মুখ।
আবার কেটে গেলে ভ্রম, খোলে বিবেকের দ্বার---
সত্যি, আমি কি মানুষ, কেনো এমন হয়ে যাই!!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



