somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহীদ কবির ও তার শিল্পকর্ম ।। সাম্প্রতিক প্রদর্শনীর আলোচনা ও শিল্পকর্মের ছবি

০৬ ই মে, ২০১৪ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহীদ কবির তার ৪৪ বছরের শিল্পচর্চার জীবনে রিয়ালিজম কে পরিত্যাগ করেননি এবং কৃপণতা ও নিচুতাকে আশ্রয় করে শিল্পে বিনিয়োগ করেননি । একটি মাটির খোরায় ডাল ,ভাতসহ সেই টেম্পারা স্টাইলে । একজন ইউরোপীয় শিল্পীর করা সুপের বাটি দেখে সন্মোহিত শহিদ কবির খুজে পেলেন “আমাদেরও ডালের খোরা আছে”। তো ডালের খোরা আঁকতে গিয়ে আসল হলুদ মরিচের গুড়ো ব্যাবহার করলেন তার পেইন্টিংএ । সুপের বাটির দুঃখ প্রশমিত হল , হাসলেন বিজয়ের হাসি । তার অঙ্কন শৈলীর এই ছোপ ছোপ মার্কা কেয়ারলেস স্টাইলের এক অদ্ভুত ধারনা আমায় প্রচণ্ড আকৃষ্ট করল । ৮০ তে করা এগ টেম্পারা স্টাইল আর এই ধারা একইরকম তবে ক্ষিপ্রতা , দুরন্ত চলাফেরায় ভীষণ পরিপক্কতা এসে ভর করেছে।মাটির বহনযোগ্য উনুনের উপর গরীবের নোংরা ট্যাঁপ খাওয়া অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলে ফেনা গড়িয়ে পড়ছে । এই অনুভুতি কিন্তু কখনো আমার মাথায় ঢোকেনি। আগুনের যে শিখা , কি তার রঙ আর বৈচিত্র্যপূর্ণ উপস্থাপনা । বিদেশ বিভূঁইয়ে দীর্ঘবাসী হলে কারো কারো দেশজ মোটিফ এর উপর মায়া পড়ে যায় , অনেকেই মায়কি অধিকাংশই স্কেপটিকাল হয়ে আধুনিক হয়ে যান । কবির দেশ ও জনপদকে ভালোবেসে এবার অনেক ছবি একেছেন । বৃক্ষ নাশ রোধে ফুলের ডাটিকে প্রতিক করে মর্গের টেবিলে শুইয়ে রেখেছেন, টেবিলের নিচ অপঘাতে রক্তাক্ত , তাজা রক্তের বহমানতা । ইটের ভাটায় পরিবেশ দূষণ , অবিন্যাস্ত লাল মৃত্তিকার সড়ক ভীষণ বৃষ্টিতে নরম হয়ে গরুর গাড়ির চাকায় ডেবে লাল,কালচে, হলদে পলিমাটির নানা রঙে সেজে তুড়ি দিয়ে কবিরের ক্যানভাসে আশ্রয় পেয়েছে ,আদৃত হয়েছে । এই রকম মাটির জীবনে এবড়ো থেবড়ো পেড়ি কাদা মাটিতে এতো রঙের খেলা দেখিনি , কবির আমায় দেখতে শেখালেন রঙ দেখার গোপন কৌশল । আসলেই শিল্পকলা তো নিজস্ব অন্তঃচক্ষু দিয়ে অনুভব আর দেখে নেবার এক বর্ণনাহীন কৌশল । তবে স্পেনে থাকতে যেসব সুগার লিফটিং পদ্ধতিতে ছাপাই চিত্রমালায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তার স্বরূপ আর মুল গ্যালারিতে দেশে গত চার বছর করা শিল্পকর্মের দন্ধ প্রচুর । দুই ধারার পাণ্ডিত্যে আমি অভিভূত । সব ক্ষেত্রে প্রায়শই শিল্পী হিপোক্রেট হন আপন বলয়ের প্রকাশে । তারা একটি স্বতন্ত্র ধারা বিনির্মাণে পরিশ্রম করেন অহর্নিশি । একবার হিপক্রেসিতে ধরে গেলে আর খোলশ ছেড়ে বেরুতে চান না । আপনি যদি কিবরিয়ার কথা ধরেন তাহলে বলব তার তৈরি খোলশ একটি ইউনিভার্সাল থিম হয়ে দাঁড়িয়েছিল অতএব পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভুত হয়নি ।শহীদ কবির কিবরিয়াকে গুরু মানতেন এবং এখনও মানেন কিন্তু কিবরিয়ার উল্লেখযোগ্য কোন বিষয় আশয় কে আত্তীকরণ করেননি বা সরাসরি অনুসরন যাকে বলা যায় তাও করেননি , তবুও আমাদের অনেকের(অসংখ্য) মত শহীদ কবির কিবরিয়াকে হৃদয় ও মননে ধারন করেন । আমার নিজস্ব ভাষায় “স্কুল অফ কিবরিয়া” । একটি সাময়িকী আমার এই শব্দগুলিকে সেন্সর করেছিল, বড় ব্যাথা পেয়েছিলাম । পিকাসো তার ইউরোপীয় গুরু । ৮০র ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো লম্বা চুলের কবির তার কেশগুচ্ছ খুইয়েছেন ইউরোপ গিয়ে অতঃপর গুরুর মত নিট অ্যান্ড ক্লিন টাক মাথা। প্রথম জীবনে এগ টেম্পারা স্টাইলে লালন কে উপজীব্য করে শহীদ কবিরের সৃষ্টিশীল ছবির চর্চা শুরু । নিজেকে অভিহিত করতেন “রঙ মিস্ত্রি” বলে । লালন সাইকে নিয়ে অনেক ছবি একেছেন । নিজেকে আধুনিক বাউল বেশে সাজিয়ে চলাফেরা করতেন । আমরা বেশকিছু সাগরেদও জুটে গেলাম। ৭৮ সালে কুমিল্লা গেলাম পুরো ক্লাশ মিলে । বিকেলে শালবন বিহারের পাশে শাল গাছের নিচে দোতারা বাজিয়ে গান বাজনা ।
একসময় লালনের কিছু দর্শন তত্বের সাথে দন্ধ শুরু হল , লালন থিম থেকে কিছুটা সরে এলেন । সরকারি চাকরি ছেড়ে ইউরোপ গেলেন নতুন জগত দেখার ইচ্ছা নিয়ে । স্পেনে থিতু হলেন ।
শহীদ কবির জীবনমুখী শিল্পী ।জীবনের তাবৎ রঙকে ক্যানভাসে আটকে নিজেও আনন্দ পান এবং অন্যদেরও আনন্দ দেন । ক্রমশ ৭০ এর দিকে ধাবমান কবির এখনও সুঠাম ও কর্মঠ । আমার প্রথম শিক্ষক শহীদ কবির যেন আজীবন এই রঙ আর মননের ভাণ্ডারকে ধরে রাখেন ।




ছবিঃশাহ আজিজ




























[img|http://cms.somewhereinblog.net/ciu/image/187001/small/?token_id=353f0129e85f1d9d59db59007cf0a290














সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:৪১
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×